somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭৫৩২১ .... কি লিখতেছি জানিনা। গল্প নাকি অন্যকিছু। তবে নাম দিলাম ৭৫৩২১...

২২ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম থেকে উঠেই বুঝলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হইছে। কেমন কেমন যেন লাগছে। মনে হচ্ছে মাথাটা কেউ খামচি দিয়ে ধরে রাখছে। চোখ পিটপিট করে কাহিনী বুঝার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম জ্বর আসছে। ধ্যাত, দুইদিন পর পর জ্বর আসে কেন! আসলে ভালো কিছু আয়না বাপ!

বিছানা ছেড়ে পিসির দিকে হাত বাড়ালাম। স্ট্যান্ডবাই হয়ে গেছে। রাতে না অফ করেই ঘুমাই গেছিলাম। এই জিনিসটা প্রায়ই হয়। আজ আর পিসিতে বসতে ইচ্ছে করছে না। অফ করে দিলাম। ঠিক করে ফেললাম আজ ঘুরতে বের হব।

মুখ ধুয়ে গত বৈশাখের পাঞ্জাবীটা পরে বের হলাম। কোথায় যাওয়া যায় ভাবছি। একা ঘুরতে গেলে এই একটা সমস্যা। গন্তব্য ঠিক করতে হয়। দুইজনে এই সমস্যা নেই। একদিকে যাত্রা শুরু করলেই হয়। আর যদি এর বেশি হয় তাহলেতো আরো ঝামেলা। কই যাবে ঠিক করতেই বিশাল ক্যাচাল। নাহ, ভার্সিটির দিকেই যাই। অনেক দিন যাওয়া হয় না। অনেক নতুন নতুন মুখ আসছে এখন ভার্সিটিতে। দেখতে ভালোই লাগার কথা। নতুন সবসময় ভালো লাগে। বিশাল ধ্বংসস্তূপের দিকেও মানুষ কিছুক্ষণের ভালোলাগা নিয়ে তাকিয়ে থাকে। এটা মানুষের এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য। হাটা ধরলাম ভার্সিটির পথে। আজ আর গাড়িতে উঠবো না। যান্ত্রিকতা মুক্ত থাকতে ইচ্ছে করতেছে।

বর্তমান গন্তব্য ঠিক করতে পেরে ভালোই লাগছে। ১০টাকার বাদাম কিনলাম। আগেও কোথাও একা যাওয়ার সময় বাদাম কিনে খেতাম। এখনও কিনি। জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, কিন্তু বাদাম এখনও টিকে আছে। মানুষ ঘর থেকে বের হলেই তার গন্তব্য ঠিক করে ফেলে। দিনশেষে কাজ করে কোথায় ফিরবে ঠিক করে ফেলে সে। যাদের ঘর নাই, রাস্তায় থাকে তারাও গন্তব্য ঠিক করে। তারা রাস্তায় যে জায়গায় থাকে সবসময় সে জায়গায় থাকতে চায়। এটা তাদের এক অলিখিত মালিকানা বলা যায়। সারাদিন এখানে ওখানে টইটই করে শেষে সেই একই জায়গায় এসেই ঘুমবে বউ বাচ্চা নিয়ে।

নাস্তাটা করা দরকার। কিন্তু কোন ইচ্ছে হচ্ছে না। রাস্তায় দেখি একটা জটলা। উঁকিঝুঁকি মেরে কিছুক্ষণ দেখার চেষ্টা করলাম। এলাকার পোলাপানদের সাথে আর এক ছেলের মারামারি। পাশে দেখি একটা মেয়ে দাড়াই আছে। মেয়েটা এলাকার না বাইরের ঠিক বুঝলাম না। সমাজে বিনোদনের বড়ই অভাব। এমন বিনোদন দেখলেই সবাই দাড়াই যায়। বিনে পয়সায় নাটক সিনেমা দেখে নেয়। আমি কিছুক্ষণ দেখলাম। তেমন কিছু না বুঝে ক্ষান্ত দিলাম।

মাথা ব্যথাটা আরও বাড়তেছে। পাশের একটা ছোট্ট টঙে বসে চা,বিস্কিট খেলাম। বিস্কিট আবার আমার খুব ভালো লাগে। এই জিনিসটাকেও কেন জানি ছাড়তে পারি না। বিস্কিট খেতে খেতে দুইটা জ্ঞান লাভ করলাম।

১. তুমি যতই গন্তব্য ঠিক করনা কেন, আসল গন্তব্য উপরওয়ালা ঠিক করে রাখছেন।
২. আজ কালকার পোলাপান আমও বুঝেনা জাম ও বুঝেনা, বুঝে শুধু মাইয়া।

