somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সঞ্চয় মোঃ হেলাল হোসেন (আমার লেখা ছোট গল্প সবাই পড়বেন আশা করি)

১২ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার লেখা ছোট গল্প সবাই পড়বেন আশা করি
সঞ্চয়
মোঃ হেলাল হোসেন
করিম মিয়া একজন গরিব কৃষক তার তেমন বেশি জমিজমা নেই। নিজের যেটুকু আছে আর অন্যের ক্ষেতে কাজ করে কোন মতে তার সংসার চলে, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে, ছেলের নাম মিন্টু মিয়া আর মেয়ের নাম আছিয়া, তারা পড়ালেখা করে ,মিন্টু মিয়া ক্লাস ফোরে পড়ে আর্ আছিয়া ক্লাস ওয়ানে পড়ে, করিমের অর্থের অভাব থাকলেও সংসারে সুখের অভাব নেই, সে যেহেতু নিজে লেখাপড়া জানে না তাই তার সন্তানদের সে পড়ালেখা শিখাতে চায়, সে জানে লেখাপড়া করাতে অনেক টাকা খরচ হবে, তার নিজের বলতে তেমন সম্পদ নেই, তার সম্বল বলতে তার দেহখানা, সে যদি সুস্থ থাকে তো কাজকাম করে টাকা পয়সা রোজগার করতে পারবে, একবার প্রচুর বৃষ্টি হল, টানা প্রায় পনের দিন, এখন একটু থামেতো খানিক পরে আবার শুরু , কোন কাজকাম নেই চারিদিকে শুধু পানি আর পানি ক্ষেতখামার সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে তার মাঠে পাকা ধান ছিল আর মাত্র কয়েকদিন গেলে কাটতে পারতো তা সব শেষ, এখন কাজ বলতে মাছ ধরা, সকলের পুকুর পানিতে ছয়লাব তাই মাছের অভাব নেই, সে জাল নিয়ে মাছ ধরতে গেল মাছও পেল প্রচুর , ঘরে চাউল নেই সে ভাবলো মাছগুলো বাজারে বিক্রি করে বাজার সদাই করবে কিন্তু মাছের বাজারে এসে তার চক্ষু চড়কগাছ, শুধু বিক্রেতা আছে ক্রেতা নেই কে কিনবে কার মাছ, বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে সে কোন ক্রেতা পেল না তাই বাড়ি ফিরল, সে বউকে বলল কোন দিন বাচ্ছাদের ভাল মত মাছ খেতে দিতে পারি না সব রান্না কর আজ সবাই মিলে বেশি করে মাছ খাব, তার বউ বলল মাছ কি শুধু খাবে ? ঘরে কোন চাইল নাই তেল মসলা নাই রাধব কি করে, করিম মিয়া বলল আমি মোড়ল সাহেবের কাছে যাচ্ছি দেখি কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা, করিমের আসতে দেরি দেখে তার বউ অর্ধেক মাছ একজনকে দিয়ে তেল মসলা নিয়ে এসে মাছ রাধলো, করিম খালি হাতে বাড়ি ফিরে বলল, সে কোন টাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি এখন যে কাউকে মহাজোন টাকা সুদে দিচ্ছে না, আর সুদও খুব চড়া, সে বউকে বলল কোন উপায় করতে পারলাম না যদি সুদে টাকা নেই তো ভিটে মাটি বিক্রি করতে হবে এখন ভরসা হালের বলদ, আমি বেঁচে থাকতে আমার বাচ্ছাদের না খেয়ে মরতে দিব না, আমি হালের বলদ বিক্রি করে দিব, যদি বেঁচে থাকি তো আবার কিনবো, মিন্টু তার বাবার কথা সব শুনলো, সে জানে তার বাবা যদি হালের বলদ বিক্রি করে তাহলে তার বাবাকে আবার হাল টানতে হবে, আগে তাদের একটি হালের বলদ ছিল তখন একটি বলদ একপাশে আর অন্যপাশে তার বাবা হাল টানতো তার মা লাঙ্গল ধরে রাখতো এটা দেখে মিন্টুর খুব কষ্ট লাগতো, কিছু দিন আগে তার মায়ের কানের দুল বিক্রি করে তারা আর একটি বলদ কিনেছে, এখন আবার অভাবের জন্য সেটা বিক্রি করতে হবে, মিন্টু সেই সময় থেকে কিছু কিছু করে টাকা জমাতো .সে মিঠাই কেনা টাকা তার মাটির ব্যাংকে জমাতো কোন দিন মিঠাই খেত না বাজার করার কিছু টাকা বাবার কাছ থেকে নেওয়া টাকা সে এতদিন জমিয়েছে আজ তার বাবা বলদটিকে গোসল করিয়ে সুন্দর করে সিংএ তেল দিয়ে বাজারে নিয়ে যাবার জন্য তৈরি করেছে, মিন্টু তার বাবাকে বলল বাবা তুমি গরু বিক্রি করবে কেন? তার বাবা বলল কি করব আর কোন উপায় নেই ঘরে খাবার নেই তাই বিক্রি করবো, সে বলল তাহলে তো তোমার আবার অনেক কষ্ট হবে তোমাকে আবার হাল টানতে হবে, তার বাবা বলল আমার বাবা সারা জীবন একটি বলদ দিয়ে চালিয়েছে সে পারলে আমিও পারবো আর টাকা হলে আবার কিনবো, না খেয়েতো থাকা যাবে না, মিন্টু বলল চালডাল কিনতে কত টাকা লাগবে ? তার বাবা বলল এই ধর হাজোর খানেক, মিন্টু তার মাটির ব্যাংক এনে বাবার সামনে ভাঙ্গল এবং বলল এখানে এর চেয়ে বেশি টাকা আছে, টাকা গুনে দেখা গেল এক হাজার দুই শত সতের টাকা , মিন্টুর মা বলল আজ বাজার থেকে তুমি চারটি মাটির ব্যাংক কিনে আনবে আজ থেকে আমরা সবাই সঞ্চয় করবো, মিন্টুর বাবা মিন্টু জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল আর বলল আজ তোমার সামান্যে সঞ্চয় আমার অনেক কষ্ট লাঘব করেছে আজ আমি যদি তোমার মত সারাজীবন সঞ্চয় করতাম তাহলে সংসারে অভাব হতো না, [email protected]
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×