গতকাল যখন আমাদের গল্প হচ্ছিল, কাজ হচ্ছিল
আর উড়ছিল চায়ের ধোয়া, শরৎ তখন জানতে চাইলো
বাকীবি্লল্লাহর জন্মতারিখ, কাকতলীয় ভাবে জিজ্ঞাসাটা
ঠিক আগের দিন হওয়াতে গরম ভাপা পিঠার মত
মচমচে শুভেচ্ছা জানাতে আমি তৈরী হলাম!
বাকী জানালো এই দিনে দলের কর্মী মরেছিল বলে
হত্যাকারীদের ক্ষোভ জানিয়ে সারাদিন কালো ব্যাজ পরে
জন্মদিনের আনন্দ করা হয়ে ওঠে না, নিরীহ কথা, শান্ত কথা
আমার তো অন্য বিভ্রাট মনে না থাকলেও
বিশেষভাবে স্মরণ করি কাছের বন্ধুদের
বউ, বাবা-মাকে, হয়তো অচিরেই বাচ্চাকাচ্চারও উৎসব হবে
তবে কেমন একটা ব্যাথা ঠিকই চিনচিনিয়ে ওঠে,
জন্মের সাথে আরেকগুচ্ছ মৃতু্যর যোগসূত্রে বাকীকে বড় উঁচু লাগে
এরপরে, সাম্রাজ্যবাদ আর জংগীবাদ নিয়ে কথা হয়
ব্লগের লেখালেখি নিয়ে বই বের করার কাজে ক্লান্ত হই
শেলটেক মার্কেট থেকে হেঁটে আজিজের অন্তরাতে,
হাপুস হুপুস বৈকালিক লাঞ্চ সারি
তারপরে আজিজের ফুটপথে ম্যারাথন আড্ডা
তারপরে যার যার মত বাসায়!
অতপরঃ যথানিয়মে আমি ভুলে যাই
প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠা বাকীর জন্মদিনের কথা
বইয়ের জন্ম-রহস্য বানাতে বানাতে
ভুলে যাই স্কন্ধে হাযারো সবল জন্ম দিবসের স্বপ্ন নিয়ে ঘোরা বাকীকে,
সেদিন বলছিল কৃষি নির্ভর শিল্প ধ্বংষের কথা
দেশকে মৌলিক গঠন চেনা তার প্রতিটি যুক্তি আর বোধের মিলনে
আমি বড়ই যুক্তিহীন, আবেগে চলা মুর্খ,
ভাবি মানুষকে কেন বাঁচানোর স্বপ্ন দেখাতেই হবে?
আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, হতাশ হই, বলি না কাউকে,
নিজের মাঝে মরে থাকে স্বপ্ন
কিন্তু বাকী ঠিকই এগিয়ে চলে, ২৬, ২৭, ২৭, ২৮, ২৯
এভাবে হয়তো আমার ৩৩ ছোঁবে
আমি হবো ক্রমশ বধির, কখনই পারবো না ছুঁতে বাকীর স্বপ্নকে
প্রতিটি বছর শেষে সে পরিণত হবে
আর তাকে ছুঁইতে আমার আরেকবার জন্মাতে হবে!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







