somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অইচ্ছে সকল আমাকে দিয়াছো দাও নাই নীল জোনাকি!

১৯ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ভাবছি এখানে সেখানে নিজেকে ছড়িয়ে রেখে চলে গেছো তুমি!কি যে এলোমেলো। শ্রাবন! প্লাবনের দিন শেষে নৈর্ব্যাক্তিক মেঘ নীল নীল হয়ে ভাসছে।
সিগারেটের টুকরা আর ছাইগুলো কার্পেটে পড়েই থাকলো তুমি অন্যমনষ্ক! চুল ছেঁটে হয়ে গেলে নাগরিক।চলে গেলে।
নদী খননের দায় কাঁধে চাপিয়ে তুমি কেমন নিশিপিপাসু!
সমস্তখানে নিজেকে ছড়িয়ে তোমার মনে পড়ে গেছে প্রাচীন; পূর্বজন্মশাপে।

চেতনানিবাসে এতক্ষণ একলা রেখে হাঁটছো শরতের পথে একাকী!
তুমি চলে গেছো।

২.
আমার ও ইচ্ছে করে
কাটাই ভ্রান্তির কাল।
একা
এবং অবশেষ শ্রাবনের সাথে।
তুমিওতো আমার মতই
ঝরতে ঝরতে স্বপ্নক্লান্ত!

৩.
পারিনা আমিতো কিছুতেই পারিনা
শুধু শুধু নীল হয়ে যাই।
থমকে গিয়ে পদ্মপাতায় জল।
আমি কিছুতেই ভাল থাকিনা।
অপেক্ষা করি
স্বাভাবিক হবার গল্পটা
কতদূর গিয়ে সত্যি হয়।
মানুষ স্বপ্ন হয়ে যায় স্পর্শ সত্য হয় না!

৪.
মানুষ এখন আর ভালবাসায় থাকেনা। রক্তে থাকে। মানুষ গোঙায় রক্তে ভেসে যায়। মানুষ খুব রক্তে রক্তে বেঁচে থাকে আজকাল।
একটা রামদা হেঁটে হেঁটে যায় বাজারের দিকে। কিছু মোটা বাঁশ হাতে হাতে ফেরি করে ক্রোধ।
মানুষ এখন ভয়ে ভয়ে থাকে!
রক্তেরা থাকে সাক্ষী আর রিকশার কিছু যাত্রী। কেউ থাকেনা অপেক্ষায়! মানুষ আজকাল আর অপেক্ষায় থাকেনা!
রামদাটি রক্ত সাথে নিয়ে হেঁটে যায় বাজারের দিকে। শাক পালং আর তরকারী নিতে রামদাটি এখন বড় সংসারী!


৫.
বোধের ভেতর থেকে বর্ন আসে।
কেন আমাকে তুমি বৃষ্টি এনে দাও।
আজ নদী দেখি।
জলের সাহস।
আকাশের লাল নিয়ে
ডুবিয়ে দিয়েছে নীল নাগরদোলা!
জল দেখি।
মেজাজের বান।
দেখি তুমি কতদূর যাও।

৬.
পথের ভেতর পড়ে থাকে বিস্ময়বোধক দুটি চিহ্ন।
যেভাবে ঝড় ছিলো ঝড়ের আদলে।
সেভাবে ফিরে যেতে সমস্ত লাগে!
মুদ্রায় দাম বাড়ে সময়ের।
একটা আস্ত হৃদয়কে আর কত কত দামে করতে পারো বাজারী?
ভালবাসা তো হৃদয়ের ডাকনাম!

চিহ্ন পড়ে আছে থাক।
এমন বিস্ময় এই চাঁদ রাতে আঙ্গুর গাছের উপর এসে ঝুলে থাকে লোভে। নেশা মানুষকে করেছে একা।
একা কিন্তু সব চিহ্নই!

৭.
আকাশে চাঁদের প্রদীপ কেবল জ্বলছিলো হৃদয় অনায়াসে যার মমতায় বিদ্ধ হতে পারে! তারপর ডুবে গেল চাঁদ। অজস্র লক্ষ বিন্দুর আবরনে ডুবে ডুবে গেল চাঁদ। অপেক্ষা ছিলো তবুতো..

৮.
কেন কোন সাধ নেই বাঁচবার
কেন নেই কাঙ্খা আমার
কেন ইতিহাস হয়ে যাই
ইচ্ছের কাছে
কেন মনে হয়
সব থেমে গেছে
এ দুপুরকে মনে হয়
নিশুতি রাত!

কেন তুমি নেই
কেন নেই তুমি
কেন এই জ্বর তপ্ত কপালে
তুমি পাঠালেনা শুভেচ্ছা কার্ডে ভরে
কোমল স্পন্দন
কেন এলোনা
ভেসে ভেসে হাওয়ায় স্পর্শীয় হাত?

৯.
সমুদ্র তোমাকে ডেকেছে লোকালয় হীন জলপ্রান্তরে।
জলের ভেতরে তুমি বীজ বুনে দাও টিয়ামন ধান।
মাঠ ঘাট আর বৃষ্টিকে ভালবেসে তুমিও চলেছো এক লালগাড়ি চড়ে। বাদামের বন থেকে কিছু সাধ পাতা ছিঁড়ে নিও রাগে।
সমুদ্র পাড়ি দেবে পাতার নৌকায়
, তোমাকে ডেকেছে জল এসবের ও আগে!


