somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছন্নছাড়া আমি কেবল তোমার হাসিই শুনি

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১.
তুমি কথা বলতে, আমি শুনতাম। আমি শুধুই শুনতাম। কেবল শুনেই যে কেউ এত খুশী থাকতে পারে আমার জানা ছিল না। আমার অবশ্য সবই ছিল অজানা। এটা বুঝেছি তোমাকে চেনার পর। তুমি আপন মনেই কথা বলে যেতে, আমি শুনতাম। যাই শুনতাম, মনে হতো প্রথম শুনেছি। আগে কেন শুনি নি, সে আক্ষেপ আমায় নাড়া দিতো না।

আমি জানি, তোমার কাছ থেকে শুনবো বলেই আমার আগে শোনা হয় নি।

০২.

:"আচ্ছা, ডাহুকের গলার কাছটা যে খানিকটা খয়েরী, জানো?" নিজের নখ দেখতে দেখতে আচমকা বলেছিলে একদিন।
ডাহুক আমি চিনতাম একরকম। কিন্তু খয়েরী রং কোনটাকে বলে, জানা ছিলনা। বরাবরের মত ডানে-বাঁয়ে মাথা নাড়লাম। তুমি মুখ তুলে তাকিয়ে দেখো নি আমার মাথা নাড়ানো। তার দরকারও নেই। তুমি জানতে,আমি কিছুই পারি না। নিজে নিজেই বললেঃ জানবে কিভাবে? তুমিতো চেনো কেবল সাদা আর কালো।
খয়েরী রং-টা পরে একদিন আমাকে চিনিয়ে দেবে, অনেক মনযোগ দিয়ে নখ দেখতে দেখতে তুমি বলেছিলে। আরো অনেক আশ্বাস, কিংবা কেবলই 'কথার কথা'-র সাথে এটাকে ও আমি যত্ন করে মনে রেখেছি।
খয়েরী রংটা আমার আর চেনা হয়ে উঠে নি।
তোমার হাতের কিংবা পায়ের একটি নখ হতে সেদিন খুব ইচ্ছে করেছিল।
আজো করে।

০৩.

:"তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না"! এই বলে তুমি চলে গেলে। তোমার চোখে ছিল অবাক করা মেঘলা বিষণ্ণতা আর খেয়ালী অভিমান।
তার পর বৃষ্টি শুরু হল। স্বর্গ-নদী "মন্দার" থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটাগুলো হাজার হীরের টুকরার মত আছড়ে পড়ছিল আমার চারপাশের মাটিতে-ঘাসে-আর পাথরে। ভিজতে ভিজতে আমি ভাবতে থাকি, আমি জপতে থাকি "আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।"
এ কথা আমি তোমার মুখে শুনেছি অযুতবার, কিংবা তার চেয়ে কিছু কম বা বেশী। তুমি বলেছো বলে, কিংবা তোমার মুখে শুনে শুনে আমি ও বিশ্বাস করি, "আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।"
তার ও পরে আমি সতেজ কিংবা বিষন্ন শিশিরে খালি পা ফেলে ফেলে হেঁটে যাই। আমি একা। অবশ্য নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বের অন্য নাম যদি "তুমি" হয়, তাহলে তুমি আমার সাথেই আছো। আমার সাথেই থাকো।

০৪.

দু'হাত ভরে শিউলী নিয়ে কুয়াশার্ত কার্তিকের এক ছয়-সকালে তোমার দুয়ারে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। দেবীর কাঠগড়ায় পূজারীর মত। চোখে প্রশ্ন আর বিরক্তি নিয়ে তাকিয়েছিলে তুমি। তোমার চাহনির তীব্রতায় ম্লান হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। আমি আর শিউলীরা।
সেই ঝরে পড়া শিউলীগুলোকে আর একবার ছুঁড়ে ফেলে দিতে কোথায় যেন বেঁধেছিল খুব। পারিনি। বুকের কাছটায় করে ফিরিয়ে এনে রেখে দিয়েছিলুম।

মধ্য শ্রাবনের সেই সজল দিনান্তে, বৃষ্টিরা যখন তোমার বাড়ীর সামনে খুব হৈ-চৈ করে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলো…. হঠাৎ খুঁজে পাওয়া তিনটে কেবল কদম নিয়ে আমি গিয়েছিলাম তোমায় দেখতে।
তুমি চাদর মুড়ি দিয়ে তোমার বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখছিলে। তারপর যখন মূর্তিমান দূর্ভাগ্যের মত আমার উপর তোমার চোখ পড়ল, খানিক তাকিয়ে থেকে তুমি নীচে নেমে এলে। তোমার হাতে ছিল সেই সাদা তোয়ালেটা, স্নানের পর যেটা তুমি জলস্নাত অলক গুচ্ছে জড়িয়ে রাখ। আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেঃ "মাথা মোছো।"
দেবীর বাড়িয়ে দেয়া প্রসাদের মত করে আমি নিলাম।
মাথা মোছা হয় নি। বুভুক্ষুর মত মুখের উপর চেপে ধরে রেখেছিলাম তোয়ালেটাকে।
তুমি তাকিয়ে দেখলে।
তুমি তাকিয়ে দেখতে দেখতে ভেজা গলায় বলেছিলে "কেন এমন করো?"
তার পর যখন আমি আবার পথে নামলাম, ততক্ষনে আমার সবটুকু অতীত বর্তমান-আর ভবিষ্যত সেই একটুকু বাক্যের মধ্যে লীন হয়ে গেছে। নায়াগ্রার গর্জন আর অতলান্তিকের গভীরতা নিয়ে বুকের ভেতর আজো বেজে যাচ্ছে 'কেন এমন করো?'

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১:২৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০


‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×