somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল চুরির সাইড এফেক্ট

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিয়ের পরে ঘনঘন বাড়ী যাবার জন্য বউয়ের মন আকুলি-বিকুলি করতে থাকে। সবসময় মনে হয় ডাঙায় তোলা কই মাছ। মোবাইলের উপরে ভরসা করে বাড়ী গিয়েছে। শীতকাল। অনেক রাত পর্যন্ত কথা বলে কখন ঘুমিয়েছি আর কোথায় মোবাইল রেখেছি মনে থাকে না। সকালে উঠে তন্ন তন্ন করে লেপ-কাঁথা, বালিশ খুঁজে আর মোবাইলের দেখা পেলাম না। অফিসের মোবাইলটা দিয়ে ফোন করলাম, রিংটোন শুনে খুঁজে বের করার চেষ্টা। কিন্তু ফোন ওদিকে একজন রিসিভ করলো। আমি অবাক। বেশ রাগত স্বরে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? আমার মোবাইল আপনার কাছে কেন? অন্যপ্রান্তের লোকটি খ্যা খ্যা করে হেসে উঠল। বললো, আমি চোর! রাত্রে আপনার জানালা দিয়ে মোবাইলটা চুরি করেছি! একজন জলজ্যান্ত চোরের সাথে কথা বলার সৌভাগ্যে আমি মোবাইলের দুঃখ ভুলে গেলাম। রসিয়ে রসিয়ে বললাম, তা ভাই, এমন দুঃসাহসিক কর্মটা কিভাবে সারলেন? সে বললো, অনেকদিনের প্রাকটিস ভাই! কোন লাভ নাই বুঝতে পেরে, সিমটা ফেরত দেবার অনুরোধ জানিয়ে ফোন রেখে দেই।

আমার স্ত্রী শুনে ভীষণ ক্ষেপে যায়। ফোন করে আমার নাম্বারে। চোর সে ফোন রিসিভ করলে আমার বউ ইচ্ছেমত তাকে গালাগালি করে। কিছুক্ষণ পরে দেখি চোর ব্যাটা আমাকে ফোন করেছে, বলে - আপনার বউ আমাকে হেভী গালাগালি করেছে, ভেবেছিলাম, সিমটা ফেরত দেব, কিন্তু এখন আর দেব না! বাড়ী, গাড়ী তো নেই নাই, একটা মোবাইলই তো!

অগত্যা মোবাইল চুরি হওয়াতে বিগড়ানো মেজাজ নিয়ে অফিসে যাচ্ছি। পথিমধ্যে মোবাইলে রিং বেজে ওঠে। রং নাম্বার। একজন ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করল, রব ভাই আছে! আমি উত্তর দেই, ও আচ্ছা, তাহলে তার নাম রব! থাকবে কেমনে বলেন? আমি তো চোর! গতরাতে তার বাসার জানালা দিয়ে মোবাইলটা অনেক কষ্টে চুরি করে নিয়ে এসেছি!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×