somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম ক্রিকেটিয় চেতনা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম,
ডিসেম্বর মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের মাস। উহা আমাদের বিজয়ের মাস। কাহারো-কাহারো পরাজয়েরও মাস। একদিকে বিজয় অন্যদিকে পরাজয়। যাহার কারণে এই মাস আসিলেই বিজয়ী পক্ষ আর পরাজিত পক্ষ দুই দিক হইতেই সাজো সাজো রব শুনিতে পাওয়া যায়।
স্বাধীন দেশ পাওয়া একটি পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাহা আমরা পাইয়াছি। উহার জন্য পরম করুণাময়ের নিকট শুকরিয়া আদায় করি। যাহারা দেশের জন্য জীবন দিয়াছেন তাহাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
আজিকাল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বড়ো বেশি শোনা যাইতেছে। তাহা হউক উহাকে তো মন্দ বলিতে পারি না। পাকিস্তান তার কৃতকর্মের জন্য বাংলাদেশের জনগণের নিকট ক্ষমা চাহিয়া নিক সেই কথাও নানা পক্ষ হইতে উচ্চারিত হইতেছে। সেইসব উচ্চারণকেও শ্রদ্ধা জানাইতে হয়।
যাহা যাহা বলিলাম তাহার একটি কথাও নতুন নহে। উহা সবই পুরাতন কথা। তাহা হইলে জানিয়া শুনিয়া পুরাতন কথা কেন বলিতেছি? কেন শ্রদ্ধেয় ব্লগারগণের সময় নষ্ট করিতেছি?

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির বর্তমান বেহাল অবস্থার কথা দুনিয়ার সকল মানুষই জানেন। উহা কোনো গোপন বিষয় নহে। সীমান্তে যখোন তখোন ন্যাটো বাহিনি আফগান যোদ্ধাগণকে বধ করিবার নামে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া থাকে। যোদ্ধাগণের কথা না জানিলেও উহা জানা যায় যে বেসামরিক নিরীহ জনগণই তাহাতে হতাহত হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সরকার নির্বিকার। তাহাই হইবার কথা। কারণ দাস্যের খাতায় নাম লিখাইয়া প্রতিবাদ করিবার উপায় নাই।
দেশের অভ্যন্তরে প্রতিদিনই কোনো না কোনো পক্ষ বোমা ফাটাইতেছে শিয়া-সুন্নি কাটাকাটি করিতেছে মোহাজের-সিন্ধি কেহই কাহাকেও সামান্যতম ছাড় দিতে নারাজ। এমন একটা দিন যায় না যেদিন পাকিস্তানে বোমা গুলি ফাটে না।
৩.
এইসব কারণে পাকিস্তান নানাভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হইতেছে। জনগণের দুর্দশা বৃদ্ধি পাইতেছে। কিন্তু ক্ষমতায় যাহারা বসিয়া রহিয়াছেন তাহারা শুধুই ক্ষমতার খেলায় মনোযোগ দিতেছেন। দেশের কথা জনগণের কথা ভাবিবার সময় তাহাদের হয়তো নাই। পাকিস্তানের কথা পাকিস্তানের সরকার ভাবিতে থাকুক পাকিস্তানের জনগণ ভাবিতে থাকুক। আমাদের ওইসব নিয়া না ভাবিলেও চলিবে। এমনিতেই তো আমাদের নিজেদের সমস্যা অগণিত।
৪.
পাকিস্তান আর ক্রিকেট একটি সময় সমার্থক ছিলো বলিলে খুব বড়ো রকমের ভুল হইবে না। সেইসব এখন অতীত। নিউজিল্যান্ড ক্রিকটে দল ভাগ্যের সহায় কোনোমতে বাঁচিয়া গেলেও আমরা দেখিয়াছি শ্রীলংকার ক্রিকেট দল বাচিতে পারে নাই। তাহারা প্রাণে বাঁচিলেও সেই ভয়াবহ আতঙ্কের হাত হইতে বাহির হইয়া আসিতে লংকান খেলোয়াড়গণকে অনেক যুদ্ধ করিতে হইয়াছিলো। তাহার পর হইতে বিদেশি দলগুলি পাকিস্তানের মাটিতে গিয়া ক্রিকেট খেলিবার কথা ভুলিতে বসিলো। না ভুলিলে প্রাণের অনিশ্চয়তা। কাজেই উহাতে কোনো ভুল হয় নাই।
৫.
এখন কথা হইতেছে দুনিয়ার অন্য অন্য ক্রিকেট দেশগুলি যখোন পাকিস্তানের দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া নিয়াছে তখনো আমাদের দেশের কতিপয় কর্মকর্তা কেন পাকিস্তানের মৃত্যকূপে গিয়া ক্রিকেট খেলিবার জন্য মুখাইয়া রহিয়াছেন? তখন কেন ১৯৭১-এর বর্বরতার কথা তাহাদের মনে পড়িতে দেখা যায় না? কেন তখোন ক্ষমা চাইবার প্রশ্ন ওঠে না? বিজয়ের চেতনা কেন স্বার্থের চেতনার নিচে চাপা পড়িয়া যায়?
৬.
অনেকেই কহিবেন, তুমি কেন রাজনীতির সহিত খেলাকে মিশাইয়া ফেলিতেছো? ঠিক আছে মিশাইলাম না। কিন্তু এইটা তো মানিবেন যে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি তাহার নিজের নাগরিকগণকেই সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হইতেছে। যে দেশ নিজের জনগণকে সামান্যতম নিরাপত্তা দিতে বারেবারেই ব্যর্থ হইতেছে তখোন কিসের লোভে আমরা যেখানে গিয়া ক্রিকেট খেলিবার খোয়াব দেখিতেছি?
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেট খোলোয়াড়গণের জীবনের নিরাপত্তা নাই। শুধু এই একটি কারণেই আমি পাকিস্তানের মাটিতে গিয়া ক্রিকেট খেলিবার বিরোধী। এইখানে কোনো রাজনীতি নাই। সামরিক কূট-কৌশল নাই। আমি আমার দেশের জনগণের নিরাপত্তা লইয়া চিন্তিত। আমাদের ক্রিকেটারগণও আমাদের দেশের একটি অংশ। আমার এই চিন্তা যে অমূলক তাহা যদি দেশের ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তিগণ একটু শুধরাইয়া দিতেন!
সকলে ছহি-ছালামতে থাকিবেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তার সাম্প্রতিক একটি নমুনা

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×