somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কুঙ্গ থাঙ
আমার মাতৃভাষার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি । পৃথিবীর মাত্র চার লক্ষ মানুষ এই ভাষায় কথা বলে । ভাষাটিকে ইউনেস্কো এনডেঞ্জার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে ঘোষনা করেছে ।

মণিপুরি বর্ষপঞ্জি সম্বন্ধে কিছু তথ্য

০৭ ই অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মণিপুরি বর্ষপঞ্জি বা মারি-ফাম (মণিপুরাব্দ হিসাবেও পরিচিত) একটি চন্দ্রনির্ভর বর্ষপঞ্জি। বর্তমান ভারতের মণিপুর রাজ্যসহ আসাম, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরিরা এই বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে। অষ্টাদশ শতকে মণিপুরের শাসকগোষ্টি তাদের নিজস্ব ধর্ম বিসর্জন দিয়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহন করার পর মহারাজ ভাগ্যচন্দ্রের শাসনামলে প্রাচীন মণিপুরি বর্ষপঞ্জির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের বহুলপ্রচলিত সৌর অব্দ শকাব্দ বর্ষপঞ্জীর সমন্বয় সাধন করা হয়। ঐ সংস্করনটি বর্তমানে মণিপুরী বৈষ্ণবরা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারনের জন্য ব্যবহার করেন। গ্রেগরিয়ান সনের মতো মণিপুরি সনেও মোট বারোটি মাস এবং সপ্তাহে সাতটি দিন।

ইতিহাস
মণিপুর রাজ্যটির দুই হাজার বছরের পুরোনো লিখিত ইতিহাস রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মণিপুরি রাজবংশের ইতিহাস 'চৈথারোল খুম্বাবা', যেখানে স্মরনাতীত কাল থেকে মণিপুরের রাজাদের কার্যক্রম এবং রাজ্যটির যাবতীয় ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করা। 'চৈথারোল খুম্বাবা' র ভাষ্য অনুসারে মণিপুরি বর্ষপঞ্জীর প্রচলন হয়েছিল খ্রীষ্টপূর্ব ১৩৫৯ সালে মহারাজ মারি ফামবলচা কৈকৈ (খ্রীঃপূঃ ১৩৬৯-১৩২৯) এর শাসনামলে। মনিপুরি বর্ষপঞ্জীর নাম হলো মারি-ফাম যা তাঁর নামের প্রথমাংশ। মণিপুরীরা ‘বছর’কে বলে থাকে ‘মারি’, সেটির উৎসও ঐ রাজার নাম। মারি ফামবলচা রাজ্যভার গ্রহন করেন ২৫ বছর বয়সে খ্রীষ্টপূর্ব ১৩৫৯ সালে, সেই হিসাবে খ্রীষ্টপূর্ব ১৩৫৯ অব্দ হচ্ছে মারি-ফাম ২৫ বা ০০২৫ মণিপুরাব্দ। কাজেই ২০১০ খ্রীষ্টাব্দ হলো মারিফাম ৩৩৪৪ বা ৩৩৪৪ মণিপুরাব্দ।

মণিপুরি মাস
মণিপুরী চন্দ্রবছরে মোট ১২টি মাস। মাসগুলির নাম দেয়া হয়েছে বারোটি নক্ষত্রের নাম থেকে। মণিপুরিদের মিথলজিতে এবং প্রাচীন ধর্মের পুরাণগুলোতে গ্রহ এবং নক্ষত্রগুলোকে দেবতার সম্মান দেয়া হয়েছে। প্রতি মাসে দিনের সংখ্যা ত্রিশ। বারোটি মাসের নাম হচ্ছে -

১. শাজিবু (এপ্রিল-মে)
২. কালেন (মে-জুন)
৩. ইঙা (জুন-জুলাই)
৪. ইঙেন (জুলাই -আগষ্ট)
৫. থওয়ান (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর)
৬. লাংবন (সেপ্টেম্বর - অক্টোবর)
৭. মেরা (অক্টোবর-নভেম্বর)
৮. হিয়াঙ্গৈ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)
৯. পোইনু (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)
১০. ওয়াকচিং (জানুয়ারি -ফেব্রুয়ারি)
১১. ফাইরেল (ফেব্রুয়ারি -মার্চ)
১২. লমতা (মার্চ-এপ্রিল)

মণিপুরি সাতবারের নাম
মণিপুরি বর্ষপঞ্জি অন্যান্য সনের মতোই সপ্তাহে সাত দিনকে গ্রহণ করেছে এবং নামকরন অন্যান্য সনের মতোই গ্রহ ও তারকামন্ডলীর উপর ভিত্তি করেই করা মণিপুরি মৈতৈ ভাষায়। নামগুলো মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষায় এসে কিছুটা বিবর্তিত হয়েছে। সাতটি বার [মৈতৈ>বিষ্ণুপ্রিয়া (উৎস) এই ফরমেটে] হচ্ছে -

