
হেফাজত দেখলাম রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। এদেরকে যে কারা আবার মাঠে নামালো মাঠ গরম করার জন্য কে জানে! ধর্ম যার যার তার তার। যে নামাজ পড়ার সে নামাজ পড়ছে, যে পুজো করার সে পুজো করছে। ধর্ম তো এই দেশে ব্যক্তিগত ভাবে চর্চা হয়। যখন এই দেশে রাষ্ট্র ধর্ম বলতে কিছু ছিলো না, তখন এই দেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে। দলে দলে অমুসলিমরা মুসলমান হয়েছে। আল্লাহর কামেল ওলি আওলিয়াদের কঠোর পরিশ্রমে এই দেশের মানুষ ইসলামকে আন্তরিকতার সাথে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছে। তখন না ছিলো রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, না ছিলো তুরাগের তীরে বিশ্ব ইজতেমার তাবলিগী দাওয়াত, না ছিলো জামাতে ইসলামের শিবির কর্মিদের কোন অস্তিত্ব। একমাত্র আল্লাহর খাস বান্দা আওলিয়া কেরামগনের হাত ধরে এই হিন্দু অধ্যুসিত এলাকায় ইসলামের ঝান্ডা উড়েছে। ইসলামকে প্রতিষ্ঠা বা রক্ষা করতে কোন সংবিধান রচনার প্রয়োজন পড়েনি। তবে আজ ৯০ শতাংশের মুসলমানের দেশে ইসলাম বাঁচাতে বা রক্ষার্থে কেন রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে ইসলামকে রাখতেই হবে, তা আমার কিছুতেই বোধগম্য নয়।
দেশে অনেক বড় বড় সমস্যা আছে, হুজুরদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা প্রয়োজনে সেগুলো সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করুন। শুধু শুধু হুজ্জতি বাধিয়ে দেশে আর বিশৃঙ্খলা করবেন না। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম থাকা সত্ত্বেও এই দেশে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে, ধর্ষিতা হচ্ছে, চুরি ডাকাতি রাহাজানি কোনটাই থেমে নেই, নারী দের অশালীন চলাফেরা বা স্বল্প বসনে ফ্যাশন শো থেকে শুরু করে নাইট ক্লাবের কোন পার্টি কিন্তু বন্ধ নেই। রেড লাইট এরিয়োতে খদ্দেরের সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে ছাড়া কমছে না।
তাই বলি রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রাখার চেয়ে প্রকৃত অর্থে মুসলমান হিসাবে কিভাবে নিজেকে তৈরী করা যায়, সেই ব্যপারে আন্দোলোন করুন। নিজেকে সাচ্চা মুসলমানরুপে দাড়া করাতে পারলে আর রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে ইসলাম কায়েম করার প্রয়োজন নাই। রাষ্ট্রে নয়, অন্তরে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলোন করুন। জেহাদ করুন নফসের বিরুদ্ধে। কুরিপুর বিরুদ্ধে.... হাদিস অনুযায়ী সেটাই বড় জেহাদ!! নিজের কুরিপুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই সবচেয়ে কঠিন জেহাদ। সেটাই করতে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করুন। তাহলে দেশে ধর্ষণ, খুন খারাবি, বেলেল্লাপনা, মদ জুয়া, রাত ভর উন্মাদনা সব পালাবে .... তখন দেশেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



