somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু খানি দুষ্টুমি আর অনেক খানি ভালোবাসা! (ভালোবাসার কবি)

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুপন্তি ক্লাস ফাইভ এ পড়ে!!!!বেশ বড় হয়ে
গেছে!!!
চোখের দৃষ্টি কত সুন্দর!!
আমি বারবার তাকিয়ে থাকি!!!!
অহনার মতই চোখ দুটি!!!অহনা আমার স্ত্রী আর
রুপনি আমার একমাত্র মেয়ে!
আমরা (অহনা আর আমি)দুজনে ওকে এখন
বোঝানোর চেষ্টা করতেছি যে ওর এই বয়সে
পড়ালেখার জন্য বাইরে যেওয়া ঠিক হবে না!!!
কিন্তু রুপন্তি যাবেই!
আমি বললাম " আম্মু তুমি বাইরে গেলে আমরা
কাকে নিয়ে থাকবো? "
-----জানিনা!!
অহনা জিঞ্জাসা করলো" মা এমন করে কেউ
উত্তর দেয়? "
----- হ্যা আমি দিই!
আব্বু সবসময় বেশি বুঝে!!!!
কি হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডে কিছুই বুঝতে
পারলাম না!
অহনা রুপন্তির কথা শুনে উঠে এসে রুপন্তিকে
অনেক জোরে একটা থাপ্পড় দিলো! অহনা রুমে
চলে গেলো!
আমি দৌড়ে আসলাম মেয়ের কাছে!
দেখি ঠোট কেটে গেছে!!!আমাকে জড়িয়ে ধরে
কাদতে শুরু করলো রুপন্তি !!
মেয়েটা আমাদের খুব আদরের!!!!!
কোনদিন আমরা কড়া ভাষায় কথা বলি না!
রুপন্তি রাতে না খেয়ে ঘুমোতে গেলো!!
অহনা আর আমি ওর রুমে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ
ডাকাডাকি করলাম!!!
দরজা বন্ধ করে বসে আছে!
অহনাও খেলে না রাতে!
আমিও খেলাম না!!
অহনা বিছানায় অন্যপাশ ঘুরে শুয়ে আছে!!
আমি জিঞ্জাসা করলাম " জান ওকে এত জোরে
না মারলেই পারতে! বাচ্চা মেয়ে!!!"
অহনা কিচ্ছু বললো না!
আমি ওকে এদিকে ঘুরালাম দেখি কাদতেছে!!!!
গাল ভিজে গেছে কান্নায়!
অহনা আমাকে জড়িয়ে ধরলো!
কাদতে কাদতে বললো " জান আমি ওকে মারতে
চাইনি গো!"
----- আমি জানি সোনা! বাচ্চা মেয়ে দেখবে
কুছুই মনে থাকবে না!! "
জান তুমি ঘুমাও সোনা!!
.
অহনা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে!!
এমন সময় রুপন্তির গলা শোনা গেলো!
দড়জা খুললাম!
রুপন্তির চোখ মুখ ভেজা!!!
কাদতেছিলো!!
রুপন্তি বললো " বাবা আজকে তোমাদের সাথে
ঘুমাবো! "
আমি বললাম
----মা তুমি তো বড় হয়েছো!
---- বাবা ঘুমোবো!!!
আচ্ছা মা আসো!!!
রুপন্তি ভেতরে ঢুকেই বিছানায় দৌড়ে গেলো!
অহনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো "
'মা-মনি স্যরি গো!
আমি আর এরকম করবো না!!"
.
বলতে বলতে ও কেদেই ফেললো!!
দেখি অহনাও পাশ ফিরে ওকে বুকে নিলো!!
দুজনেই কাদতেছে!!
আমার চোখে যে কখন পানি চলে আসলো কা
খেয়ালই করি নি!
আমি কাছে গেলাম!!
মা - মেয়ের মধুর এ মিলন দেখে আমার চোখেও
পানি চলে এসেছে তা গোপন করার কোনন
চেষ্টাই করলাম না ""!
রুপন্তি অহনাকে বারবার স্যরি বলতেছে!!!
অহনা কান্না ভেজা কন্ঠে বললো " আম্মু স্যরি
বলতে নেই,। বাবকে ওভাবে বলতে হয় না!
রুপন্তি মাথা নেড়ে উত্তর দিলো
------ আমি আর বলবো না!!!!
.
.
অহনা, রুপন্তির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে!!
রুপন্তির চুলগুলো ঠিক অহনার মত!!
,আমি দুজনার এত আদর সহ্য করতে পারছি না!!
খুব লোভ হচ্ছে!!!
