আমাদের লেখা পড়ার মূল উদ্দেশ্য - কি? একটি ভালো চাকরী। চাকরী চাকরী আর চাকরী। সবারই একটি ভালো চাকরী দরকার। সে কারণেই লেখাপড়া করা, পাশ ফেইল নিয়ে মাথা ব্যাথা। কোন মতে একটি সাট্টিফিকেট যোগাড় করে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলেই হলো। নইলে ঘর সংসার চালানো যাবে না। এমনই একটি ধারণা নিয়ে আমরা অধিকাংশ মানুষ এই সমাজে বড় হই।
মাঝে মাঝে খুব অবাক হই এই ভেবে যে চাকরী করে আমি সমাজ সংসারকে আসলে কি দিচ্ছি? যদি মুর্খ হতাম তবে হয়তো শিক্ষিত হিসাবে নিজেকে এই প্রতিযোগিতার বাজারে সামিল করতাম না। কি করতাম? হয় হালচাষ করতাম, কৃষক হতাম। মাঠে মাঠে ফসল বুনে যেতাম। যা মানুষের নিত্য দিনের আহার। যা না হলে মানুষের চলে না। অথবা জেলে হতাম। মাছ ধরতাম। অথবা হতাম কামার। দা কুড়াল বানাতাম। অথবা কুমার হতাম, মাটির হাড়ি পাতিল বানাতাম। তাতি হলেও মন্দ হতো কি? জামা কাপড় বুনতাম। মানুষের নিত্য সময়ের সঙ্গী -পোশাক তৈরী করতাম। সমাজকে কিছুতো দিতাম। মুর্খ হলে এসব কাজ করতে আমার মোটেও গায়ে বাধতো না। গায়ে বাধতো না বলতে কি ..এসব করলে যে মান সম্মান যাবে, সেই চিন্তাই মাথায় আসতো না। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষা আমার মগজে মননে এমন একটি জ্ঞ্যান ঢুকিয়ে দিয়েছে যে ঐ শিক্ষা নামক জিনিষটি অর্জন করলে আর আমি ঐগুলো করতে পারব না- জাত যাবে!
এই (জাতীয়/ধরণের) শিক্ষাই আমাদেরকে কর্মবিমুখ করেছে, চাকরী মুখী করেছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়িয়েছে।
সৃজনশীল পদ্ধতি নয়, আমাদের এমন এক ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা দরকার যেখানে আমরা কাজ করতে আগ্রহী হবো, মানুষের অধীনে চাকরী খুজতে নয়। আমি নিজেই কিছু একটা করতে পারি, কলম পেশার জন্য এতো অনার্স মাষ্টার্স ডক্টরেট ডিগ্রী লাভের প্রয়োজন সবার নেই। শিক্ষাকে এতো সহজলভ্য করা একারণেই ঠিক নয়। এতে করে মানুষের বা সমাজের মাঝে কর্মবিমুখতা বা না খেটে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
সমাজকে আমি কি দিতে পারছি- এটাই হওয়া উচিৎ শিক্ষার মাপকাঠি। যে যত বেশী সমাজকে সার্ভ করতে পরবে, সে ততবেশী সম্মান পাবে।
একজন কৃষক সমাজকে যা দেয়, আমি চাকরী করে তার কানাকড়িও দেই না। অথচ আমি সাট্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মানুষ, সমাজে আমার অনেক দাম!! এমনটা হওয়া উচিৎ নয় .........


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

