somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবী বিখ্যাত জলপ্রপাত দর্শন!!! B-) ;)

২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের বিখ্যাত জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড ও নতুন একটা জলপ্রপাত আবিষ্কৃত হয়েছে- মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ওই জলপ্রপাতটির নাম ‘হাম হাম’ জলপ্রপাত। এবারে আসুন পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকটি জলপ্রপাত সম্পর্কে জানা যাক-
প্রথমেই নায়াগ্রা জলপ্রপাত

নায়াগ্রা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত। পানি পড়ার দিক থেকে নায়াগ্রা ফলস পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ। কারণ এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬ মিলিয়ন ঘনফুট পানি নিচে পড়ছে! পানির এই দানবকে দেখতে হলে আমেরিকা অথবা কানাডা- যে কোনো দেশ থেকেই দেখা যায়। কেননা নায়াগ্রা ফলস এই দুটি দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উৎপত্তি হয়েছে নায়াগ্রা নদী থেকেই। বরফ যুগের শেষের দিকে বরফ গলে সৃষ্টি হয় এই নায়াগ্রা নদী, আর তা থেকেই এই নায়াগ্রা জলপ্রপাত।নায়াগ্রা ফলস প্রকৃতপক্ষে তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি; হর্সসু ফলস, আমেরিকান ফলস এবং ব্রাইডাল ভ্যালি ফলস। এর মধ্যে হর্সসু ফলস পড়েছে কানাডার মধ্যে আর বাকি দুটো ফলস অর্থাৎ আমেরিকান ফলস আর ব্রাইডাল ভেলি ফলস পড়েছে আমেরিকার মধ্যে। তবে তিনটি ফলসের মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে হর্সসু ফলস; নায়াগ্রা জলপ্রপাতের প্রায় ৯০% পানিই এই জলপ্রপাত দিয়ে পড়ে।
এঞ্জেল জলপ্রপাত

এটি দেখতে হলে যেতে হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায়। ভেনিজুয়েলার দক্ষিণে অবস্থিত ‘কানাইমা ন্যাশনাল পার্ক’, একে আবার ইউনিসেফ রীতিমতো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বলে ঘোষণা দিয়েছে। সেই পার্ক যেই রেইনফরেস্টে, সেখানে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। এখানকার গাছগুলো সারা বছরই সবুজ থাকে। আর পুরো বছরজুড়েই এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়।
এঞ্জেল এর আরও কয়েকটি নাম আছে। এই যেমন, স্প্যানিশ ভাষায় এর নাম হচ্ছে ‘সালতো এঞ্জেল’। স্থানীয় লোকেদের ব্যবহৃত ‘পেমন’ ভাষায় এই জলপ্রপাতের নাম হচ্ছে ‘কেরেপাকুপাই ভেনা’, মানে ‘গভীরতম স্থানের জলপ্রপাত’। এই ভাষাতেই আবার এঞ্জেল ফলসকে ডাকা হয় ‘পারাকুপা ভেনা’ নামে, যার অর্থ ‘সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত’। এই নামে ডাকা হয় কেননা এঞ্জেল ফলস সত্যি সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত। পৃথিবীর উচ্চতম এই জলপ্রপাতে প্রায় ৯৭৯ মিটার বা ৩,২১২ ফুট উঁচু থেকে পানি নিচে পড়ছে। এই এঞ্জেল ফলস উচ্চতায় প্রায় ৩২১ তলা বা প্রায় ১ কিলোমিটার উঁচু! আর যেই উঁচু পাহাড় থেকে এই এঞ্জেল ফলসের পানি গড়িয়ে পড়ছে তার নাম ‘আওয়ানতেপুই’বা ‘শয়তানের পাহাড়’। আসলে পাহাড়টা এতোই দুর্গম জায়গায় যে সেখানে যাওয়া যেমন কষ্টকর, ফিরে আসাটা আরো কষ্টকর। এজন্যই বোধহয় সেখানকার অধিবাসীরা পাহাড়টিকে এই নামে ডাকে। আর একটা মজার হলো এঞ্জেল ফলসের পানির সেরকম কোনো উৎসই নেই! রেইনফরেস্ট অঞ্চলে সারাবছর যে বৃষ্টিপাত হয়, সেই বৃষ্টির পানিই পাহাড় থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে সৃষ্টি করেছে এই জলপ্রপাতের! প্রায় এক কিলোমিটার উঁচু থেকে এই বৃষ্টির পানি গিয়ে পড়ে নিচের ‘কেরিপ’ নদীতে। সেখান থেকে গিয়ে মেশে ‘চুরুন’ নদীতে। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত আর মজার বিষয়টি হলো প্রায় এক কিলোমিটার উঁচু থেকে পড়া এঞ্জেল ফলসের বেশিরভাগ পানিই নিচে পড়ার আগেই বাষ্প হয়ে যায়। আর এই বাষ্পই জলপ্রপাতটির চারিদিকে একটা কুয়াশার আস্তরণ সৃষ্টি করে।
আর একটি বিখ্যাত জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া ফলস

