-তুমি যেনো কোথায় থাক?
-স্টেটস!
শুনেই চোখটা বড় বড় হয়ে গেলো। স্টেটস বলতে পেরে ছেলেটির মুখেও প্রশান্তির হাসি। বেশ ভাব নিতে পেরেছে বলে মনে হয়।
-কি করো ওখানে?
এবার ছেলেটি একটু ভ্রু কুচকালো। ভাবটা এমন যেনো এটা আবার কোন প্রশ্ন হলো? স্টেটস এ থাকি, এটাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। কি করি, সেটা জানতে চাওয়া কেন? তারপরেও না বলে তো আর চুপ করে থাকা যায় না। একটু বিরক্ত বিরক্ত ভাব নিয়ে বল্লো- একটি পাম্পে কাজ করি।
- ও পাম্প ... মানে তেল বা গ্যাস পাম্পে? গাড়ি এসে দাড়ায় আর ছেলেরা গাড়ির সামনের ডালা খুলে বা পেছনের তেলের মুখ খুলে যে গ্যাস বা তৈল ভরে দেয়, সেই কাজ। কাজ তো কাজই, তার আবার ছোট বড় কি? মনে মনে ভাবলো প্রশ্নকারী। কিন্তু একটি জিনিষ কিছুতেই তার মাথায় ঢুকে না, এই কাজ করার জন্য সে স্টেটসে কেন যাবে? এই কাজ তো আমাদের দেশের অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত ছেলেরা করে। যাদের লেখাপড়ার বা বিদ্যা বুদ্ধির জোর নেই, তারা করে, ওর মতো লেখা পড়া জানা, ভালো ফলাফল ধারী ছেলে, কেন এই কাজ করতে ওখানে পড়ে থাকে? নিজ দেশের এমন পেশার কোন ছেলের সাথে নিজের ভাস্তির বিয়ে তো সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না।
শুধু স্টেটসে থাকার কারণেই বিয়ের বাজারে তার এতো ডিম্যান্ড?
এই ডিম্যান্ডের মূলে আছে ডলার। এক ডলার মানে কম বেশী ৮০ টাকা। ১০০ ডলার কামাই করা মানেই ৮০০০ টাকা!! সুতরাং টাকা আয় করার গরম তো সে চোখে মুখে দেখাত্ই পারে।
এই অর্থনৈতিক মান বৈষম্য দূর করা কি আমাদের জন্য খুব কঠিন? যত কঠিনই হোক, দেশের মেধা পাচার রোধ করতে চাইলে অবশ্যই এটা করতে হবে। আমাদের দেশের বুয়েট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ সবাই আজ এই মেধা পাচারের রাস্তার পথিক। তাদের কাছে দেশ বা দেশের জনগনকে সেবা করার কোন নৈতিক চিন্তা ভাবনা নেই, শুধু একটাই চিন্তা, ডলার বা পাউন্ডে আয় করতে হবে, সামাজিক ভাবে নিশ্চিন্ত নিরাপদ পরিবেশে বাঁচতে হবে। এমন পরিবেশে থাকতে হবে, যেখানে ফুলের টোকাটাও গায়ে লাগবে না। আর এদের ফেলে যাওয়া জায়গা পূর্ণ করছে, দেশের অমেধাবী, স্বার্থন্বেষী মানসিক ভাবে অশিক্ষিত, রাজনৈতিক মদদ পুষ্ট ছেলে মেয়েরা। তাদের কাছে দেশ ও দশের সেবা নয়, নিজেদের পকেট সেবাটাই মূখ্য। ফলে দেশ ও দেশের জনগনের মান সম্মত সেবা পাওয়ার সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
প্রায়ই শুনি অমুক বুয়েট থেকে পাশ করে এখন নরওয়ে তে থাকে, ঢামেক এর তুখোড় ছাত্রী অমুক আজ বরের সাথে কানাডার স্থায়ী নাগরিক। কালে ভদ্রে তারা এই দেশে পদধুলি দিতে আসেন। শুধু এইটুকুর জন্যই কি তাদেরকে শিক্ষা দীক্ষা দিলো দেশ? ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে এই দেশ রঞ্জিত হয়েছে কি কানাডা অষ্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেট হয়ে নিশ্চিত জীবন যাপনের জন্য? সেখানে শোলা দিয়ে শহীদ মিনার বা স্মৃতি সৌধ বানিয়ে দুটো ফুল আর কিছু গান বাজনা করলেই কি দেশের ঋণ শোধ হয়ে যায়?
৩০ লক্ষ শহীদ তাঁদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে এই দেশকে ভালোবাসতে গিয়ে। আর আমাদের ভালোবাসা শুধুই ফেসবুকে বন্দি। ষ্টেডিয়ামে পতাকা হাতে চিৎকার পর্যন্তই!! মাথায় কপালে পতাকা বেধে মিছিল করা পর্যন্তই সিমা বদ্ধ ! বসে বসে ব্লগে জ্ঞ্যান কপচানোই আমাদের দেশ প্রেম সিমাবদ্ধ .............
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




