আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
খবরটি পড়ার পর আমি আমার শিশুকে কাছে ডাকলাম। ওকে খুব সহজ ভাষায় “Good Touch” আর “Bad Touch” সম্পর্কে বুঝিয়ে বললাম। বললাম—
“তোমার শরীর একান্তই তোমার নিজের। কেউ যদি এমনভাবে ছুঁতে চায় যাতে তোমার অস্বস্তি লাগে, ভয় লাগে বা খারাপ মনে হয়—তাহলে সাথে সাথে ‘না’ বলবে এবং আমাদের জানাবে।”
আমরা তাকে এটাও বুঝিয়েছি—
কোনো বড় মানুষ বললেও চুপ করে থাকতে হবে না
ভয় পেলেও মা-বাবাকে সব খুলে বলতে হবে
শরীরের কিছু জায়গা একান্ত ব্যক্তিগত
কেউ গোপনে কিছু করতে বললে বা ভয় দেখালে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে
নিরাপদ মানুষ কারা—সেটা চিনতে শিখতে হবে
শুধু তাই নয়, এখন সময় এসেছে বাবা-মা হিসেবে আমাদের আরও সচেতন হওয়ার।
সন্তানের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ রাখা, কোথায় যাচ্ছে নজর রাখা, কার সঙ্গে মিশছে খেয়াল রাখা—এসব খুব জরুরি। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অনলাইনে অপরিচিত কারও সাথে যোগাযোগ, ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও সন্তানদের সচেতন করা প্রয়োজন।
আমরা অনেক সময় ভাবি, “আমার সন্তান তো ছোট”, “আমাদের এলাকায় এসব হয় না”, “চেনা মানুষ কখনো খারাপ হতে পারে না”—কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভয়ংকর। তাই ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করে সন্তানদের সাথে নিয়মিত কথা বলতে হবে।
সন্তানদের শুধু ভালো স্কুলে ভর্তি করানো বা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং আত্মরক্ষার শিক্ষা দেওয়াটাও এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সব বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ—আজই অন্তত কয়েক মিনিট সময় নিয়ে আপনার শিশুর সাথে কথা বলুন। কারণ সচেতনতার একটি ছোট্ট আলো অনেক সময় একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।
তথ্য সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
সংবাদ শিরোনাম: শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা–হত্যা
খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সঙ্গে খুঁজতে যান আসামি : পুলিশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

