হিমুর গল্প পড়ে কার এক বারের জন্য হলেও হিমু হতে ইচ্ছে করেনি?! মিসির আলীর গল্প পড়ে মিসির আলী হতে না চাইলেও ওর মত প্রতিটা জিনিসের মধ্যে লজিকাল ব্যাখ্যা খোঁজার বাতিক কার হয়নি?
প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পর মেয়ের বান্ধবী কে বিয়ে করাতে তার জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটারের সেই রকম সঙ্গীন অবস্থা হয়েছিল!শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল প্রায়!আমিও ব্যতিক্রম ছিলাম না এই ব্যাপারে নাক সিটকানোর দলে!কিন্তু উনি এমোনি একজন মানুষ কিংবা উনার সৃষ্টি এমোনি যে কিছুদিন যেতে না যেতেই এই সব কাহিনী কোথায় যেন হারিয়ে যেতে লাগল...মানুষ ঠিকই আবার তার ভক্ত হওয়া শুরু করে দিল...
তার নাটক, সিনেমা আগে যেমন ভাল লাগত, ইদানীং কালের অনেকটাই একঘেয়েমী, একই টাইপের নাটক দেখে বিরক্ত হলেও ঠিকই সুযোগ পেলে দেখে ফেলতাম,- অনেকটা বাচ্চাদের ভূতের সিনেমা দেখার
সময় চোখে আঙ্গুল দিয়ে কিন্তু কিছুটা ফাঁক রেখে দেখার মত করে...ভয়ও লাগে আবার দেখতেও ইচ্ছে করে, আর উনার বেলায়, উনার নাটক বিরক্তও লাগে, কিন্তু আবার দেখতেও ইচ্ছে করে!
একটা মানুষের সম্মোহনী ক্ষমতা কতটা থাকতে পারে, তাকে না দেখলে বোঝা যায় না, সে ইদানীং একি টাইপের নাটক দেখিয়ে বিরক্ত করলেও ঠিকই তার মধ্যেও কিছু না কিছু হাসি কিংবা মজার কিংবা হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মত ব্যাপার স্যাপার থাকত..ইচ্ছে না থাকলেও চোখ চলে যেত সেখানে, আর একবার চোখ চলে গেলে পাছাটাও অটো্মেটিক সোফায় লেগে যেত...
ঢাবি'তে পড়ার সময় অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স নামটা যদিও কখনো আমার এবং আমার মত আরো অনেকেরই ঠিক পছন্দ ছিল না। যার কারনে ডিপার্টমেন্টের নাম চেইঞ্জের জন্য আন্দোলনও করেছিলাম আমরা। শেষমেষ নাম চেইঞ্জ হয়ে কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লাগলেও অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স টুকু বাদ দিতে সমর্থ হতে পারিনি আমরা। অবশ্য আমরা না চাইলেও এই নামের আলাদা একটা ভ্যালু ছিল সব সময়। এই নাম বললে লোকে একটু সমীহ করে দেখত...ভাবত আমরা বুঝি বেশ ভালো স্টুডেন্ট!! এটার পেছনে অনেক ইম্পর্টান্ট কারনের সাথে সাথে হুমায়ূন আহমেদের কিছুটা অবদান আছে বলে আমি মনে করি! তার ''শুভ্র'' ক্যারেক্টারটা বেশ শক্তিশালী একটা ক্যারেক্টার।হিমুর মত না হলেও ওরও অনেক ফ্যান ছিল। সে পড়ত এই ডিপার্টমেন্টে! জানিনা হুমায়ূন আহমেদ এই ডিপার্টমেন্টকেই কেন বেছে নিয়েছিলেন!!যাই হোক, এই একটা কারনে এই নামের প্রতি আমাদের মনের কোনায় একটু হলেও কিছুটা সমীহ কাজ করত!!
যাই হোক, অনেক কিছুই মনে পড়ে যাচ্ছে আজকে। চারিদিকে শুধু তাকে নিয়েই হাহাকার। ফেইসবুকের প্রত্যেকের স্ট্যাটাসেই শুধু উনি। এত ভক্ত বানিয়েছিলেন উনি?! উনি কি দেখতে পাচ্ছেন উনাকে নিয়ে উনার ভক্তদের মনে আজ কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে?!...না, কিছুতেই মনটা খারাপ হওয়া থেকে বিরত হচ্ছেনা।জানিনা কবে ঠিক হবে তার জন্য এই মনোবেদনা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