কিছুক্ষণ চেষ্টা করে মাইয়া কাহিনী বুঝলাম। রাস্তায় জটলার কাহিনীও বুঝলাম। ভালো গোলাম হোসেন কাহিনী শুনা ভালো, শুনতে ভালোই লাগে।

গন্তব্য পরিবর্তন করবো কিনা ভাবতেছি। ভার্সিটি পর্যন্ত আর হেটে যেতে ইচ্ছে করছে না। ওখানেও সব আজ কালকের যুগের পোলাপান। তার থেকে সলিম মিয়ারে দেখে আসি। তার খুপরি কাছেই।

সলিম মিয়া আমার থেকে ৫-৬ বছরের বড় হবে। ভিক্ষা করে খায়। আগে রিক্সা চালাইত। অ্যাকসিডেন্টে এক পা কাটা যায়। একবার তার পিচ্চি মেয়ের অনেক সখ হইছিলো আইসক্রিম খাওয়ার। বাবার লুঙ্গি ধরে কান্নাকাটি। বাবা আর কি করবে অসহায় চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাপ মেয়েরে আইসক্রিম কিনে দিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করে কিসের আইসক্রিম। বললাম আমি A+ পাইছিতো, তাই সবাইরে আইসক্রিম খাইয়াইতেছি। বলে মিছা কথা কন কেন, রেজাল্ট তো মেলা আগে দিছে। আমি তার দিকে তাকাইয়ে হেসে বললাম, যখন আমার মেয়ে হবে তখন তুমিও আইসক্রিম কিনে দিও। শোধবোধ হয়ে যাবে। সলিম মিয়া অসহায় হয়ে বলে, আপনার মেয়ে খাইবো ফকিরের টাকায় কেনা আইসক্রিম? আমি বললাম খাবেনা কেন? আইসক্রিম তো আইসক্রিমই। সেই থেকে পরিচয় সলিম মিয়ার সাথে।

মাঝে মাঝে দেখা হয় তার সাথে। সারাদিন রাস্তার মোড়ে ভিক্ষা করে। ভিক্ষা করে রাতে খুপরিতে ফিরে। খুপরিটাও তার না। এক রিক্সাওয়ালা ঢাকায় রিক্সা চালাতে যাওয়ার সময় তারে দিয়া গেছে। এখন বাপ বেটি ওখানেই থাকে।

- সলিম ভাই, বাড়িতে কি কর? আজ ভিক্ষা করতে যাওনাই কেন?
- একটু পরে যাইতাম ভাইজান। আপনে এইহানে যে?
- তোমাদের দেখতে আসলাম। আর নাস্তা করতে আসলাম। নাস্তা আনানো যাবে? আমি টাকা দিচ্ছি।
- ভাইজান আমারে হুদাই শরম দেন। আজ আমি আপনারে নাস্তা খাওয়াই। নাকি গরীবের নাস্তা খাইবেন না?
- আব্বা চাচায় খাইবো। আপনে দেন চাচারে।- সলিম ভাইয়ের মেয়ে বলে।

নাস্তা থেতে ভালোই লাগলো। সলিম মিয়া ভালোই চিড়া বসাইতে পারে। জ্বরটা আরও বাড়ছে মনে হচ্ছে। চিড়ার জন্য না, জ্বরের জন্য বুঝলাম না। ঘুম আসতে লাগলো খুব। সলিম মিয়া শরীরটা ভালো লাগতেছেনা।

- ভাইজান?
- হু..
- মেয়েটারে নিয়ে বড়ই চিন্তা হয়। বড় হইতাছে। আমিতো কোন রকম খাই, মেয়েটারে কি করি কন তো? কোন বাসায় দিয়া দিমু কিনা ভাবতেছি।
- এত ভাইবনা সলিম মিয়া। গন্তব্য উপরওয়ালাই ঠিক করে রাখছে। তোমার ভাবতে হবেনা।
- ঠিক কইছেন ভাইজান।
- সলিম মিয়া ঘুম আসতেছে খুব। দেখি একটু ঘুমাই তোমার ঘরে।
শুয়ে পড়লাম সলিম মিয়াদের চটের বিছানায়। সলিম মিয়ার মেয়ে একটা চাদর এনে দিলো।

ঘুমানোর সময় শুনতেছি সলিম মিয়া বলতেছে। "ভাইজানের তো অনেক জ্বর! কি যে করি.. হাসপাতালে নিতে হইবো.. কি না কি হইয়া যায়!"
- হ আব্বা। চলেন কাউরে বইলা হাসপাতালে নিয়া যাই।

ঘুমের মাঝে মুখে হাসি চলে আসলো। কে জানে সলিম মিয়া আর মেয়ে নিজেদের জ্বর হলে কখনও এভাবে ভাবছে কিনা, চিন্তা করছে কিনা? জীবন বড়ই রহস্যময়! (চলবে)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×