somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: অনাহুত: শেষ পর্ব

১৯ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বসার ঘরেই হুজুর আর কালামের শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আব্বাও হুজুরের সাথে বসলো ঘরে। তিতলি চুপচাপ আব্বার পাশে বসে ছিল। একথা সে কথার পরে আব্বা বললো -

- হুজুর আপনি আসায় আমি খুব খুশী হয়েছি। কিন্তু একটা কথা, আমার বলতে খুব খারাপ লাগছে আপনাকে। আমার বাসার অবস্থা তো দেখছেন। দুইজন বাড়তি মানুষ কোথায় জায়গা দিব বলেন? এই টাকাটা রাখেন। আজ রাতটা থাকেন। কালকে আপনাকে অন্য কোথাও জায়গা দেখে নিতে হবে। আমার অপরাধ নিবেন না হুজুর।

এখানে আসার পর হুজুর সারক্ষণ হাসিমুখে ছিলেন। এই প্রথম হেসে কথা বলতে পারলেন না।
- না বাবা...আইচ্ছা, আমি দেখি...

অনেকদিন আগে চারতলার নীপু ভাই কোথার থেকে যেন একটা বাচ্চা বিড়াল এনে তিতলিকে দিয়েছিল। বিড়ালটার নাকি মা মারা গেছে, কেউ না পুষলে এটাও বাঁচবে না। একদম সাদা বিড়াল ছানাটাকে হাতের পাতার মধ্যেই ধরা যায়। পিচ্চি, এইটুকু...একদম। ভয় শুধু মাকে। মা কিছুতেই এই তিনতলার উপরে বিড়াল রাখতে দিবে না। তিতলি আর রণক বুদ্ধি করে ছোট্ট একটা জুতার বাক্সের ভেতর ভরে বিড়াল বাচ্চাটাকে খাটের তলায় রেখে দিল। আর সেটা এমনই বোকা, ঠিক খাওয়ার সময় কিভাবে যেন জুতার বাক্স থেকে বের হয়ে এসে মায়ের পায়ের কাছে ঘুরতে লাগলো। মাতো প্রথমে ভয় পেয়ে এক লাফে সরে গেলো। পরে তিতলি আর রণককে ভীষণ বকে দিয়ে বললো -
- যাও এটাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আসো।

- এতো শীতের মধ্যে বাইরে নিলে মরে যাবে তো!

- কোন কথা শুনতে চাই না। যাও!

প্রথমে ওরা গেল নীপুর বাসায়। নীপু ভাইয়েরও একই সমস্যা। তাই বাধ্য হয়ে ছাদে গেল। ছাদের সিঁড়িঘরে তিতলি আর রণক শীতে কাঁপতে কাঁপতে বিড়াল ছানাটাকে ছেড়ে দিয়ে এলো ঠান্ডার মধ্যে। বাচ্চাটা কিছুতেই ওদের কাছ ছেড়ে নড়তে চাইছিল না। ওর জন্য কষ্টে মনটা মুচড়ে উঠছিল তিতলির। তবু জোর করে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে চলে এসেছিল ওরা। সেদিন রণক ঘুমিয়ে পড়ার পরেও অনেকক্ষণ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল সে।

আজ অনেক অনেকদিন পরে আবার বিড়াল ছানাটার কথা তার মনে পড়লো। ধীরে ধীরে বাবার পাশ থেকে উঠে ঘরে চলে গেল তিতলি।...

(শেষ)

প্রকাশ: পরবাস

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×