পাকিস্তান, ইরান বা আফগানিস্তানের কোন বাজারে গিয়ে আপনি যদি সাধারন মানুষকে বলেন, "আমি একজন রাজাকার", তারা আপনার পিঠে চাপড় দিয়ে সাধুবাদ জানাবে। কারন ওখানে রাজাকারের মানে "সেচ্ছাসেবক"। কিন্তু গুলিস্তানের মোড়ে আপনি যদি নিজেকে রাজাকার পরিচয় দেন, মুহুর্তের মধ্যেই আপনি কিমা হয়ে যেতে পারেন। আর তা না হলেও, অন্ততপক্ষে আপনার চেহেরার ভুগোল পরিবর্তন হয়ে যাবে, তা নিশ্চিত বলা যায়।
অথবা আপনি যদি একজন "হাসিখুসী বন্ধুবৎসল তরুন" হন, Sunnyboy হিসেবে জার্মান মেয়েদের কাছে ভালোই দাম পাবেন। কিন্তু কোন এক সাধারন ইংরেজকে এর মানে জিজ্ঞেস করলে, সে হ্যাংগ হয়ে যেতে পারে।তবে ইংরেজী ভাষার উপর ভালো ধারনা আছে এমন যে কেউ আপনাকে সোজা বলে দিবে, এটা কোনো ইংরেজী শব্দই নয়। যদিও এই জার্মান যৌগিক শব্দটি তৈরী হয়েছে দুটি ইংরেজী শব্দ দিয়ে।
আমি মনে করি বাংলাদেশের রাজনীতির পেক্ষাপটে "ধর্মনিরপেক্ষতা" এবং "সেক্যুলারিজম" - এই ধরনের দৃস্টিতে বিচার হওয়া উচিত।
সেক্যুলারিজমের বাংলা আক্ষরিক অর্থ হয় "ইহজাগতিকতা"। একটি সেক্যুলার রাস্ট্র আদর্শমোতাবেক পরকালের ব্যপারে উদাসীন থাকে এবং রাস্ট্রীয় কর্মকান্ডে পরকালীয় তথা ধর্মীয় কার্যকলাপ সচেতনভাবে পরিহার করে। অর্থাৎ একটি সেক্যুলার রাস্ট্রে ধর্ম নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু রাস্ট্র ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশ নেয় না। আরেকটু ব্যাপক ব্যাখ্যায় বলা যায়, রাস্ট্র পরিচালনায় ধর্ম প্রভাবিত করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কি উপরের ব্যাখ্যা অনুসারে সেক্যুলারিজম বুঝায়? আমার মতে, মোটেই না।
যদি আওয়ামীলীগকে বাংলাদেশে "ধর্মনিরপেক্ষতা" র সবচেয়ে বড় স্বর ধরে নেয়া হয়, তবে বলা যায়, "সকল ধর্মের সমান অধিকার এবং রাস্ট্র কর্তৃক কোন বিশেষ ধর্ম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা"। এমনকি বিএনপির "জাতীয়তাবাদী" দর্শনে একই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হয়। বাংলাদেশের আঙ্গিকে ধর্মনিরপেক্ষতায় ধর্মহীনতার কোন জায়গা নেই। এখানে রাস্ট্রীয় কাঠামোয় ধর্ম মন্ত্রালয় থাকে। রাস্ট্রীয় কর্ণধারেরা রাস্ট্রপক্ষ হয়ে সব ধর্মের ধর্মীয় অনুস্ঠানে (ঈদ, দূর্গাপুজা, বড়দিন, বৌদ্ধপূর্নিমা) অংশগ্রহন করে থাকেন। সবচেয়ে বড় কথা, এইসব কাজে রাস্ট্রীয় অনুদান থাকে। বঙ্গবন্ধুর "ইসলামি ফাউন্ডেশন"-এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশ নামের রাস্ট্রে অনুরূপ উদ্যোগ রয়েছে অন্যান্য ধর্মের জন্যও।
বাংলাদেশের পক্ষাপটে যারা "বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা" বিপক্ষে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য তীর্যক এবং তাদের পথও "সীরাতুল মুস্তাকিম" নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


