আরেক জন মুক্তিযুদ্ধের ফেরীওয়ালা আছেন। নাম জাফর ইকবাল। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিন গুলিতে প্রথমে শর্শীনার পীরের রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখাতে গিয়ে ব্যার্থ হয়ে নয় মাস গর্তে কাটিয়ে দিলেন। তার টগবগে যৌবন তাকে যুদ্ধে যোগ দিতে উদ্্বুদ্ধ করে নি। যুদ্ধ শেষে চললেন আমেরিকা। 18 বছর ক্যালটেক আর বেল কমিউনিকেশনস এ সফল ক্যারিয়ার শেষে হটাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাণ ডাকলো। নেমে পড়লেন দেশ উদ্ধারে। কে জানে, হয়তো রাজাকার নানার পাপ স্খলনের উদ্দেশ্যে, অথবা নিজের যুদ্ধে না যাওয়ার অপরাধ বোধ থেকে। শহীদ জননীর নামে হল হবে শা.বি. তে। সে কি আন্দোলন। দাবী আদায় না করে ঘরে ফিরবো না বলে বেল ল্যাবে গিয়ে বসে রইলেন। এদিকে ইউনিভার্সিটি বন্ধ মাসের পর মাস। সেশন জট বাড়ে বাড়ুক অসুবিধা নাই। সাফার করবে ছাত্র/ছাত্রী রা, উনার কি আসে যায়। ছাত্র/ছাত্রীদের অনশন নিয়ে কলাম লিখলেন আমেরিকায় বসে- 'আহা! কচিমুখ গুলি স্মরন করে আমি খেতে পারি না।'
সেই পর্ব শেষ। মাঝখানে লাগলেন রাজনীতিবিদ দের পিছে। তাদের ছেলেমেয়ে রা কোন দেশে লেখা পড়া করে এই ধরনের বিতং। এটাও এখন বন্ধ। নিজের ছেলে মেয়েরাই যে বাইরে পড়ে!
সেই সংক্রমন এখন ব্লগে। কেউ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সি লাগানো রুমে পড়াশোনা করে, কেউবা লন্ডন, আমেরিকায় বসে দেশ উদ্ধারের বানী শোনাচ্ছেন। আবেগের ফুলঝুড়ি ছোটাচ্ছেন। আবার মুক্তিযুদ্ধ হবে, দেখে নেবো টাইপের হূঙ্কার দিচ্ছেন।
এই সব মহান ব্যাক্তিদের বিনয়ের সাথে বলি, আমাদের পুর্বপুরুষেরা, সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ
সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করে একটা লাল সবুজ পতাকার দেশ উপহার দিয়েছেন। আপনারা না হয় ক্যারিয়ার টা একটু বিসর্জন দিয়ে, সাধারন মানুষের পাশে দাড়িয়ে কূশিক্ষা, দুর্নী তি, ক্ষুধা, অভাব আর দারিদ্্রের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন। সবাই একটু দেখুক, কাগজে কলমে বা কিবোর্ডে নয়, বাস্তবেই দেশের জন্য কিছু করছেন।
গালাগালি গুলো তখন পর্যন্ত না হয় বন্ধ থাক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


