ইন্টারন্যাশনাল মাষ্টার্স প্রোগ্রাম এ ভর্তি হয়েছি। আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক। 26 দেশের 48 জন ছেলে মেয়ে। এর মধ্যে প্রায় 15 জন ই নাক বোঁচা চাইনিজ। পরিচয় পর্ব শেষে প্রযেক্টের জন্য গ্রুপ ভাাভাগি হলো। লটারীতে আমি পেলাম দুই চাইনিজ পার্টনার। ওদের স্পোকেন ইংলিশের অবসহা ভয়াবহ। আমি পারতঃ পক্ষে ইশারায় কাজ চালাই। কারন কিছু বললেই হা করে খানিক খন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর হাতের পামটপ টেপাটিপি করে দুই জন আমার কথার দুই রকম অর্থ বের করে। এর পর সেটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষন 'চ্যাও ম্যাও' করে মনে হয় একটা সমাধানে পৌছায়। তারপর আমার দিকে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাঁসি দিয়ে বলে 'ওকে, উই আন্ডারস্ট্যান্ড'। আমিও দন্ত বিকশিত করে কৃতর্াথ হওয়ার ভাব করি।
তবে বেচারা রা দারুন পরিশ্রমী, আমি ফাঁকি দিলেও ওরা পুষিয়ে নেয়। তালে গোলে ভালোই চলছিল।
একদিন, প্রযেক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। দুপুরে খাওয়ার সময় হলে ওরা আমাকে বললো, চলো ক্যাফে থেকে কিছু খেয়ে আসি। তখন ছিল রোজার মাস। আমি ব্যাপারটা ওদের কে বললাম। ওরা আপত্তি না করে চলে গেল। খেয়ে এসে আবার কাজ শুরু করলাম। একটু পরে এক চাইনিজ মুখ গম্ভীর করে বললো, আমি এর আগেও মুসলিম দেখেছি। মুসলিমস আর লাইক মাউস।
আমি তো অবাক। মুসলমানদের নিয়ে অনেক বিশেষন শুনেছি, কিন্তুইদুর এর সাথে তুলনা এই প্রথম। দুই ব্যাটা কোনো কিছুতেই একমত হয় না, এখন দেখি আরেকটাও গম্ভীর মূখে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিচ্ছে। আমি চোখ কপালে তুলে বলি , কেন তোমার এরকম মনে হলো? উত্তরে যা বললো তার সারমর্ম হলো, ওদের দেশে ইদুর নাকি দিনের আলোতে কিছুই খায় না, আর যেহেতু মুসলিমরা ও দিনে খায়না (ওরা মনে করেছে, আমাকে সারা বছরই রোজা রাখতে হয়), সুতরাং.........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