আফ্রিকার বিশ্বখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত উৎপত্তি হয়েছে জাম্বেসি নদী থেকে। এ জলপ্রপাত দুটি দেশের সীমান্তরেখা হিসেবে কাজ করছে- জাম্বিয়া এবং জিম্বাবুয়ের। তবে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতটি প্রকৃতপক্ষে জাম্বিয়াতেই পড়েছে। তবে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের আসল সৌন্দর্যটাই দেখা যায় সীমান্তের ওপারে জিম্বাবুয়ে থেকে।
১৮৫৫ সালে ডেভিড লিভিংস্টোন নামের বিখ্যাত স্কটিশ পর্যটক সর্বপ্রথম এই জলপ্রপাতটি দেখতে পান। আর তক্ষুণি তিনি ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার সম্মানে এই জলপ্রপাতের নাম দিয়ে দেন ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। তবে স্থানীয় ‘কলোলো’ আদিবাসীদের ভাষায় এই জলপ্রপাতের নাম ‘মসি-ওয়া-তুনয়া’। এর অর্থ হচ্ছে ‘বজ্র সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া জলপ্রপাত। উচ্চতায় এটি মাত্র ১০৮ মিটার হলেও চওড়ায় এই জলপ্রপাত প্রায় ১,৭০৮ মিটার বা ৫,৬০৪ ফুট দীর্ঘ। আর পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া এই ভিক্টোরিয়া ফলস থেকে গড়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৮,০০০ ঘনফুট পানি নিচে পড়ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার এই বিশাল পরিমাণ পানি প্রচণ্ড গতিতে নিচে আছড়ে পড়ে সৃষ্টি করছে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া আর কুয়াশা, যা কিনা প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়।
শেষে ইগুয়াজু জলপ্রপাত

ইগুয়াজু জলপ্রপাত দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। তবে ইগুয়াজু জলপ্রপাতের উৎস ইগুয়াজু নদী আবার বেশিরভাগটাই ব্রাজিলের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে। আর এই ইগুয়াজু ফলস ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম খুঁজে পান আলভার নুনেজ নামের এক স্প্যানিশ।
ইগুয়াজু জলপ্রপাতের নামটা এসেছে সেখানকার আদি অধিবাসী ‘গুয়ারানি’দের কাছ থেকে। তাদের ভাষায় এই নামের অর্থ হচ্ছে ‘বিগ ওয়াটার’ বা ‘প্রচুর পানি’। আর এটা একটা-দু’টো জলপ্রপাত না, একসাথে প্রায় ২৭৫টা ছোট ছোট জলপ্রপাত! আর এই বিশাল সংখ্যক জলপ্রপাতগুলো একত্রে প্রায় ৩ কিলোমিটার চওড়া। বছরের যে সময়টায় বৃষ্টি হয় না তখনও এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ১,০০০ ঘনমিটার পানি গড়িয়ে পড়ে। এজন্যই এই জলপ্রপাতের নাম ‘ইগুয়াজু’ রাখা হয়েছে।


সূত্র: ই-নেট
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০০
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×