ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত মন্তব্যটি দেশে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার এই মন্তব্যটি আসলেই তাৎপর্য্যপুর্ন। তিনি এর দ্বারা ভারত কিভাবে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করে তাই বুঝিয়েছেন। অবশ্যই এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত নয় বরং পর্যাপ্ত পরিমান রিসার্চ এবং গোয়েন্দাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সাথে সাথে তিনি এখানে সূক্ষ্য রাজনৈতিক প্যাচ দিতেও বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হচ্ছে……… ‘’বাংলাদেশের 25% মানুষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সাপোর্ট করে এবং তারা প্রচন্ড ভারত বিদ্বেষী আর পাকিস্তানের আই এস আই য়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে’’।
বাংলাদেশের কত ভাগ মানুষ ভারত বিরোধীঃ
ভারত বিরোধীতার সাথে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে তিনি রাজনৈতিক চাল চেলেছেন বেশ দক্ষতার সাথে। আল কায়েদাকে ছুতা হিসাবে ব্যাবহার করে ইসলাম বিরোধী অভিযানে পশ্চিমাদের সাফল্যই হয়তোবা তাকে অনুপ্রানিত করেছে এ কাজে। দেশ ও ইসলাম প্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে কথা বলে জামায়াতকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন বলেই প্রতীয়মান হয়। প্রতিদিন সীমান্তে বি এস এফ মারছে নিরাপরাধ জনগন কিন্তু কই জামায়াতের কোন নেতা কর্মী তো সেখানে মরছেনা। ফেলানী ও কি ছিল তবে জামায়াতের কেউ! দেশের স্বার্বভৌমত্ব এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত ও রয়েছে তার এ মন্তব্যে।
তিনি বলেছেন বাংলাদেশের 25% মানুষ নাকি ভারত বিরোধী…… হিসাবে তিনি মারাত্নক ভুল করেছেন এখানে। আমি বাংলাদেশের শহরে বন্দরে যতটুকু ঘুড়েছি, দেখতে পেয়েছি ভারত বিরোধীদের সংখ্যা ঢেড় বেশি। তবে এই বিরোধীতা ভারত বিদ্বেষের কারনে নয় বরং তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। আমি এই সংখ্যা দেখেছি রাজনিতী-মিছিলে, বি এন পি – আওয়ামী লীগে, গল্পে ও তর্কে, ব্লগে-ব্লগে আরও দেখেছি খেলার মাঠে। দেখেছি পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের সাথে কোন যোগাযোগ ছাড়াই মানুষদের ভারত বিরোধী হতে। নিজ দেশকে ভালোবাসলে আর আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে মাথা উচু করে দাড়ালেই যদি ভারত বিরোধীতা হয় তবে আমিও গর্বিত হই আমার নাম সেই সাড়িতে দেখলে, যেভাবে গর্বিত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবঃ জলিল।
ভারত বিরোধীতার কারনঃ
তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের উস্কানি আছে বাংলাদেশের মানুষের ভারত বিরোধী হয়ওয়ার পেছনে…… তিনি ভুল করেছেন এখানে ও। যে রিপোর্ট পড়ে তিনি এ অভিমত দিয়েছেন হয়ত সেই রিপোর্ট করেছেন আবুল বারাকাত মার্কা কোন লোক। কারো উস্কানিতে নয় বরং আপনাদের কার্যক্রমেই বাংলাদেশর মানুষ ভারত বিরোধী হয়ে উঠে। দেখুন তাহলে হাজারো কারনের মধ্য থেকে কয়েকটাঃ
ফারাক্কা বাধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুভুমি বানিয়েছে কারা? কি কারনে আজ নদীগুলোসব চরে চরে ভরে গেছে আবার বর্ষা এলে পানিতে ডুবিয়ে মারবেন আর ভারত বিরোধীতার জন্য দায়ী হবে আই এস আই?
প্রতিদিন সীমান্তে নিরাপরাধ মানুষ মারবেন, ঝুলিয়ে রাখবেন কাটা তারে আর আমরা শুধু প্রনাম করে যাব?
দেশের স্বার্বভৌমত্বকে পায়ে দোলে দিল্লিতে বসে শাষন করার খায়েশ করবেন এদেশ আর জনগন মাথা উচু করে দাড়ালেই হয়ে যাবে শত্রু?
এদেশের জনগন স্বাধীনভাবে চলতে চায়, ভারতের তাবেদারী মেনে নেয়ার জন্য আমরা স্বাধীন হইনি। তাই বলবো এ দেশের আভ্যন্তরিন ব্যপারে নাক গলাতে আসবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কারো প্রতি বিদ্বেষী নয় … ইতিহাস তার সাক্ষী। মনে রাখবেন ইস্রাইলের পরে আপনারাই সম্ববত পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে বর্নবাদী দেশ। বর্নবাদী সঙ্ঘাত আপনাদের ইতিহাসের ই অংশ হয়ে আছে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আপনাদের পরিচয় বন্ধুপ্রতিম নয় বরং আগ্রাসী শক্তি হিসাবেই। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আপনাদের ধারনাটা ও আগ্রাসী ধরনের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


