বিয়ের পরে ঘনঘন বাড়ী যাবার জন্য বউয়ের মন আকুলি-বিকুলি করতে থাকে। সবসময় মনে হয় ডাঙায় তোলা কই মাছ। মোবাইলের উপরে ভরসা করে বাড়ী গিয়েছে। শীতকাল। অনেক রাত পর্যন্ত কথা বলে কখন ঘুমিয়েছি আর কোথায় মোবাইল রেখেছি মনে থাকে না। সকালে উঠে তন্ন তন্ন করে লেপ-কাঁথা, বালিশ খুঁজে আর মোবাইলের দেখা পেলাম না। অফিসের মোবাইলটা দিয়ে ফোন করলাম, রিংটোন শুনে খুঁজে বের করার চেষ্টা। কিন্তু ফোন ওদিকে একজন রিসিভ করলো। আমি অবাক। বেশ রাগত স্বরে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? আমার মোবাইল আপনার কাছে কেন? অন্যপ্রান্তের লোকটি খ্যা খ্যা করে হেসে উঠল। বললো, আমি চোর! রাত্রে আপনার জানালা দিয়ে মোবাইলটা চুরি করেছি! একজন জলজ্যান্ত চোরের সাথে কথা বলার সৌভাগ্যে আমি মোবাইলের দুঃখ ভুলে গেলাম। রসিয়ে রসিয়ে বললাম, তা ভাই, এমন দুঃসাহসিক কর্মটা কিভাবে সারলেন? সে বললো, অনেকদিনের প্রাকটিস ভাই! কোন লাভ নাই বুঝতে পেরে, সিমটা ফেরত দেবার অনুরোধ জানিয়ে ফোন রেখে দেই।
আমার স্ত্রী শুনে ভীষণ ক্ষেপে যায়। ফোন করে আমার নাম্বারে। চোর সে ফোন রিসিভ করলে আমার বউ ইচ্ছেমত তাকে গালাগালি করে। কিছুক্ষণ পরে দেখি চোর ব্যাটা আমাকে ফোন করেছে, বলে - আপনার বউ আমাকে হেভী গালাগালি করেছে, ভেবেছিলাম, সিমটা ফেরত দেব, কিন্তু এখন আর দেব না! বাড়ী, গাড়ী তো নেই নাই, একটা মোবাইলই তো!
অগত্যা মোবাইল চুরি হওয়াতে বিগড়ানো মেজাজ নিয়ে অফিসে যাচ্ছি। পথিমধ্যে মোবাইলে রিং বেজে ওঠে। রং নাম্বার। একজন ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করল, রব ভাই আছে! আমি উত্তর দেই, ও আচ্ছা, তাহলে তার নাম রব! থাকবে কেমনে বলেন? আমি তো চোর! গতরাতে তার বাসার জানালা দিয়ে মোবাইলটা অনেক কষ্টে চুরি করে নিয়ে এসেছি!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


