somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কবি আকাশ
কথা বলার মাধ্যমে কাছে আসা যায় । হৃদয় দিয়ে সবকিছু যারা বিচার করেন তাদের এই পৃথিবী বুদ্ধিহীন বলতে পারে তবে তারাই কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর ভাবে নির্মলতার সহীত এই পৃথিবীতে জীবন যাপন করে । কথা বলে কাছে আ

ক্লাস টু’তের প্রেম

১৮ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাস শুরুর প্রথম দিক থেকেই আনিকা মেয়েটাকে আমার খুব ভালো লেগে যায় । এমন ফর্সা ও কিউটি মেয়ে পুরো স্কুল জুড়ে যে একটিও ছিলনা তা আমি হলফ করে বলে দিতে পারি । চাশ্মীশ এই কিউটিটাকে দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায় । তবে আনিকা আমার চেয়ে বেশ লম্বা ছিল । সম্ভবত বয়সে আনিকা আমার চেয়ে বড় হবে । আনিকাই আমার স্কুল জীবনের প্রথম ক্রাশ ছিল ।
মেয়েটাকে নানান ভাবে আমার অনূভূতির কথা জানাতে চেষ্টা করেছি , কিন্তু তার থেকে তেমন কোন সাড়া শব্দই পাইনি । ম্যাডাম যখন বোর্ডে দুষ্টু ছাত্র-ছাত্রদীরে নাম লিখতে দিত তখন অতি কৌশলে আনিকার নামটি এড়িয়ে যেতাম ।
তবুও মেয়েটার মাঝে কোন প্রকার ভাবের পরিবর্তন দেখতাম না ।
যাই হোক , একদিন টিফিন বিরতিতে ক্লাসের সকল ছাত্র-ছাত্রী বাইরে গেল । ক্লাসে তখন আমি আর আনিকা ।আনিকাকে একদম একা পেয়ে আমার বুকটা ধুকপুক করছিল । বারে বারে আড়চোখে আনিকার দিকে তাকাচ্ছিলাম । কিন্তু কিছু্ই মুখ ফুটে বলতে পারছিলাম না ।
সহসা বিধি মুখ তুলে তাকালো আমার দিকে । আনিকা আমাদের ইশারা করে ডাক দিল ।
আর পত্রপাট আমিও এগিয়ে গেলাম ।
-কিছু বলবা ?
এ্যাই , পুচকে তুই আমারে তুমি করে বলছিস ক্যান ? আপনি করে বল ? আমি তোর অনেক বড় ।
আনিকার কথা শুনে আমি তো পুরাই টাস্কি খেলাম । । কী বলব বুঝে বুঝে উঠতে পারছিলাম না । আনিকাই নিরবতাই ভাঙ্গলো ।
--এ্যাই শোন , এই নে- , আমার টিফিন বক্সটা ধুয়ে আন । ভাল করে ঘষে-মেজে ধুয়ে আনবি কিন্তু ।
কী বলে মেয়েটা ? শেষ পর্যন্ত আমাকে দিয়ে তার টিফিন বক্স মাজাবে । তবে তখন তার মুখের উপর আর মানা করতে পারলাম না । সুবোধ বালকের মত ভাল করে গায়ের শার্ট ভিজিয়ে টিফিন বক্সটা ধুয়ে এনে দিলাম ।
এর পর থেকে আমি আর আনিকার দিকে ফিরেও তাকাইনা ।
তো এমন করে বহু দিন চলতে লাগল । আমি আনিকাকে এক প্রকার এড়িয়েই চলছি ।
হঠাৎ একদিন আনিকা নিজের থেকেই ডাক দিল ।
--এ্যাই , পুচকে এদিকে আয়তো ,
আমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম ।
একদম কাছে গিয়ে বলা শুরু করলাম , ,
--ইয়ে মানে , আনিকা আপু , আমার আজকে খুব ঠান্ডা , জ্বর ও মাথাব্যাথা । আপনার টিফিন বক্সটা আজ কষ্ট করে আপনি ই ধুয়ে নিয়েন ।
আমার কথা শুনে , আনিকা বলে উঠে ,
--আরে নাহ্ , তোকে আজ আর কষ্ট করে টিফিন বক্স ধুতে হবেনা । শোন , তুই আগে খালি আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতিস কেন ? সত্যি কথা বলবি কিন্তু ,
আনিকার কথা শুনে আমি একটু ভয় মত পেলাম । তবে এতটুকু বুঝেছি আনিকা সম্ভবত আন্দাজ করতে পেরেছি । তো এতদিন বাদে যখন সুযোগ পেলাম , তখন আর তাকে হাতছাড়া করছিনা ।
আজকে আনিকাকে মনের কথা জানিয়ে দিতেই হবে ।
--ইয়ে মানে , আপনাকে আমার খুব পছন্দ । আমি আমার “ইয়ে” হবেন ।
আনিকা তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করল , ইয়ে মানে কী ?
--আমি এবার লজ্জ্বা-শরম ভুলে বলেই ফেললাম, মানে প্রেমিকা আরকী ।
কথাটা বলেই আনিকার মুখ পাণে তাকিয়ে থাকলাম , কেমন প্রতিক্রিয়া হয় দেখতে । যদি অনাকাংখিত কিছু হয , তা এড়াবার জন্যও আমি প্রস্তুত ।এককথায় , সোজা দৌড় লাগাবো ।
যাই হোক ,
আনিকা আমার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বললো ,
--ছেলেটা দেখি খুব ইচড়েপাকা হয়েছে । তা এতটুকু যখন জানিস , তখনতো এও জানার কথা ,
প্রপোজ করতে গেলে , ফুল দিয়ে করতে হয় । তো আমার ফুল কই ?
আনিকার কথা শুনে , এতক্ষনের হালকা হার্টবির্টটা বেড়ে
ত্রিগুন হয়ে গেল ।
কী ঘটতে যাচ্ছে , বুঝতে উঠতে মিলি সেকেন্ডের মত সময় নিলাম । বললাম ,
--তুমি প্লিজ দাড়াও আমি এক্ষুনি তোমার জন্য একটা গোলাপ নিয়ে আসছি । প্লিজ একটু ওয়েট করো ।
ক্লাস থেকে বেরিয়ে এক দৌড়ে স্কুল গেইট পার হয়ে পাশের একটি বাড়ির ফুলের বাগানে ঢুকে পড়লাম ।
কিন্তু বিধিবাম । আমি ফুল চুড়ি অপরাধে ধরা পড়ে গেলাম । বাড়ির মালিকটি স্কুলের হেডমিসট্রেস কে নালিশ জানালো । আমায় অনেকগুলো বেত মারা হল । এবং সেই সংগে গার্ডিয়ান কল তো ছিলই । তারপর কী হয়েছিল শুনতে চান ?
আনিকা সাফ সাফ জানিয়ে দিলো , ফুল চোর ছেলের সাথে সে আর প্রেম করবেনা ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:০৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×