somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ছোট কাগজ কথিকা
আমি পেশায় একজন শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সংবাদকর্মী, সমাজসেবক এবং প্রযুক্তিবিদ। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে আমি বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখে থাকি।

এবং সোহাগী, এরপর…

২৩ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিবার অস্বচ্ছল, বাবা একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। দুই ভাই এক বোনের মাঝে মেয়েটি ২য়। পড়ালেখার অদম্য আকাঙ্খা দমে যায়নি, টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ যোগান দিতো। সংস্কৃতি মনা মেয়েটি একটি নাট্যদলের সদস্য। বাবা-মায়ের ইচ্ছা আর নিজের ভালো কিছু করার স্বপ্ন যদি না থাকতো তাহলে মেয়েটি দমে যেত। তার স্বপ্ন ছিলো ভালো কিছু দিয়ে সমাজ বদলের।
বলছিলাম সোহাগী জাহান তনুর কথা। বাবা ইয়ার হোসেনে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাসিন্দা। থাকতো অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায়। তনু ছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) ছাত্রী।

প্রতিদিনকার মত টিউশনিতে গিয়ে সেদিন (২০ মার্চ রোববার) আর ফিরে এলো না। ফিরে এলো তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কি বীভৎস! অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে সোহাগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিলো। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল পাশে।
ভাবা যায়- চারপাশে গোলা বারুদ ও বিদেশী অস্র দিয়ে নিরাপত্তায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টেও মানুষ খুন হয়। চলে ধর্ষণ, গলা কেটে হত্যা করে নগ্ন করে রেখে যাওয়া! আর লাশ পাওয়া যায় ক্যান্টনমেন্টের বনে! হায়রে দেশ!! হায়রে সমাজ!! হায়রে আমাদের স্বাধীনতা!!!
মনে কষ্ট লাগলেও আমাদের সমাজে এটা একটা নিত্য-নৈমত্তিক অংশ। এই নিয়তি আমাদের মেনে নিতে হয়। কেননা সমাজ থেকে এভাবে প্রতিদিন শত শত সোহাগী ধর্ষিতা হয়ে নগ্ন অবস্থায় খুন হয়ে ডোবায় কিংবা জঙ্গলে পড়ে থাকে। বিচার করার কেউ নাই। প্রহসনের এই দেশে বিচার নামক শব্দটিই আজ আকাশের চাঁদের মতো অনেক দূরে দুর্লভ বস্তু হয়ে গিয়েছে, যা আমাদের ধরা দেয় না। আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলেতো বিচার কল্পনাতীত হয়ে বসে রয়।
মেনে নিতে হয় কিছুদিন মানববন্ধন, ব্যানার-ফেস্টুন টাঙ্গানো, লেখালেখি, ঢাকঢোল পিটিয়ে একটা রব উঠা এরপর সব নিঃতেজ। এভাবে আমাদের দেখতে হয় সোহাগীদের চলে যাওয়া। দেখতে হয় ধর্ষণকারীরা ধরা পড়লেও আইনের মারপ্যাঁচে বীরদর্পে সমাজে চলাফেরা করে।
আমরা এমনই এক দেশের নাগরিক, যে দেশে হাজার হাজার সোহাগীরা প্রতিনিয়ত নিকৃষ্ট কিছু হায়েনার লোভের শিকার হয়। আর কিছু ক্ষমতাশালীর পোষা কুকুর হবার সুবাদে তারা ছাড়া পেয়ে যায়, হয়না তাদের কোনো বিচার। এর ফলস্বরূপ তারা আরো অনেক সোহাগীর সাথে এমনই করে। ধূলায় চাপা পড়ে যায় সোহাগীদের পরিবার থেকে করা মামলার ফাইলগুলো।
বাকী থাকে শুধু সোহাগীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ক্ষমা করো সোহাগী- আমরা পুরুষরা এতটা লোভী যে শুধু একটি নারীর শরীরের জন্য আমরা হিংস্র হয়ে উঠি। ভুলে যাই জাত, কূল, ধর্ম। ভুলে যাই আমিও যে কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো বাবা। শুধু একটি নারীর শরীরের জন্য।
সোহাগীর হত্যা- কারা এই দুর্বৃত্ত? কি তাদের পরিচয়? কার কাছে বিচার চাইবো? বিচারহীনতার সংস্কৃতির এই দেশে বিচার কি কখনো হবে? নাকি প্রতিনিয়ত গুনতে হবে আরো সোহাগীর লাশ?
- See more at: Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×