somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিরমানী লিটন
সময়ের ব্যবধানে বেজে বেজে চলে, সূর্য চাঁদ সবচেয়ে- দূরতম শব্দের মাস্তল, যেন কোন অজ্ঞাত নিবাস থেকে ছুটে আসি।পরিচিত শ্টেশন এলেই তুৃমি দেখাও নিশান- আমি উঠে পড়ি...

গল্পটা খুব- সত্যি.....

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
দোলন বাচ্চা ছেলে। জীবনে প্রথম ইমেইল একাউন্ট খুলতে বসেছে; কম্পিউটার তাকে পাসওয়ার্ড লিখতে বললে সে সরল বিশ্বাসে লিখল nunu. কম্পিউটার সাথে সাথে রিপ্লাই দিল 'your password is too short'! ছোট্ট দোলন টেনশনে পড়ে গেল। ভাবতে লাগল- এরা জানলো ক্যামনে?!

আমাদের অনেক অফিসার আর নেতার সরল বিশ্বাসে বলা কথা ও কাজের অডিও, ভিডিও প্রকাশিত হয়ে গেলে- তারাও টেনশনে পড়ে যায় আর ভাবতে থাকে, এরা জানলো ক্যামনে?!

২.
সদ্য বুয়েট থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ার চাকরীর ইন্টারভিউ দিয়ে বেশ ফুরফুরা মেজাজে এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেল।
সেই বন্ধু জিগাইলো, "তোর আজ ইন্টারভিউ ছিল না, কেমন হইলো?"
- "আর কইসনা দোস্ত, একটা রুমে ঢুকলাম, দেখলাম একজন কালো লেদারের চেয়ারে বসে পা টেবিলের উপরে তুলে রাখছে। আমারে তার ল্যাপটপটা দেখাইয়া কয়, ওটা বাইরে নিয়ে যাও, তারপরে আবার ভিতরে ঢুকে ল্যাপটপটা আমার কাছে বিক্রির চেষ্টা করো।"
- "কস কি? তারপর.."
- "বেটা নিজেরে বিশাল কিছু মনে করছে। সেইরাম ভাব।"
- "তারপর তুই কি করলি?"
- "আমি ঐখান থেকে ল্যাপটপ নিয়ে চইলা আসলাম।"
- "চইলা আসলি মানে কি? তারপর?"
- "তিরিশ মিনিট পরে বেটা আমারে কল কইরা কাইন্দা দিলো। বললো ল্যাপটপ ফিরায়া দেবার জন্য। ঐখানে নাকি ওর সব প্রয়োজনীয় ফাইল-পত্র, ছবি সব আছে। পুরাই কান্নাকাটি।
- " তারপর..."
- "তারপর আর কি" আমি বললাম, "ল্যাপটপটা কিনবা এখন?"
বেটা কইল বাবা তোমার চাকরি ফাইনাল।


৩.
গ্রামে ভ্যাসেকটমি ক্যাম্প শুরু হয়েছে। এক যুবক এলো ভ্যাসেকটমি করাতে। ডাক্তার তাকে জিজ্ঞাসা করলো:
তোমার কয়জন সন্তান?
যুবক: আমিতো এখনো বিয়েই করিনি!
ডা: তাহলে ভ্যাসেকটমি করতে চাচ্ছ কেন?
যুবক: ডাক্তার সাহেব, দু:খের কথা কি বলব, এই গ্রামের সবাই ইতোমধ্যে ভ্যাসেকটমি করিয়ে ফেলেছে, এখন কারো বাচ্চার জন্ম হলেই সবাই আমাকে মারতে আসে, এইজন্য ভ্যাসেকটমি করাতে চাই!!!!

