ছাত্র তথা ছাত্ররাজনীতি যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা তার চেয়ে ভাল আর কেইবা যানে। "বাংলাদেশ থেকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেওয়া উচিত", কথাটা তাই প্রথম বলেছিলেন সাবেক স্বৈরশাষক জে: এরশাদ। নব্বইয়ের গনঅভ্যুত্তানে ছাত্ররা তাকে হিড় হিড় করে টেনে নামিয়ে ছিল ক্ষমতা থেকে। শুধূ নব্বইয়ের গনঅভ্যুত্তান নয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছিষট্রি ছয় দফা, উনসত্তর এর আইয়ূব বিরোধী গনঅভ্যুত্তান, আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ব তথা এদেশের যেকোন সংগ্রামে-সংকটে সবার আগে ছাত্ররাই রুখে দাড়িয়েছে। ছাত্ররা তাদের অসীম সাহস নিয়ে দাড়িয়েছে সাধারণ জনগনের পাশে। আর তাই এদেশের ইতিহাসে ছাত্র তথা ছাত্ররাজনীতি অবদান লেখা থাকবে সোনালী অক্ষরে।
কিন্তু সময়ের পথচলায় আজ দাবি উঠেছে আমাদের সেই ঐতিহ্যবাহী ছাত্ররাজনীতি বন্ধের। কিন্তু কেন এই দাবি ? যে ছাত্রদের এক সময় জাতির বিবেক বলা হত, নিজে না খেয়ে হলও একজন ছাত্রনেতাকে একবেলা খাইয়ে র্গব করত যে দেশের সাধারণ জনগন, আজ কেন তাদের এ হাল। কেন তারা ঘৃণার পাত্র।
ছাত্ররাজনীতির নামে কিছু ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীর সন্ত্রাস, চাদাঁবাজি, অস্ত্রের মহড়া, টেন্ডার বাজি, মাদক ব্যবসাই আজ তার কারণ। চাদাঁবাজি, টেন্ডার বাজি, মাদক ব্যবসাই হয়ে ওঠেছে কিছু সংখ্যক ছাত্রনেতা তথা ছাত্রসংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। আর তাই ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থেকে এসকল ব্যবসা করতে গিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে গঠছে একের পর এক বন্দুক যুদ্ব্। গঠছে অস্ত্রের মহড়া, সহিংসতায় প্রাণ যরে যাচ্ছে, অস্হিতিশীল হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেকের মধ্যেই নেই নীতি নৈতিকতার চর্চা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও আর্দশ।
কিন্তু যারা আজকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার দাবি করছেন তারা কি ভাবছেন যে আইন করে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলেই এই সকল ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজ, অস্ত্রের ব্যবসাই, টেন্ডার বাজ, মাদক ব্যবসাইরা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করে দেবে। না এই সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ হবে না। বরং তারা কোন অন্য নামে অন্য কোন পরিচয়ে তাদের কাজ ঠিকই করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আজকে যারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার দাবি করছেন তারা কি ভেবেছেন এতে আমরা কি হারাব।আমরা ছাত্ররা হারাব অন্যায়ের বিরুদ্বে প্রতিবাদ করার অধীকার। পুজিঁবাদী, বুর্জোয়া সমাজপতিদের শিক্ষার বাণিজ্যিকী করণের পথ যাবে খুলে । থাকবে না শিক্ষার বাণিজ্যিকী করণের বিরুদ্বে কোন বাধা। যে কোন অবিচার-অন্যায়ের বিরুদ্বে দাড়াতে পারবে না এদেশের ছাত্র সমাজ। সবার জন্য সার্বজনীন বিঙ্গান ভিত্তিক শিক্ষার দাবী করা যাবে না। ছাত্ররা বেড়ে উঠবে রাজনৈতিক ঙ্গান ছাড়া মেরুদন্ডহীন হয়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থকবে না নীতি নৈতিকতার চর্চা। আমাদের সামনে থাকবে না কোন আর্দশ। আর আর্দশবিহীন একটা জাতি কোনদিন মাথা উচু করে দাড়াতে পারে না। এতে লাভবান হবে সাম্রাজ্যবাদী বুর্জোয়া পুজিঁবাদীরা।
আর এই এখানেই আমার প্রশ্ন ? আমরা কি চাই ?সমগ্র ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে ছাত্রদের অন্যায়ের বিরুদ্বে প্রতিবাদ করার অধীকার হারাতে না নষ্ট, পচা, ঘুণে ধরা ক্ষমতা দখলের আর্দশহীন রাজনীতি বন্ধ করতে। ছাত্ররাজনীতি থেকে সন্ত্রাসীর, চাদাঁবাজ, অস্ত্রের ব্যবসাই, টেন্ডার বাজ, মাদক ব্যবসাই দের মুছে দিতে। আমদের বুঝতে হবে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে ছাত্রদের রাজনৈতিক ঙ্গান শূন্য করে কারা লাভবান হবে। আর আজ যারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে চাইছেন তারা কারা ? কি তাদের উদ্দেশ্য ?
যে সকল কারণে আমাদের সুশীল সমাজ নামধারী ব্যক্তিরা আজ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবী করছেন তবে কি একই কারণে জাতীয় রাজনীতিও অচিরে বন্ধের দাবী উঠেব .......?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


