somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবাহনামা-

১৪ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোষ্ট কেবলমাত্র বিবাহিতদের জন্যে। যুবক ও অবিবাহিত ভাইয়েরা শত হস্ত দূরে থাকুন। তবে... কথা আছে, সদ্য বিবাহিতরা পড়িতে পারেন। আপনাদের জন্যে জরুরী অবস্থা আপাতত শিথিল:-) ]

জানুয়ারির কোন এক রাত। সদ্য দেশ থেকে ফিরেছি, বিবাহ করে মোটামুটি যুদ্ধ জয়ী সেনাপতির মতন নূরানী হাসি সারাক্ষণ আমার চোখে মুখে। কারো সাথে দেখা হলেই খানিক কথাবার্তার পর পেটের মধ্যে ভুটভাট শুরু হয়ে যায়, কেবলই উশখুশ করতে থাকি কি করে নিজের বিয়ের গল্প বলা যায়। হাওয়া অনুকূল দেখলে শেষ মেষ গলা খাঁকারী দিয়ে বলেই ফেলি, ' তা শুনেছেন নাকি, কাহিনি তো একটা ঘটিয়ে ফেলেছি!' শ্রোতা তখন আগ্রহী হয়ে বলেন, তাই নাকি? কি করেছেন?
আমি তখন প্রসন্ন হাসি দিয়ে বলি, 'আর বইলেন না, বিয়ে করে ফেলছি!'
তারপরে শুরু হয় আমার প্যাচাল। এর আগে বহুবার বলে বলে আমি যেটাতে বিশাল দক্ষতা অর্জন করে বসে আছি। আমার সেই প্রাঞ্জল বর্ণনায় শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে যান, আমিও গল্প শেষে আয়েসী ভঙ্গিতে একটা ঢেকুর তুলি।

তো, তেমনি একদিন, আলাপের কেউ নেই, তাই ইয়াহু চ্যাটে লগইন করে বসে আছি, এমন সময়ে অনলাইনে এলো আমার কলেজের এক বছরের জুনিয়ার এক ছোট ভাই। ও কানাডায় থাকে, অনেকদিন ধরে, পড়ছে, প্রেম করে ইউএস এ থাকা এক মেয়ের সাথে।
আমি তো তারে দেখে মহা খুশি। নক করে নানা কথা বার্তা বললাম, তারপরে আস্তে ধীরে রসিয়ে রসিয়ে বললাম, 'তা, শুনছো নাকি? কান্ড তো একটা ঘটাইয়া ফেলছি!'
সেই ছোট ভাই আমাকে বলে, 'আপনেরটা পরে শুনমু, আমি যে একটা কান্ড ঘটাইছি সেইটা জানেন নাকি?'
আমি একটু থমকে গেলাম। আলাপটা এগোলনা! :-(
জিজ্ঞেস করলাম, 'তাই নাকি? কি করছো?'
ও অতি উৎসাহে বলে, 'আর বইলেন না ভাই, লাস্ট সামারে ইউ এস গেছিলাম, ঐখানে গিয়া তো ওরে বিয়া করে ফেলছি!'
আমি চুপসে গেলাম। বলে কি! এইটা তো দেখি আমার চেয়ে বড় কাহিনি! বললাম, 'খাইসে! গ্রেট ব্যাপার! কেমনে কি হইলো?'
ও খুব মজাসে নিজের কাহিনি বলা শুরু করলো। মেয়ের বাবা কেমন করে বাগড়া দিচ্ছিলো প্রেমে, কিন্তু কেমন করে সে মা-কে ম্যানেজ করে তাদের বাসায় হাজির হয়। অতঃপর ওখানে একা একাই পুরা ফ্যামিলিকে ম্যানেজ করে বিয়ে করে ফেলে!
আমি নিজের কাহিনি গেলাম ভুলে, ওর কাহিনি শুনে নিজেই টাসকি খেয়ে বসে আছি! বলি, 'ভাল ভাল, খুব ভাল। এখন কি অবস্থা? কেমন আছো?'
ও বলে, 'এখন কঠিন অবস্থা! খুব মজা করছি দুইজনে। ক্যান ইউ ইমাজিন ম্যান দুইজনে টানা দুই সপ্তাহ একসাথে ছিলাম! এক রুমে!'

আমি একটু গলা খাঁকারি দিলাম। ছেলে বলে কি! তারপরে আমতা আমতা করে বলি, 'না না, তাতো হবেই। বিয়ে করছো..., এখন তো একসাথেই...।'
কীয়ের কি! আমারে পাত্তাই দিলো না। এক নাগাড়ে বলতে থাকলো, 'এখন বস ভাল কইরা আপনার লাইগা দোয়া করেন!'
আমার তো জান শুকিয়ে গেলো! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ক্যান, আমি আবার কি করলাম!?'
ও মুহাহাহা টাইপ একটা ভিলেনের হাসি দিয়া কইলো, 'আরে না, আপনে কি করবেন? করছি তো আমি! এখন মনে প্রাণে দোয়া করেন এত অল্প বয়সে আপনি আবার চাচা-কাকা না হইয়া যান!'

আমি বিরাট এক ঢোঁক গিললাম। আস্তে ধীরে লিখতে থাকলাম, 'ছি ছি, তোমরা আজকালকার বৈজ্ঞানিক যুগের পোলাপান, কী সব যে বলো না... ।'
ওর উচ্ছাসের ঠেলায় আমার এইসব কথাবার্তা মেসেঞ্জারের কোন চিপায় যে হারাইয়া গেলো, পরবর্তী কয়েক দিবস-রজনীও তাহাদের খুঁজিয়া পাইলাম না!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:০৩
৪৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×