somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নববর্ষের কুইজ:

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা গল্প বলি।

এরশাদ নামের এক ভদ্রলোক বিশাল জাহাজ ভাড়া করে নৌবিহারে গেছেন। জাহাজের ডেকে এই মুহুর্তে তার সাথে দু'জন ভদ্রমহিলা, নাম হাসু আর খিলি।

এরশাদ চার্মিং মানুষ, ডেকে বসে চুটিয়ে গল্প করছেন, দুজনের সাথেই। কিছুক্ষন এর সাথে, তো কিছুক্ষণ ওর সাথে। হঠাৎ দুজনের একজন বলে উঠলেন, "এ্যাই এশু, বলোনা তোমার বার্থডে কবে?"
চার্মিং এরশাদ লাজুক হাসি হাসলেন। একটু দম নিয়ে, এরপর দুষ্টুমিভরা চোখে বললেন, "কেন? কী হবে আমার জন্মদিন জেনে?"
আরেকজন ভদ্রমহিলা বললেন, "আগে বলোইনা, আহা! তারপর দেখবে কী করি?"
প্রথমজন মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন, "কী আর করবে? ব্রেকফাস্টে ডাকবে।"
অন্যজন মুচকি হেসে বললেন, "হি হি হি! লং ড্রাইভেও নিয়ে যেতে পারি।"
এরশাদের ফর্সা মুখ লাল হয়ে গেলো। বুঝতে পারলেন একটু হার্টবিটও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে, অভিজ্ঞ এরশাদ জানেন কিভাবে এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়! গলায় বাড়তি কিছুটা আহ্লাদ যোগ করে বললেন, "অত সহজে তো বলবোনা, তবে তোমাদের কিছু তারিখ বলি, এগুলোর মধ্যে কোনো একটা হবে।"

দু'জন ভদ্রমহিলাই বেশ উদগ্রীব হয়ে উঠলেন। এরশাদ দুজনের মাথায়ই আলতো করে টোকা দিয়ে বললেন, দেখি তো কার মাথায় কেমন বুদ্ধি!
এরপর এরশাদ সাহেব নিচের বারোটা তারিখ বললেন:

জানুয়ারি ১৩, জানুয়ারি ২২, জানুয়ারি ২৮
ফেব্রুয়ারি ১, ফেব্রুয়ারি ১১, ফেব্রুয়ারি ২২
মার্চ ৫, মার্চ ২৩
এপ্রিল ১, এপ্রিল ৫, এপ্রিল ১১, এপ্রিল ১৩


এর মধ্যে এক ভদ্রলোক এসে তিনজনকে কফি পরিবেশন করলেন। মাথায় টুপি, গালভরা দাড়ি, কাঁধে গামছা। ভদ্রলোকের চেহারায় একটা বিরক্তভাব, বোঝা যাচ্ছে ডেকে দাঁড়িয়ে জনাব এরশাদের এসব কর্মকান্ড তিনি ভালো চোখে দেখছেননা, অথবা ঈর্ষা বোধ করছেন। দুই ভদ্রমহিলাও লোকটার আচরণে থমকে গেছেন। এরশাদ কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেন। জাহাজ কর্তৃপক্ষকে কমপ্লেইন করবেন, এজন্য ভদ্রলোকের পকেটে সাঁটা নেমপ্লেটে চোখ বুলিয়ে নিলেন; নাম লেখা, কাদের সিদ্দিকী।


কাদের সিদ্দিকীর অযাচিত কর্মকান্ডে ডেকের থমকে যাওয়া আবহাওয়ায় আবার তারুণ্যের উচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এরশাদ প্রাণপণ। দু ভদ্রমহিলার একজনকে একপাশে নিয়ে গিয়ে কানে কানে কী যেন বললেন।
অন্যজন ততক্ষণে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন। অভ্যস্ত পায়ে তাঁর দিকে এগিয়ে এসে নিয়ে গেলেন অন্যপাশে, কানে কানে তাঁকেও কী যেন বললেন।

এবার প্রথম জনের দিকে মুখ ফিরিয়ে, ভদ্রমহিলাকে কোনোরকম রাগ দেখানোর সুযোগ না দিয়েই, গালভর্তি হাসিমুখে দুজনকে উদ্দেশ্য করেই বললেন, "হাসুকে আমি আমার জন্মের মাসটি বলেছি। আর খিলিকে বলেছি জন্মের দিন!"