৪.
রামু যে বাসায় কাজ করে, সেই বাসার মালিকের হুইস্কির বোতল থেকে দু/এক পেগ চুরি করে খায়, আবার ততটাই জল মিশিয়ে রেখে দেয়।
মালিকের সন্দেহ হত কিন্তু কিছু বলত না।
কিন্তু যখন এটা রোজ হতে লাগল তখন একদিন ড্রইং রুমে বউয়ের সাথে বসে চিৎকার করে রামুকে ডাকল, " রামউউ.....উউ!!"
রামু তখন রান্না ঘরে রান্না করছিল। রামু উত্তর দিল, "হাঁ মালিক!"
মালিক জিজ্ঞাসা করল, "আমার হুইস্কির বোতল থেকে হুইস্কি খেয়ে জল মিশিয়ে কে রাখে?"
রান্না ঘর থেকে কোন উত্তর এল না.....
মালিক আবার চিৎকার করে একই প্রশ্ন করল.....
কোন উত্তর নেই. ..
মালিক রেগে রান্না ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, "এসব কি হচ্ছে? আমি যখন তোর নাম ধরে ডাকছি তখন উত্তর দিচ্ছিস, আর যখন কিছু জিজ্ঞাসা করছি তখন উত্তর দিচ্ছিস না... কেন ?"
রামু, "মালিক, রান্না ঘর থেকে শুধু নাম শোনা যায়, আর কিছু শোনা যায় না..."
মালিক, "চুপ মিথ্যেবাদী, এরকম আবার হয় নাকি? তুই ড্রইং রুমে যা, মালকিনের কাছে বস, ওখান থেকে আমাকে প্রশ্ন কর, আমি কিচেন থেকে উত্তর দিচ্ছি...!!"
রামু ড্রইংরুমে গিয়ে মালকিনের পাশে বসে আওয়াজ দিল, "মালিক.."
মালিক (কিচেন থেকে), "বল রামু...."
রামু, "ঘরের কাজের মেয়েকে মোবাইল কে কিনে দিয়েছে?"
কোন উত্তর নেই. .....
আবার প্রশ্ন করল, "সেদিন যে দেখলাম কাকে যে পাশে বসিয়ে খুব গদগদ হয়ে ড্রাইভিং করা হচ্ছিল। কে ছিল সাথে?"
কোন উত্তর নেই. ....
মালিক কিচেন থেকে দৌড়ে এসে বলল, "তুই ঠিক বলেছিস তো। কিচেন থেকে শুধু নামটাই শোনা যায়, আর কিছু শোনা যায় না!!!"
ক্ষমতার চেয়ারটা রান্নাঘরের মতো। এখানে একবার বসতে পারলে চোখে শুধু ধইঞ্চার ফুল দেখা যায়। কারো কান্না না, কারো দু:খ না, কিছু না। শোনা যায়, যেটুকু শোনা দরকার......
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

color of life, color of justice

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৪৩






color of life, color of justice
- thakurmahmud


sometimes blue, sometimes white
sometimes black, even red, even golden !
you know me very well, that's who am i ?
dear son, yes - its... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-৮)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৬



আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-৭)

ডাকো মোরে, বলো প্রিয়, বলো প্রিয়তম
কুন্তল-আকুল মুখ বক্ষে রাখি মম

মে মাসের মাঝামাঝি একদিন খবর পাওয়া গেল, আমাদের গ্রাম থেকে ছয় ক্রোশ দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভৌতিক গল্পঃ অ-স্পর্শ (তৃতীয় পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৮



ঘটনার ধারাবাহিকতার জন্য পড়ে আসুনঃ
ভৌতিক গল্পঃ অ-স্পর্শ (দ্বিতীয় পর্ব)
ভৌতিক গল্পঃ অ-স্পর্শ (প্রথম পর্ব)

...........রুপা জ্ঞান হারিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ার আগে শেষবারের মতো দেখল ওর লম্বা চুলের ঝুটি ধরে ওকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাবি আন্দোলন- বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সরকারী বরাদ্দ বন্ধ করে দেবার প্রধানমন্ত্রীর হুমকি....

লিখেছেন কিরমানী লিটন, ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০




আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে সরকার কি কারো উত্তরাধিকার? কারো পৈতৃক সম্পত্তি? কারো বংশানুবাদ? সরকার কি বিত্ত- বৈভবের উৎপাদক কোন লাভজনক প্রতিষ্ঠান?... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ছুঁবার আশায়

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩১



হৃদয় কোষের প্রতিটি সাইটোপ্লাজম
শ্লোগানে শ্লোগানে মিছিলে শামিল
মিছিলের নেতৃত্বে মাইটোকন্ড্রিয়া
প্লাস্টিডেরা ব্যানার হাতে এগিয়ে চলছে সদর্পে
একটাই দাবী, একটাই চাওয়া
মেলানিন বিহীন তোমার হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী ছুঁবে।

অনাদায় থেকে গেলে দাবী-দাওয়া
জলকামান আর রাবার বুলেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×