সে সময়ে আমার এইচ. এস. সি পরিক্ষা চলছিল. পরিক্ষার সেন্টার ছিল- আর্দশ কলেজ. সম্ভবত সেদিন ব্যবসায় উদ্দ্যেগের ২য় পএ- ব্যাংকিং বিমা পরিক্ষা হবে. সকাল বেলা বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দ্যেশে রওনা হলাম. কিছু রাস্তা যাওয়ার পরেই আকাশটা মেঘাছন্ন হয়ে এল; চারদিকে হয়ে গেল অন্ধকার. তাড়াতাড়ি করে পরিক্ষা সেন্টারে এসে রুমে প্রবেশ করলাম; রুমে প্রবেশ করেই দেখি- রুম একবারেই অন্ধকার. ততক্ষনিক স্যার এসে বললঃ
- মনে হয় খুব ঝড় হবে. সম্পূর্ন রুম একেবারে অন্ধকার হয়ে গেছে. বিদ্যুৎ তো নাই(লোডশিডিং). কিভাবে তোমরা পরিক্ষা দিবে?
- তাইতো স্যার!! আমার লিখব কী ভাবে? আর পরিক্ষাটা দেবেই বা কিভাবে? কিছু ব্যবস্থা করেন স্যার, যেন আমার পরিক্ষাটা দিতে পারি.
- আচ্ছা আমি দেখছি, কি করা যায়; তোমরা সবাই নিজ নিজ একটা করে মোমবাতি কিনে নিয়ে আসো. আর সেই মোমের আলোতে তোমারা পরিক্ষা দিও. ঠিক আছে? তোমরা সেটাই কর.
আমার সবাই নিরুপায় হয়ে দোকান থেকে দু-একটা করে মোমবাতি কিনে নিয়ে এসে পরিক্ষা দেওয়া আরম্ভ করলাম. পরিক্ষাটা শুরু হল নির্ধারীত সময়ের ২০ মিনিট পড়ে; সব পরিক্ষার্থীর কাছে একটা করে খাতা, একটা করে কলম আর একটা করে জলন্ত মোমবাতি. এসব নিয়ে আমারা সেদিনের পরিক্ষাটা দিয়েছিলাম. আমাদের মাঝে ভয়, হতাশা আর বিড়াম্বনা থাকলেও সেদিনের ওই সময় টুকুতে একটু ভাল লাগাছিল; ছিল কিছু স্মৃতিময় ঘটনাও, যা আজও মনে পড়ে. আর যাই হোক বন্ধুদের সাথে ক্যান্ডেল ডিনার না করতে পারলেও, ক্যান্ডেল ইক্সজাম নাম পরিক্ষা তো দিয়েছি(দুধের স্বাদ ঘোলায় মিটিয়ে).
ঝড়ের কারনে গত চারদিন থেকে শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ ছিলনা. পোহাতে হয়েছে অনেক ঝামেলা. যেখানে পানি আর বিদ্যুৎ নেই সেখানে জীবনকে পরিচালনা করা অনেক কষ্টস্বাধ্য একটা বিষয়. এই চারদিনে ইন্টারনেট, কম্পউটার ও মোবাইলের সঙ্গ ছেড়ে থাকতে হয়েছিল; এমনকি দিনের বেলাও মোমের আলোতে পড়াশুনা করতে হয়েছে. এই চারদিন এত ঝামেলা আর কষ্টের মাঝে থেকেও অতিতে কাটানো কিছু স্মৃতিময় মুর্হুতের কথা স্মরন করিয়ে দিয়েছে. grin emoticon grin emoticon

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