অর্থাৎ, এরশাদের জন্মদিন যদি ৩১ শে জুলাই হতো, তবে এরশাদ হাসুকে বলেছেন "জুলাই", আর খিলিকে বলেছেন "৩১"।


এরশাদ এটুকু বলার পর হাসু ক্রুর হাসি হেসে বললেন, "আমি মানছি আমি বলতে পারবোনা এরশাদের জন্মদিন কবে। তবে আমি এটাও জানি যে, খিলিও সেটা বলতে পারবেনা", এরপর নিচু স্বরে আরো কী যেন বললেন, এরশাদের কানে সেটা "বিশেষ করে ওনার বুদ্ধিসুদ্ধির যে দশা!" এমনটা শোনালো।

তবে কানের সমস্যায় ভোগা এরশাদ ভালো না শুনতে পেলেও খিলি ঠিকই শুনতে পেলেন। "চুপ বেয়াদব!" বলে গর্জে উঠতে গেলেন, তবে কোনোভাবে রাগ সামলে আহ্লাদি স্বরে বললেন, "ওরে হাসু (মনে মনে বললেন, কুটনি কোথাকার!), বেশী কথা বললে এমনেই ধরা খেতে হয়। আমি এতক্ষণ জানতামনা এরশাদ বেইবির জন্মদিন ঠিক কবে, তবে এখন আমি জা~~নি।"

"কী! এটা হতে পারেনা!" হাসু রুদ্র মূর্তি ধারণ করলেন।

তবে এর মধ্যে কাদের এসে ঠান্ডা আইসক্রিমও দিয়ে গেছেন। সেটা মুখে দিয়ে মাথা কিছুটা ঠান্ডা হতেই আবারও মুখে বিজয়ীর হাসি ফুটে উঠলো হাসুর। মনে মনে বললেন, "তুই জানবি, আর আমি জানবোনা সেটা কি হয়?"
এরপর এরশাদের দিকে তাকিয়ে বিগলিত কন্ঠে বললেন, "এশু বাবু, এখন আমিও জানি তোমার জন্মদিন কবে। হি হি হি, সেদিন লং ড্রাইভে যাবে?"

===========================================
প্রশ্ন: বলুনতো এরশাদের জন্মদিন কবে?

পি.এস. :
১। এই প্রশ্ন সিঙাপুরের স্কুলের ১৪ বছর বয়সি বাচ্চাদের পরীক্ষায় দেয়া হয়। The World is pretty much crazy!
২। উপরের গল্পের সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে কোনো মিল পেলে সেটা আপনার সমস্যা, আরো ভেঙে বললে, সবকিছুতে আপনার অতিমাত্রায় যোগসূত্র খুঁজতে যাবার প্রবণতার সমস্যা। wink ইমোটিকন
আমি কোনোভাবেই দায়ী নই।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুভ জন্মদিন প্রিয় ত্রিরত্ন।

লিখেছেন এস.কে.ফয়সাল আলম, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৩৫



আজ যখন ঢাকাগামী ট্রেনের সিটে বসে মোবাইল থেকে এই পোষ্ট লিখছি, তখনও প্রিয় সামু ব্লগ দেশের বেশিরভাগ ISP তে ব্লক! ব্লগের সেই চিরচেনা দিনগুলি আস্তে আস্তে যেন স্মৃতিগত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই পাগলের ঝগড়া

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৫


শহীদ্লু ইসলাম প্রামানিক

দুই পাগলে গাছের নিচে
করছে বাড়াবাড়ি
হায়! হায়! হায়! করছে একজন
আরেকজন আহাজারী।

এমন সময় এক পাগলে
দিল গালে চড়
শব্দ হওয়ায় আরেক পাগল
পেল ভীষণ ডর।

ডরের চোটে বলছে পাগল,
এমন করলি কেন
এটম বোমের মতই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কূটনামীগুলো করলে আপনি ক্ষমতা লাভ করবেন ! :P

লিখেছেন রাকু হাসান, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৪১




সব কিছুই একটা নিয়মের মধ্য থেকেই করতে হয় । কূটনামী কিংবা ক্ষমতাবান হওয়ারও কিছু নিয়ম আছে ।
সেগুলো নিয়েই আজকের পোস্টে গোপন সূত্র শেয়ার করবো ;) । যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুটুম

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:২৬



শেষরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমার বেহালার সুর শুনতে ইচ্ছে করে। বেহালা যে আমি খুব ভালোবাসি তা নয়। তবে শেষ রাত সময়টা রহস্যময়। এ সময় মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দের ভার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×