somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঠ ফাটা রোদ্দুর, ঠোঁট ফাটা শহর

০৭ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাওড়া স্টেশন থেকে তামিলনাড়ুর কাটপাডি স্টেশনের দূরত্ব ১৭০০+ কিঃমিঃ। প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হিসেবে ৩০ ঘন্টার এই জার্নিটা বেশ উপভোগ্য। মাঝখানে উড়িষ্যা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে নেমে একটু হাঁটাহাটি করেছি, স্টেশন থেকে স্থানীয় কিছু খাবার কিনেছি।

বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে ইলেক্ট্রিক ট্রেন ছুটে চলেছে— কখনো বনভূমি, কখনো নদী আবার কখনো মরুভূমি পার হচ্ছি। এসি কামড়ায় শুয়ে গায়ে কম্বল জড়িয়ে জানালা দিয়ে এইসব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে বেশ লাগছে। কখনো বই পড়ছি, আবার খানিকটা ঘুমোচ্ছি।
দেড় দিন পর যখন কাটপাডিতে পৌঁছলাম তখন দুপুর, ঘড়ির কাটা ২ অতিক্রম করেছে। জানালার কাচ দিয়ে রোদের তীব্রতা দেখছি, চোখ ঝলসে যাচ্ছে।

কিন্তু ধাক্কাটা খেলাম ট্রেন থেকে নামতেই। যেন গনগনে আগুনের একটা হাওয়া শরীরে ধাক্কা দিয়ে গেল। টানা ৩০ ঘন্টা কৃত্তিম শীতে গায়ে কম্বল জড়িয়ে রেখে শরীর এমনিতেই নাজুক হয়ে গেছে। তারপর হঠাৎ এই তীব্র তাপমাত্রায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেল।
গুগল করে দেখি তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সব চেয়ে বড় সমস্যা পার্বত্য এই শহরে বাতাসের আর্দ্রতা একদম কম। অটোতে চেপে ভেলোর পৌঁছলাম। আধ ঘন্টাতেই ঠোঁট ফেটে কাঠ। কথা বলতে যেয়ে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়ে গেল। মে মাসের তীব্র উত্তাপেও এভাবে ঠোঁট ফাটতে পারে সেবারই প্রথম দেখলাম।

হোটেলে পৌঁছেই ঠোঁটের জন্য অয়েনমেন্ট কিনলাম আগে। আমরা গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষরা সাধারণত গরমে পাতলা হাফ হাতা কাপড় পরি। কিন্তু এখানে হিসেব ভিন্ন। একদিনেই শরীরের চামড়া ঝলসে গেছে। পরের দিন থেকে সানবার্ণ থেকে বাঁচতে ফুল হাতা মোটা শার্ট পরে আর রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে বের হতাম।

সমগ্র শহরটিই মূলত তিন দিক থেকে ঘেরা একটা পাথুরে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। দিনের বেলায় পাহাড়ের গায়ে সূর্যের তাপ প্রতিফলিত হয়ে শহরটা খা খা করে পুড়তে থাকে। স্থানীয় লোকদের মতে কালো এই শিলা পাহাড়টি আগে সাদা ছিলো। সূর্যের তাপে পুড়তে পুড়তে কালো হয়ে গিয়েছে।

সারাদিন সারা শহর টই টই করে ঘুরে বেড়াতাম। দিক নির্ণয়ের জন্য পাহাড়ের একটি চূড়াকে ধ্রুব তারার মতো ব্যাবহার করতাম। এই চূড়াটি অনেক দূর থেকে দেখা যায়। চূড়ার ওপর একটি গির্জা, তার একদম নিচেই আমাদের থাকার হোটেল।
পথ হারিয়ে ফেললেই পাহাড়ের চূড়া বরাবর হাঁটতে থাকতাম। ভেলোরকে প্রাচীণ দূর্গের শহর বলা হয়।
টিপু সুলতানের ভেলোর ফোর্ট, তার কন্যা ও বিবিদের মাজার, তার সেনাপতির মাজার, মসজিদ, শহরের ঐতিহ্য; এসব গল্প আরেকদিন বলবো।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:০৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×