somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্য প্রেম (উপন্যাস) পৃষ্টা ৭-৯

২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অনিল... ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন হলেও বড়লোকের ধার ধারি না। বড়লোকদের হাবভাব আমি বুঝি না, আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়।’
নুরি... ‘দোয়া করি, তোমার মন সোনাচড়ুইর মত চনচনে হোক। তুমি সুখি হও। সুখিনী তোমার সঙ্গিনী হোক।’
অনিল... ‘আমি কিচ্ছু বলিনি। খালি খাইখাই আর হাঁইহুই। কাজের কাজ কিচ্ছু হয় না। কপালে লেখা থাকলে না চাইলেও সুখিত হতে হয়।’
নুরি... ‘আমি বিশ্বাস করি, শত্রু চিনতে পারলে মানুষ বিশ্বস্ত হয়।’
অনিল… ‘মানুষ অকৃতজ্ঞ এবং বিশ্বাসঘাতক, বিধায় খুব সহজে শয়তান মানুষকে সর্বস্বান্ত করে।’
নুরি... ‘চিন্তায় ফেললে। পিপড়া দেখে কি ভয় পাও? আমি পিপড়া ডরাই। ওরা আমার চেয়ে অনেক সেয়ানা।’
অনিল... ‘একটা খুন হয়েছিল। লেখক তখন লিখছিলেন। তা উনি বলেছিলেন। জানালা খুলা ছিল। রক্তাক্ত চাকু চুলার পারে। পাকঘরে কেউ কখনো প্রবেশ করেনি। পুলিস উনাকে প্রশ্ন করেছিল, আপনি কখন চা বানিয়েছেন? উত্তরে লেখক বলেছিলেন, এই তো একটু আগে।’
নুরি... ‘ইয়া আল্লাহ, এই লোকটাকে সত্য উপলব্দির শক্তি দাও। এতে তার মনের সব দুঃখ কষ্ট সিক্ত হবে নোনা জলে।’
অনিল... ‘সেই অনেক আগে আমি একবার বল্কলধারী সন্ন্যাসী দেখে বিত্রস্ত হয়ে মত বদলিয়েছিলাম। এখন আবার সন্ন্যাসী মার্কা চিন্তায় চিন্তিত হয়েছি। পূণ্যস্নানে পাপমোচন হয় কি না জানি না তবে বনাচরী নিষাধ হলে নির্ঘাত বাঘের ভোজন হব।’
‘আমার হাত ধরো, পলকে স্বর্গে নিয়ে যাব।’
‘তোর সংসর্গে স্বর্গে যাব না। মারামারি কামড়াকামড়ি আমি ডরাই।’ বলে অনিল মাথা নাড়লে নুরি বিচলিত হয়ে বলল, ‘আশমানে দিয়েছি ভাসাই মন মাঝির নাও, আশার ঢেউয়ে দোলে দোলে নিরাশা হয়েছে কালবৈশাখী বাও।’
অনিল... ‘দক্ষরা কখনো বিফল হয় না। জ্ঞান এবং দক্ষতা আমাদেরকে স্বর্গে নিয়ে যাবে। তবে সত্যের পথে চলতে হবে। আমি বনবাসে যেতে চাই। কালাপানিতে আর যাব না। কালাপানির অনেক গল্প শুনেছিলাম। আমি এখন আর ছোট্ট ছেলে নই। জল আমাকে গিলে খাবে না। আমি সাঁতরাতে পারি। নিরাপত্তার জন্য জংলায় যেতে চাই। হিংস্র জীবরা আমার বন্ধু। ওরা আল্লাহর গজব ডরায়। মানুষ তা তোয়াক্কা করে না। আমি গরিব, দোয়া ছাড়া আর কিচ্ছু তোকে দিতে পারব না।’
নুরি... ‘আমি অন্ধ হয়েছি। আঁধলা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। অমাবস্যায় মরা গাঙে নাও বাইতে যাই না। কটালে ডুবার আশংকা আছে। বিবেক যে আত্মহত্যা করেছে তা দেখার জন্য কেন যে ত্রিসন্ধ্যায় পারঘাটে গিয়েছিলাম? তবে কি আলাই আমাকে ডেকেছিল? হয়তো।’
অনিল... ‘ভূতের ভয়ে ত্রস্ত হয়ে সড়িষার স্তূপে বসে সাধনা করেছি। মারধর করলেও ভূতরা আমার ধারেপাশে আসবে না।’
নুরি... ‘আমি এমন বান্ধব চাই যার সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করব, অলস সময়ে গল্প করব এবং অসহায় সময়ে সাহায্য চাইব, সেই বান্ধব কি হবে?’