আমি কাশি দিলাম!!
.
বললাম "কি সারাদিন আমাদের মেয়েটাকে
বুঝি তুমিই আদর করবে? আমার বুকেও একটু দাও "
দেখি দুজনেই হাসতেছে!
রুপন্তি বললো " বাবা এভাবে একদম বলবে না!
আমার লজ্জা করে! "
.
মুখে যদিও বললো লজ্জা করে তারপরেও এগিয়ে
এসে জড়িয়ে ধরলো আমাকে!!!
আমি বিছানায় বসে আছি!
রুপন্তির মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে
দিচ্ছি!!
রুপন্তি বললো ": বাবা আসো ঘুমাই!!
------আজকে কার কাছে ঘুমোবে?
------আম্মুর কাছে!!
বাবা তুমি রাগ করো না সোনা!!!
------ না মা! রাগ করবো কেনো!
.
অহনার দিকে তাকিয়ে দেখি ও বিজয়ী হাসি
হাসতেছে!!
অহনাকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে!
গালে পানি মুখে হাসি!!!
রুপন্তি অহনার বুকে মাথা রেখে শুতে চাইলো!
তখনই রুপন্তি বললো " মা-মনি আমার খুব খিদে
পেয়েছে!!
.
আরে তাইতো!
আমরা তো কেউই খাই নি!!
তিনজন মিলে ১২ টার সময় খেতে বসলাম!!!
অহনা রুপন্তিকে খাইয়ে দিচ্ছে!!
ও খুব মজা পাচ্ছে!
অহনাও মজা করতেছে!
রুপন্তি তার আম্মুর আঙুলে কামড় দেয়ার মিথ্যা
অভিনয় করতেছে!!
দেখতে খুব ভালো লাগতেছে!!!!!!
অহনা আমার দিকে তাকিয়ে বললো " এই জান!
খাবে না তুমি? একটাও তো খাচ্ছো না! নাকি
তোমাকেও খাইয়ে দিতে হবে??? "বলেই হেসে
উঠলো দুজনে!
.
অহনার প্রশ্নে প্রস্তাব টা পরিষ্কার বোঝা
যাচ্ছে!!!!
আমি অভিনয় করে বললাম " আমি খাবো না!!তুমি
খাইয়ে দাও "!
তখন রুপন্তি হেসে বললো " বাবা তুমি আস্তে
আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছো! দেখবে আমার থেকে
ছোট হয়ে যাবে!!আসো আমার পাশে এসে বসো!
"
বলেই খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো!
অহনাও হাসতেছে!!
আমি গিয়ে রুপন্তির পাশে গিয়ে বসলাম!!
অহনা কিছুটা বিরক্তির অভিনয় করলে! অহনা
বললো " যত দিন যাচ্ছে তোমাদের দুজনের বয়স
কমতেছে শুধু! আমি শুধু খাইয়ে দিই আমাকে কেউ
খাইয়ে দেয় না! "
আমি বললাম "ওরে বাবা! সোনা রাগ করেনা!
তোমাকে আমি খাইয়ে দেবো!"
----- "ইস মেয়ের সামনে কিভাবে কথা বলে!
লজ্জা করে তো!!!"
রুপন্তি আবার খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো!!!
অহনা আমার দিকে খাবার নিয়ে হাত বাড়িয়ে
দিলো!!!!
আমি তাকিয়ে আছি অহনার দিকে!
অহনার হাতে খাবার!
আমি খাচ্ছি না দেখে অহনা অভিনয করে
বললো " বাবু মুখ খুলো দেখি! "
সাথে সাথে রুপন্তির হাসি আরো বেড়ে
গেলো!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:২৮
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপেল নিয়ে যত গল্প পর্ব - ০১

লিখেছেন অধীতি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১১

আপেল, আমাদের পরিচিত ফল সমুহের ভেতরে অন্যতম। দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি এই ফলটির আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আপেল এক অদ্ভুত ফল। বাসায় মেহমানকে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোগী দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×