সালাম আমতা আমতা করে। আহসান ভ্রু কুচকে তাকায়। তার মনে হতে থাকে ছেলেটি আসলে নেহায়েতই অশক্ত, দূর্বল এক ক্ষয়িষ্ণু পেটানো শরীরের অধিকারী মাত্র। সময়ের সাথে সাথে তার এই চমৎকার বডি ফিটনেস শেষ হয়ে যাবে। আহসানের ঘরে বাবূর্চি হিসাবে কাজ করতে করতেই শেষ হবে তার যৌবন, আর কোন ভবিষ্যত নেই। মানসিক জোরহীন কোন শারিরীক দৃঢ়তা আসলে যুৎসই হয় না। ছেলেটির সেটা নেই। অন্যদিকে তিনি মেদভুরির জঞ্জালে কুৎসিত হয়ে ওঠা ভল্লক হলেও তার পেটানো ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠা তার শারিরীক আপাত এই কদর্যতা ও দৌর্বল্যকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি নিজের আসল পেটানো অবস্থানকে দেখতে থাকেন অন্তর্চোখে। বাইরে তার কয়েকটা রঙ্গলীলা, সেখানে কতক্ষণ তিনি বীর্য ধরে রাখতে পারেন তা নিয়ে কারো বক্রোক্তি নেই, তিনি সামলান বিক্রমে, তার মাথার উপরে মংগলের আলিংগণ, কিন্তু সালামের কি সেসব আছে! হাসিতে ভরে ওঠে তার চোখের নিচে উচু হয়ে থাকা থলথলে গালে, চোয়ালের নিচের বাড়তি থলিতে। তিনি টিভিতে মনযোগী হন। নাটক চলে চ্যানেল ওয়ানে। নাটকের ভেতরে ঢুকে যান।
তনু-সায়খ উভয় উভয়ের জান। কিন্তু ইদানিং তনু আরেকটা ছেলের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সায়খকে জানাতেই একদম চুপ মেরে গেল। ভেতরে তার প্রলয় চলে। এ কি করে সম্ভব! তনু একটা ছিনাল! না, ভুল হলো, হতেই পারে এমন, কিন্তু পরক্ষণেই, না, তনু একটা বেশ্যা! এমন ভাবনায় সায়খ অসহায় হয়ে পড়ে। তার নিজের ভালোবাসার ডিমান্ড যতটুকু ভালোবাসা কুক্ষিগত করতে চায় তনুর, সেখানে অংশীদারিত্ব দেখে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এটা তার ভালোবাসার চরম পরীক্ষা, এটা তার ভালোবাসার মানবীর চরম অধঃপতন - এমনও ভাবতে থাকে। তনু বলে, কি হলো! আমি কি করবো বলো, ছেলেটিকে দেখে আমার ভালো লাগে, প্রথম প্রথম তোমাকে দেখে যেমন লাগতো, এখন এ ছেলেটিকে দেখেও আমার তেমন হয়! সায়খের সমস্ত শরীর কেপে ওঠে আশংকায়, নিজের আসন গুড়িয়ে যেতে দেখে চোখের সামনে। তার ফর্সা গাল লাল হতে থাকে, চোখের ভ্রু ঝুলে থাকে, কানের মধ্যে শো শো আওয়াজ, সর্দি বেরিয়ে যায় খানিক, অনবরত কাপতে থাকে ডান বুকের এক খন্ড মাংশপিন্ড।
আহসান নিজের বুকে হাত দিয়ে দেখেন, সেটাও কাপছে। প্রতিদিন তার প্রতি স্ত্রীর যৌন অনাগ্রহের অভিযোগ শুনতে শুনতে তিনি সালামকে নিয়ে হঠাৎ ভাবিত হয়ে পড়েন। কে কার চেয়ে কতটুকু ভালনারেবল বোঝার চেষ্টা করেন! আজকে তার বিসদৃশ শরীরের বিকর্ষণে তার রুপবতী স্ত্রীকে পেটানো শরীর আকৃষ্ট করে তবে তিনি তা সহ্য করবেন কিভাবে! তিনি এবার গম্ভীর হয়ে যান। সালামকে পা টিপতে বলে ভাবেন ব্যাটার পেট থেকে অন্য কথা বের করতে হবে, আবার জিজ্ঞেস করেন, কি হলো তোর, সারাদিন খালি খাসই! কোন কাজ করিস না!
সালাম এবার সাহস সঞ্চয় করে বলে, সাব, আমি তো সারাদিনই কাজ করি। রান্না করি, বাজারে যাই, কাপড়চোপর ধুই! মনে মনে বলে, শেফালীরাতো কোন কাজ করে না, কেন যে এদের রেখেছে, তার মাথায় ঢোকে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



