দশ টাকা সের চাল, প্রতিটি ঘরে একজন করে বেকারের চাকরি ও কৃষকের জন্য বিনামূল্যে সার বিতরনের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি ও আম্লীগের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। তাই আম্লীগ ক্ষমতা গ্রহন করে “মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল” গঠন করে। এখানে মনে রাখা দরকার যে তাদের ইস্তেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা হয়েছিল, মানবতা বিরোধী অপরাধের কথা নয়।
ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর অনেকেই মনে করতে শুরু করে যে স্বাধীনতার সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার এবার সম্পন্ন হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও হয়ে ওঠে আশাবাদী। যারা আমাদের দেশের লক্ষ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, অগনিত মা-বোনদের ধর্ষন করেছে আর লুটপাট করেছে নিরাপরাধ লোকদের বাড়িঘর, তাদেরকে সনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর প্রত্যাশা করে সাধারন জনগন। যদিও দেশের অনেক মানুষ- যারা আম্লীগের অপকর্ম সম্পর্কে সচেতন, তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে আম্লীগ এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করবে – মুক্তিযুদ্ধ বা দেশের স্বার্থ নয়।
স্বনামধন্য-অভিজ্ঞ বিচারপতি ও আইনজীবীদের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য-অদক্ষ দূর্নিতীপরায়ন ঘাদানি ও আম্লীগ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার প্রথমেই বুঝিয়ে দেয় যে তারা কি করতে চায়। এরপর ট্রাইব্যুনাল শুরু করে বিচার নামের প্রহসন। ছলে-বলে আটক করা হয় ইসলামী আন্দলন ও বিরোধীদলের স্বনামধন্য নেতাদের। গ্রেফতার করা হয় নিজামী, আল্লামা সাঈদীর মত বিশ্ব বরেন্য আলেমদেরকে। বিচার নামক এই নাটক উপস্থাপনা করতে গিয়ে শুরু হয় ইতিহাসের নিকৃষ্ঠতম মিথ্যাচার। এমন কি বিচারপতির এজলাসে বসেই ঘাদানি নিজামুল হক স্বীকার করে যে তারা এখানে ন্যায় বিচার করতে আসেনি! নিরাপরাধ লোকদেরকে অভিযুক্ত করতে সাক্ষী নিয়ে যে ধরনের লুকোচুরি করা হয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শীদদের স্বজনরা বেচে থাকার পরেও তারা স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে সব পরিচিত মামলাবাজ এবং চোর ডাকাতদের। এমনকি সাক্ষীরা আসামীদের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় প্রসিকিউসনের লেখা বানানো জবানবন্দিকে সাক্ষী হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়। বিচার শেষ করার জন্য শুরু হয় তাড়াহুড়া। সিমীত করে দেয়া হয় আসামী পক্ষের সাক্ষী। সরকার ও ট্রাইব্যুনালের যোগসাজসে কোর্টের দরজা থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে আইনজীবীদের সামনে থেকেই অপহরন করা হয় সুখরঞ্জন বালী নামক আসামী পক্ষের এক সাক্ষীকে। আসামী পক্ষের কোন যুক্তি, দালিলিক প্রমান এবং কোন আর্তনাদ ই যেন এই ঘাদানি বিচারপতিদের কর্নকূহরে ন্যায় বিচারের বানীকে পৌছে দিতে সক্ষম হয়নি। এ সব দেখে সবারই মনে হতে থাকে যে এখানে যুদ্ধাপরাধ ওরফে মানবতাবিরোধী বিচার নয় বরং জনগণকে ধোঁকা দিয়ে আম্লীগ ও বামদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বাস্তবায়ণ হচ্ছে।
সর্বশেষ স্কাইপী কেলেংকারীর মাধ্যমে ফাস হয়ে গেল সব। প্রকাশ হয়ে গেল ট্রাইব্যুনাল দিয়ে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিচার যাই হোক রায় হবে সরকার-ঘাদানিদের দেয়া আদেশ অনুযায়ী। ঘাদানি জিয়াউদ্দিনের লিখে দেয়া রায়টা শোনার জন্য সরকার পাগল হয়ে আছে!!!!
জনগন ভেবে অবাক হচ্ছে যে, নিজের প্রমোশনটা বাগিয়ে নেয়ার জন্যও ওরা আজকাল মুক্তিযুদ্ধের শহীদানদের রক্ত বিক্রি করে... ছি.. ছি...ছি... আম্লীগ... আর কত নিচে নামবি তোরা? তোদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাত্থি মারি.........
হায়!! ওরা যদি জানত বিচার নামের এই প্রহসন মুক্তিযুদ্ধে শহীদানদের এবং বেচে থাকা স্বজনদের জন্য কত অপমানের! কিন্তু আমি জানি ওরা তা বুঝবে না কোন দিনও ..... কারন ওরা তো আম্লীগ...।
.........বাকশালীরা নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক.........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


