somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেমসেকের পরিচালক মিরা নায়ারের সাক্ষাৎকার

২২ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালাম বম্বে ও মুনসুন ওয়েডিং খ্যাত পরিচালক মিরা নায়ার এবার তৈরি করলেন নেমসেক। বাঙালি বংশোদ্ভূত লেখক ঝুম্পা লাহিড়ি এ উপন্যাসটির জন্যই পুলিটজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। এতে আছে কলকাতা থেকে নিউ ইয়র্কে মাইগ্রেট করা দম্পতি আশোক ও অসীমার কাহিনী। আমেরিকান ডৃমের স্বপ্নে 30 বছর পার করার পরও এ দম্পতির জীবনে পুরনো মূল্যবোধ ও নতুন পৃথিবীর সংঘর্ষ থেকেই যায়। অন্যদিকে তাদেরই সনত্দান গোগোল নিজেকে খুজে পায় আমেরিকান আইডেন্টিটির ভেতর। ইরফান খান, টাবু, কাল পেন অভিনীত মুভিটি ইতিমধ্যেই বিশেষ সাড়া ফেলেছে। মুভি নিয়ে নিউজউইক ম্যাগাজিনের সঙ্গে কথা বলেছেন মিরা নায়ার।

নেমসেক কি নিয়ে তৈরি?

এটা মা ও ছেলেদের কাহিনী। আমারও একটি টিনএজ ছেলে আছে। আমি নিজের অভিজ্ঞতাকেই মুভিতে রূপায়িত করেছি। কিন্তু যে জিনিসটা আমাকে মুভি তৈরিতে উৎসাহ দিয়েছে তা হলো বঞ্চনা। এমন একটি দেশে বাবা-মাকে হারানো যা সম্পূর্ণ নিজের নয়। প্রথম বারের মতো মৃতু্যর অভিজ্ঞতা লাভ করা।

এটা বাড়ির গল্পও। আপনার নিজের বাড়িটা কোথায়? আপনার তো দিলি্ল, নিউ ইয়র্ক, আফৃকায়... বাড়ি আছে।

নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর বিলাসের মধ্যে কিছু সুবিধা আছে। আমার বাড়ি সেখানেই যেখানে আমার পরিবার থাকে। আমি বাড়ি বানিয়েছি বসবাসের জন্য, খোলা জায়গায় নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য আর আশ্রয়ের জন্য। আমরা ম্যানহাটানে থাকি। আমার ছেলের স্কুল শেষ হলে আমরা ইউগান্ডার কামপালা যাই, সেখানে তিন মাস থাকি। একইভাবে আমার মুভি ও পরিবার প্রতি বছর আমাকে ইনডিয়ায় নিয়ে যায়। শুরুতে এক জায়গার জন্য আরেক জায়গা ছাড়ার ব্যাপারটা আমার জন্য বিভ্রানত্দিকর ছিল। কিন্তু আমি এ বিভ্রানত্দিটা মুভিতে ব্যবহার করার পর দেখলাম জীবনের অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমার যা নেই তার জন্য আমি এখন হা হুতাশ করি না। আমি প্রত্যেক জায়গায়ই পরিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে শুরম্ন করেছি।

সিনেমাটি নিয়ে আপনার কি স্বপ্ন ছিল?

আমি একটি গভীর ও অপূর্ব প্রাপ্তবয়স্ক প্রেমকাহিনী বানাতে চেয়েছি। গোগোলের বাবা-মার প্রেম কাহিনী এমনই যে, আমি সচরাচর এ রকম দেখি না। এটা নীরবতার গল্প। কিচেন টেবিলে এক কাপ চা দু'জনে শেয়ার করা, পরস্পরকে দেখার গল্প। সঙ্গ কাকে বলে ও অংশীদারিত্বের কৃৎকৌশল বলতে যা বোঝায় তার কাহিনী। তরম্নণদের গোলাপ, হিরা, হলমার্কের কার্ড, আই লাভ ইউর ব্যাপার নয়। মুভির দুটি খুটি হলো এ প্রাপ্তবয়স্ক প্রেম আর গোগোলের মানুষ হয়ে ওঠা। এমনকি ম্যানহাটানেও আমি তিন প্রজন্মের সঙ্গে বাস করি। আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে থাকাটা আমার জন্য আনন্দদায়ক। কিন্তু আমেরিকা নিজেকে বার্ধক্যের প্রজ্ঞা থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা তাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছি।

ইনডিয়ান-আমেরিকানদের জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণা কতোটা বাসতব?

1979 সালে আমি যখন নিউ ইয়র্ক যাই তখন লোকে ইনডিয়া প্রায় চিনতোই না। খুব ভয়ঙ্কর একাকী সময় ছিল সেটা। আমি এখন ইন্টারনেটে কিক করলেই দক্ষিণ এশিয়ান নাট্যকার, পাঠচক্র, ফিল্ম ফেস্টিভাল_ সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির পুরো একটা উপরিকাঠমোই দেখতে পাই। ঝুম্পা লাহিড়ি ও আমার জগৎ কসমোপলিটান। আমরা শিল্প, কলেজ নেটওয়ার্ক, প্রতিবাদ ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত। গোগোলের মাধ্যমে মুভিটিতে কলকাতা ও ম্যানহাটানের সমন্বয় ঘটেছে। সত্তরের দশকের যে কলকাতা আমি ভালোবাসতাম আর ম্যানহাটানের সেই সঙ্গীত, ফ্যাশন, মানুষ যারা রাসতায় বারে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।

তার মানে মুভিটি দুই শহরের কাহিনী?

কলকাতা আমার জন্য বিশেষ এক শহর। এ শহরের তিনশ' মাইল দক্ষিণে আমি বেড়ে উঠেছি। গ্রীষ্মের ছুটিগুলো সেখানে কাটিয়েছি। আমি পরে যা হয়েছি তার অনেক কিছুই সেখানে শেখা। সেখানেই আমি প্রথম রাজনৈতিক পথনাটক পেয়েছি। প্রথম মুভি দেখেছি। মহান বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের দেখা পেয়েছি। 18 বছর বয়সে আমি ক্যামবৃজে এসেছি যেখানে নেমসেকের সূচনা। তারপর আমি নিউ ইয়র্কে গিয়েছি। মুভিটি ওই দুই শহর নিয়ে যেখানে আমি শিখেছি, বড় হয়েছি আর দেখেছি। আমি এ দুই শহরকে এমনভাবে চলচ্চিত্রায়িত করেছি যেন সেগুলো একটা শহর। কারণ আমি বিশ্বাস করি, কলকাতা আর ম্যানহাটানের মধ্যে অনেক মিল আছে। এটাই হলো বয়নের সূত্র। দর্শককে ধারণা দেয়া যে, দুই পৃথিবীতে বাস করাটা কেমন হতে পারে। কখনো কখনো আমরা জানি না, আমরা নিউ ইয়র্ক না কলকাতায় আছি।
(সংক্ষেপিত)

অনুবাদ : মাহবুব মোর্শেদ
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:৪০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা তো রাজনীতি করে না !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪১


৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেকদিন মনে থাকবে। কিন্তু ইতিহাসের বড় বাঁকগুলোর মতো এই পরিবর্তনেরও একটা দাম ছিল, যেটার হিসাব আমরা এখনও পুরোপুরি মেলাতে পারিনি। ক্ষমতার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×