১০.
অবশেষে ধোঁয়া রং বুকের ভেতরে এসে দোল খায় ঘুঙুর হয়ে নাচে।
প্রাচীন শিলামুখ হয়ে যায় মৃত্যুর সমস্ত রূপ নিয়ে বোধের তীব্রতায়।
তুমিও কি এমনি প্রস্তর?
চুমুর গভীরে পাও রং বর্ন নামহীন শ্বাস!
স্বাধ বাড়তে থাকে।
দুঃসহ সেই গন্ধের লোভে সোনালী পাতাকে পান করি-


অতঃপর দেখি নিজেই নিজেকে চকমকি পাথর!

১১.
ঘুম ভেঙে একটি দীর্ঘ চিঠি
ধরো মাথার পাশেই রেখে তুমি কাজে চলে গেছো।
ফিরবে ফিরবেই ক্লান্ত যখন সারাদিন।
ক্লান্ত সারা শরীরে তুমি আমার কোলের কাছে ফিরবে
যখন তোমাকে আশ্রয় দিতে তৈরী করছি
ডেসডিমোনার সাদা রুমাল।
একটা গোলাপ কে বলেছি ঘুমুবার আগে
যে চিঠি লিখেছি তা যেন কিছুতেই না হারায়।
সমস্ত পাপড়ীতে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেন সে প্রস্তুত থাকে
চিঠি হয়ে যেতে।

১২.
মন বসে থাকে।
মন চলে যায়।
মন ফিরে এলে বলে আমাকে ছাড়া সে ভাল থাকেনা।
বৃষ্টি এমন?
মনকে দিয়েছি জলের ওপার।
মন কে দিলাম জলের অতল।
মন কেন নেয় সমস্ত চোখ।
কি করে দেখব বৃষ্টি কেমন?

ভালবাসা কেমন ছিলো মন? আমি না ভুলে গেছি! সিঁড়ি বেয়ে ওঠা? ওপরে খুব উপরের তাকে তুলে রাখা ভালবাসাটাকে সুগন্ধি দিয়ে হাতে তুলে দেয়া তার? যে থাকে ভালোবাসা, অপেক্ষার? ভীড় ভীড় খুব বাড়তে থাকা ভীড়ের ভেতর অস্পষ্ট দুজনে! মুখ নামিয়ে আনলে ছোট্ট চুমু এতটুকু স্পর্শছাড়াই। ভালবাসাটাকি তাই?

সবটুকু নদী মন তোমাকে দিয়ে আমি তৃষ্ণায় মরে যাই!


১৩.
সারারাত জেগে জেগে রাত জাগা অথবা রাতে রাতে জেগে থাকা ঘুম! আমি আমার চক্ষু ফিরে চাইব। তোমাকে দেখতে গিয়ে রেখে এসেছি দৃষ্টি নেশায় মন্দ ফোলা চোখের পাপড়িতে! পোড়া তামাকের গন্ধ ভরা জ্যোছনায়!
সারারাত ঘুম চাইব। রাত রাত জেগে থাকা ঘুম!

১৪.
কোন মাংসের গন্ধ নেই শুধু হাড়ে হাড়ে ঠোকাঠুকি...
অতঃপর আমি তৃনভোজী হয়ে যাই!

১৫.
তোকে রেখে আসি মেঘলা একটা ঘর, ঘর বারান্দা ভেঙ্গে নেমে আসে খয়েরী রং এর টিপ
তোকে রেখে আসি একলা একটা ঘর, তামাক তামাক গন্ধ প্রবল কাশফুল সাদা বীজ
তোকে রেখে আসি বকুল বালক জ্বালাতে শেষ প্রদীপ...
উড়ে উড়ে যায় শহরের পথে রোদ্র নামের পাখি -
পাখিরা দেখেছে বৃষ্টির ফোটা পাখিরা দেখেছে আমার সাথেই তোকে
পথে পথে হাঁটি হেঁটে হেঁটে দূরে রেখেই এসেছি নাকি!

১৬.
নুড়িসকল গহন বোধের ভেতর নড়ে চড়ে
প্রশ্ন করে আমি কে, আমি কে?
রক্ত পড়ে যায় ।
কপাল থেকে টপটপ করে ঝরে যায় রক্তাতীত স্নেহ!
বোধের ওপারে বসে থাকো নিবিড়।
সুতো টান পড়ে।
সুতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে যেতে চায়।
আমি কে? কে আমি? ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ছোঁয়া-
বাড়ে পাগলামী!

১৭.
নিজেকে এত বিদ্ধ করছো?
কর।
প্রশ্নে প্রশ্নে বিদ্ধ করছো?
হ্যা বিদ্ধ হও।
এইসব দিনরাত্রি ভালবাসাময় করে রেখে
অন্ধকারের কাছে আমাকেও সমর্পিত হতে হয়।
তোমাকে বৈপরিত্য থেকে সূয়া অনুসূয়া গাঁথিয়া গাঁথিয়া রাখি।

এই অন্ধকার আমাকেও ভাল রাখেনি!





সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:১৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×