১. নঙমাইজিং > লাইমংসিং (সুর্যের নাম অনুসারে )
২. নিঙথৌকাবা > নিংথৌকাপা (চন্দ্রের নাম অনুসারে )
৩. লৈপাকপোকপা > লৈপাপোকপা (মঙ্গল গ্রহের নাম অনুসারে )
৪. য়ামসাকেইসা > ইমসাইসনা (বুধ গ্রহের নাম অনুসারে )
৫. সাগলসেন > সাঙনসেন (বৃহস্পতি গ্রহের নাম অনুসারে )
৬. ইরাই > ইরেই (শুক্র গ্রহের নাম অনুসারে )
৭. থামজা > থাঙচা (শনি গ্রহের নাম অনুসারে )

মণিপুরি মিথলজিতে এই সাতটি তারকার সাথে সাতজন লাইরেম্বী বা নারীদেবতার বিবাহের কথা পাওয়া যায়। এই সাতজন নারীদেবতা মণিপুরীদের সাতটি গোষ্ঠীর উপাস্য এবং তারা গোষ্ঠিগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। যেমন লুয়াঙ গোষ্ঠীর দেবী থৈনু হচ্ছেন মঙ্গলের স্ত্রী, খুমন গোষ্ঠির দেবী তনথাঙনু বুধের স্ত্রী ইত্যাদি। এছাড়া মিথলজি অনুসারে সুর্য ও চন্দ্র বাদে অন্য তারকাগুলোর মুখগুলো নানান জীবজন্তুর আকৃতি পরিগ্রহ করেছে। যেমন, মঙ্গলের মাথা হলো মহিষের মতো, বুধের হাতির মতো , বৃহস্পতির হরিণের মতো ইত্যাদি।

আজ ৭ অক্টোবর ২০১০, বৃহস্পতিবার মণিপুরি বর্ষপঞ্জির হিসাবে ৩০ লাংবন, ৩৩৪৪ মারি-ফাম, সাগলসেন


তথ্যসূত্র:
১. মুতাম ঝুলন সিংহ, ‘মণিপুর ইতিহাস’, ইম্ফাল ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৬
২. http://imarthar.blogspot.com
৩. Click This Link
৪. Click This Link
৫. Saroj Nalini Parratt,‘The Religion of Manipur’, 1980, page 35
৬. মঙ্গলবাবু সিংহ,‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাতত্তর সমীক্ষা’ (৩য় খন্ড), পৃষ্ঠা ৮৯
৭. ড. কালীপ্রসাদ সিংহ, ‘প্রবন্ধমালা’ (১ম খন্ড), ১৯৮৩, পৃষ্ঠা ৩৫
৮. Cheitharol Kumbaba edited by L. Ibungohal Singh and N. Khelachandra Singh, Imphal, 1967 page 2, 45, 176, 178


মণিপুরি বর্ষপঞ্জির ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:৪৫
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একদিন ভালো লাগার দিন.....

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৭



সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে গেছি। রোববার বলেই সম্ভবত রাস্তাটা ফাঁকা। সকাল সাড়ে ন’টায় জামাত শুরু হবার কথা। লোক আসতে শুরু করেছে। মেয়েকে বললুম, মসযিদের কোথায় তোরা নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু ব্যাবসা - মানুষের মৃত্যুও একটি ব্যাবসা কর্ম হতে পারে !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:২৪



আমি লেখক বা সাহিত্যিক নই, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক সাহেব ও নই যে, দোকান - রেষ্টুরেন্ট - পার্লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মডেল মেয়ে - মহিলা নিয়ে লাল ফিতা কেটে কেক খাবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগলী’র মা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯

তাঁরও একটা নাম ছিল,
সে নামেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল,
যদিও তখন কোন জন্ম সনদপত্র রাখা হতো না।
তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যান নি, তাই তাঁর কাছে
কোন বিদ্যালয়ের একটাও সনদপত্র ছিল না।
তবুও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গোলমাল’ না হলে ফুটবল খেলা কঠিন হত। =p~ =p~

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৪


রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর – ৬



লিখাটা যখন ‘রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর’ সিরিজে লিখছি তাই শুরতেই ফুটবল নিয়ে একটা কৌতুক-
প্রেমিকার বাড়িতে বসে নতুন কেনা থ্রিডি টিভিতে ফুটবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×