অনিল... ‘আমি তোর বান্ধব হলে বান্দররা আমাকে দৌড়াবে।’
নুরি... ‘এই সত্য হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে শামুকের মত হয়েছি। আমি জানি আজকাল বাতাসেও খাজনা চায়। সবার জীবনে যথেষ্ট কষ্ট আছে। একটু শান্তির জন্য আমরা মনের দোয়ার খুলি। আবেগ এবং দূর্বলতাকে যারা ব্যবহার করে তাদেরকে সত্যি ঘৃণা করি।’
অনিল... ‘আমি একাই আমার কবরে থাকব, বিধায় মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে ভয় পাই না। সত্য নিশ্বাসের মত, অবিশ্বাস করা যায় না।’
নুরি... ‘অনেকে মনে করে কেউ কিছু দেখে না। সমস্যা হলো কানারাও অনেক কিছু দেখে। অনেকের মত আমরাও হয়েছি। একে অন্যকে সাহায্য না করে বিশেষ শক্তি অথবা অন্যের পিছে দৌড়ি। আমি আবার একা হতে চাই।’
অনিল... ‘সহজ বাংলা এবং সরল সংজ্ঞায় গূঢ়ৈষণার গূঢ়তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় শব্দের অর্থ আলুথালু হয়। মানে বাক স্বাধীনতা।’
নুরি... ‘ও বন্ধু গো! আম খাইও জাম খাইও, কাঁঠাল খাইও না, কাঁঠাল খাইলে আঁটা লাগব, গরমের দিন শান্তি পাইবে না।’
অনিল... ‘অস্তোদয়। আক্ষরিক আকর্ষণ। আকৃষ্যমাণ এবং অন্যাকর্ষণে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি! ইস্পাতের ইস্তিরি ইস্তামালের ইস্তাহার দেওয়ার পর থেকে ইলিশকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।’
নুরি... ‘শিয়ালরা নেকড়ে দেখলে চিল্লায় এবং মানুষ দেখলে দৌড়ায়। মজার বিষয় বেমজা হলে মেজবানরা মুখ ফিরায়।’
অনিল... ‘পৃথিবীতে চালাক বেশি, বিধায় বোকা মানুষের অভাব। আমি বোকাদের দলে যোগ দেব, এতে অন্য বোকারা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারবে, তাদের দলে অন্তত বোকা একটা আছে।’
নুরি... ‘বাক্য এবং ভাষায় ভদ্রতার পরিচয় মিলে। আমরা সবাই ভদ্র। তা আমরা বলি। তারপরেও বাক্যে সমস্যা হয় কেন? হায়! আমি কি তাইলে দুষ্প্রবেশ্য পাগলা-গারদে প্রবেশ করেছি?’
অনিল... ‘মাঝে মাঝে মন খুব খারাপ হয়, আড্ডাবাজদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য ছোটকালে হারিয়ে যেতে চাই। সমস্যা হলো, বড় হলে আর ছোট হওয়া যায় না।’
নুরি... ‘ঠকা খাওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষ চিনা যায় না।’
অনিল... ‘লাভে লোভে আলু-থালু হলেও লোকসান কেউ চায় না।’
নুরি... ‘বেসুরো বাঁশি বাজিয়ে বেসুরো গান গায় অসুরে, বাঁশ বাগানে ভূতরা নাচে। মাঘের অমাবস্যায় আয়নায় মুখ দেখার জন্য বাঁশের পাতায় আগুন জ্বেলেছি। পূর্ণিমার রাত বেসুরে বাজলে বাঁশের ঝাড়ে আগুন জ্বালাব, উদাসীর বাঁশিরে রাত নিশায় উদাস করলে আমারে।’
অনিল... ‘কষ্টে উৎকৃষ্ট হয় অতিষ্টে নিকৃষ্ট। কাঁচা আমে কামড় মেরে মন হয় তুষ্ট।’
নুরি... ‘সাতসাগর সাঁতরিয়ে তীক্ষ্ণায়সে সাঁতারুর মুত্যু হয়েছিল। নিশ্চয় ইষ্টি-কুটুমরা তার অনিষ্টকামনা করেছিল?’
অনিল... ‘বরাবর বারোটায় ঠাঠা পড়বে। আমি আর আগ বাড়তে পাব না। ভূতের বান্ধবি পেতনীর ভর ঘাড়ে পড়বে।’
নুরি... ‘আজকাল ছাগল একটা ভয়ঙ্কর জীব হয়েছে এবং কিছু লিখতে পারলেই মহালেখক হওয়া যায়।’
অনিল... ‘আসলে কী হয়েছে, আমি একটু ভার মানুষ তো তাই হয়তো কথা ভারী হয়। প্রামাণিক না হলেও সত্য, বাঁওড় এবং ভাঁড়ের অর্থ জেনে আমি ভারি এবং ভারী নিয়ে কেঁড়েলি করি।’
নুরি... ‘ও গো বাতাস বন্ধু! আমাকে বরণ করো। তোমাকে বিয়ে করে বরয়িতা হতে চাই।’
অনিল... ‘বাতাসে ভাব থাকে। বাতাস গিলে ভাবুক হলে মনের ভাব প্রকাশ হয়। সমস্যা হলো আমার মতো অভাবী লোক চাইলেও ভাবুক হতে পারে না। অভাবে ভিবোর অভাবী ভাবুকের জন্য অভাব্য অভিবাদনের প্রত্যভিবাদন হলো সানন্দে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।’
নুরি... ‘ভয়াবেগে বেগার্ত হয়ে বোড়া সাপের মাথায় পাড়া মারলে পাপ হয় না, লেজে পাড়া মারলে সর্বনাশ হয়।’

প্রথম প্রকোশ ২০/১২/২০১৭
Copyright © 2017 by Mohammed abdulhaque
ISBN-13: 978-1982087326
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৪৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×