ঠিক হলো আমাদের বাড়ি থেকে দুই ঘন্টা দুরে সেডোনা নামের একটা সিনিক বিউটি আছে ওখানটায় যাব। সেখান থেকে আরো দুঘন্টার রাস্তা পেট্রিফায়েড ফরেস্ট নামে একটা জায়গা আছে সেখান হয়ে ঘরে ফিরব। পুরো একদিনের ঝটিকা সফর।
ঘন্টা দুয়েকের ড্রাইভিং শেষে আমরা পেঁৗছে গেলাম রেড মাউন্টেন পর্াকে (ছবি 1,2)। শুধু লাল পাহাড়ের রাজত্ব সেখানে। এতো টকটকে লাল রঙ দেখে রাব্বী তো মন্তব্য করেই বসল, "খাইছে কেউ ডেইলী লাল রঙ ঢালে নাকি এইখানে। পুরা লালমাই পাহাড় মনে হচ্ছে।"
রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আর অতীতের যেন আমার কানে কানে কথা বলে যাচ্ছে। স্তরে স্তরে জমে ওঠা পাহাড় কোন এককালের অগ্নুৎপাতের সাক্ষী রয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ের গায়ে সাদার মাঝে লাল রঙের পোজ দেয়া স্তর গুলো যেন আমাকে কোন গল্প বলতে চাইছিল। গাড়ীর গতির সাথে না পেরে সরে সরে যাচ্ছিল তারা।
সেই লালমাই পাহাড় পার্কে এসে আমরা ছবি টবি তুললাম। আমেরিকানদের দেখলাম এইখান থেকে শুরু হওয়া ট্রেইল ধরে হাইকিং এ যাচ্ছে। কিন্তু আমদের মূল টাগের্ট সাইট দেখা। তাই পটাপট ছবি তোলা হতেই শুরু করলাম চলা।
মাঝখানে শহরের মাঝে কিছু যায়গা পেলাম আর্টিস্টিক স্কালপচার আর ছবি বিক্রি করে। একেকটা স্কাল্পচারের দাম 26-30 হাজার ডলার। দেখে আমাদের মাথা ঘুরে উঠল। ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ। কিন্তু বাইরে ব্রোঞ্জের মুর্তির কাছে খায়েশ মিটিয়ে ছবি তোলা হল। (ছবি 3,4)
কিছুদুর যেতে একটা ছোট্ট জলাশয় পড়ল। সেখানে নেমে কিছুক্ষন আমরা আড্ডা দিলাম। (ছবি - 5) তারপর পথে বিভিন্ন জায়গায় সিনিক বিউটি থাকলেও সময় সল্পতার জন্য আমরা শুধু আর মাত্র একটি স্পটে নামলাম। ছবি (6-8)।
এই সময়টা আমি ড্রাইভিং এ ব্যাস্ত ছিলাম বলে ঠিক মত উপভোগ করতে পারিনি। এই বিশালত্ব পর্বত, গভীর খাদের পাশ দিয়ে রাস্তা, হাজার ফুট খাদের নীচে বয়ে চলা বরফ গলা নদী এসব দেখে মনে হচ্ছিল ঝটিকা সফরে আসা উচিৎ হয়নি। হাতে সময় নিয়ে আসা উচিৎ ছিল। প্রকৃতির মাঝে আরো কিছুটা সময় দিলে মন্দ হত না।
তারপর আমরা সেডোনা ছেড়ে রওনা দিলাম পেট্রিফাইড ফরেস্টের উদ্দেশ্যে।
(পরের লেখা 'পেট্রিফাইড ফরেস্ট - পাথর হয়ে যাওয়া বনভুমি' তে সমাপ্য)
ছবি পরিচিতি
1। রেড মাউন্টেন পার্কে আমি
2। আমি ও মৌটুসী রেড মাউন্টেন পার্কে
3। স্কালপচার বিক্রির দোকানের সামনে একটি ব্রোঞ্জের মুর্তি ও আমি
4। আমি ও মৌটুসী আরো কিছু মুর্তির সামনে
5। আমরা ছোট্ট একটা পাহাড়ী নদীতে
6। গাড়ী থেকে ক্যামেরা বন্দী করার অপচেষ্টা
7। একটা স্পটে আমরা সবাই
8। আমি আর টুসী - পিছনে সর্পিল রাস্তার একাংশ দেখা যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




