somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই মালালা নয় শুধুই মালালা নয়!

১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম,
এক নিরীহ পাকিস্তানী বালিকা মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতি গত কয়েকদিন ধরিয়া পশ্চিমা গণ-মাধ্যমের দরদ উত্থিত হইয়া সারা দুনিয়া কা্ঁপাইয়া তুলিতেছে। তহার সহিত পশ্চিমা দুনিয়ার রাজনীতিবিদগণও যুক্ত হইয়াছেন। এখন দেখিতে পাইতেছি আমাদের দেশের গণ-মাধ্যমও পিছাইয়া নাই। পিছাইয়া থাকিবার কোনো কারণও নাই। পাকিস্তানী তালেবানদিগকে এইবার এক হাত দেখিয়া লইবার সুযোগ পাওয়া গিয়াছে। এই সুযোগ কেহই হাতছাড়া করিতে চাহিতেছে না। প্রগতিশীলতার নকমা গজাইতেছে হাটে-মাঠে-ঘাটে।
ঘটনা নিন্দার। সন্দেহ নাই। ঘটনা আতঙ্কের। অস্বীকার করিতেছি না।
কিন্তু প্রশ্ন হইতেছে এই ঘটনা কি শুধু তালেবানরাই ঘটাইতেছে?
২০০১ সাল হইতে আফগানিস্তানের উপর পশ্চিমা ন্যাটো জোটের স্থল ও বিমান হামলায় আফগান শিশু-বালক-বালিকা, যাহাদের বয়স ১৫-এর নিচে, প্রাণ হারাইয়াছে এমন সংখ্যা হইতেছে ১৩,২০০-এর অধিক। সংখ্যাটি ১ নহে, ১০০ নহে ১০০০ নহে। সংখ্যাটি তেরো হাজার।
সাদ্দামকে হটাইয়া ইরাকে গণতন্ত্রের পতাকা উড়ানো হইয়াছে। দুনিয়াবাসী ইরাকের ''গণ-বিধ্বংসী'' রাসায়নিক অস্ত্রের হাত হইতে রেহাই পাইয়াছে। ইরাকে এখন গণতন্ত্রের নহর কুলুকুলু ধ্বনিতে লোহিত সাগরের দিকে বহিয়া যাইতেছে। প্রশ্ন করি : এই গণতন্ত্রের জন্যে কতোজন ইরাকি শিশুকে প্রাণ দিতে হইয়াছে? উত্তর হইতেছে ১লক্ষেরও অধিক। কতোজন মাসুম বালক-বালিকা পিতামাতা হারাইয়া অন্ধকারে অনাহারে দিনগুজরান করিতেছে সেই হিসাব আপাতত চাহিতেছি না। একজন নহে। একশত জন নহে। এক হাজার জন নহে। দশ হাজার জন নহে। এক লক্ষ শিশু শুধু ন্যাটো-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় নিহত হইয়াছে।
দুনিয়ার বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারত। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস ভারত। সেই অহিংস ভারতের হিংস্র সৈন্যদের হাতে গত চল্লিশ বৎসরে সাত হাজারের অধিক কাশ্মীরি শিশু জীবন দিয়াছে। উহারা কেহই সন্ত্রাসবাদী নহে। তাহাদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ ছিলো না। তাহারা ভারতীয় সৈন্যগণের প্রতি একটি গুলিও বর্ষণ করে নাই। উহাদের জন্যে কাহারো কোনো ক্রন্দন নাই। উহাদের একজনাকেও বাঁচাইবার জন্য ইংল্যান্ডের হাসপাতাল তো অনেক পরের কথা স্থানীয় হাসপাতালের সামান্যতম সুযোগও পাইয়াছে বলিয়া মানবাধিকার সংস্থাগুলি দাবী করে নাই।
মালামা ইউসুফ জাইয়ের কপাল ভালো। সে ভাগ্যবতী। সৌভাগ্যবতী। তাহার চিকিত্সা হইতেছে এই দুনিয়ার অন্যতম একটি উন্নত দেশে। যাহারা সারা দুনিয়ার মানুষের রক্ত চুষিয়া সম্পদ শোষণ করিয়া এখন নিজেদিগকে সভ্য বলিয়া গর্ব করিয়া থাকে। কিন্তু ফিলিস্তিনি শিশুদের দিকে তাকাইবার কেহ নাই। উহাদের নিজের কোনো দেশ নাই। উহারা মুসলমান। এই অপরাধে আফগানিস্তান হইতে ইরাক ফিলিস্তিন হইতে কাশ্মীর---সকল দেশের শিশুরা অবহেলিত। উহারা পশ্চিমা দেশের সৈনিকদের আধুনিক সমরাস্ত্রের শিকার। উহাদের জন্য কাঁদিবার কেহ নাই।
মালালা ইউসুফজাই বাঁচিয়া উঠুক। কিন্তু সেই সাথে এই দোওয়া করি আফগানিস্তানের শিশুরা যেন বাচিতে পারে। ইরাকের শিশুরা যেন খাবার পায়। ফিলিস্তিনি শিশুরা যেন পূর্ব পুরুষের ভিটামাটিতে একিদন ফিরিয়া যাইতে পারে। উহাদের জীবন যেন উদ্বাস্তু শিবারে অবহেলা আর অনাদরের ভিতর দিয়া সমাপ্ত না হয়। কাশ্মীরের শিশুরা যেন হাসিতে পারে।
পরম করুণাময় আমাদিগকে পশ্চিমা-সভ্যতা নামক শয়তানের হাত হইতে রেহাই দিন।
সকলে ছহি-ছালামতে থাকিবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:০৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×