somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসের ভিত্তি

২১ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরম দয়ালু ও অসীম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আমার এই লেখা হল তাদের জন্য যারা স্রষ্টার উপর নিজের বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে চায়।

তথাকথিত কিছু দার্শনিকদের লেখা পড়ে সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা সত্যি যে, এই সব দার্শনিকদের যুক্তিগুলো শুনে একজন সাধারন মানুষের বিশ্বাসে ধাক্কা লাগাটা খুবি স্বাভাবিক। কারন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে হয়তো খুব একটা চিন্তা করে না। তবে একটু ভালভাবে দার্শনিকদের দেয়া যুক্তিগুলো চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, তাদের নিজেদের কোন উপসংহার নেই। তারা প্রায়ই বলে যে, আমরা সৃষ্টিকর্তাকে অনেক সম্ভাবনার একটি হিসেবে বিবেচনা করি। একটা বিষয়ে সবাই একমত হবে যে, আমরা প্রত্যেকে কি বিশ্বাস করি সেটা দ্বারা আমাদের কাজ ও আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা সবাই চাই সত্যকে জানতে। আমরা সন্দেহ চাই না, একটা সমাধান চাই। আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে চাই। আমাদের জন্য কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা আমরা জানতে চাই।

জটিল অনেক তত্ত্বের কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু এসব তত্ত্ব আসলেই অনেক জটিল এবং মূল জিনিসকে বাদ দিয়ে তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। আমি এখানে খুব সাধারনভাবে কিছু মৌলিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাদের এমন একটি ভিত্তি দরকার যেটা খুবি শক্তিশালী এবং সেই সাথে খুবি সহজবোধ্য। সেজন্য আমি কুরআনের সূরা আত-তুর এর ৩৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে কিছু আলোচনা করব। আয়াতটির একটি সম্ভাব্য বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে নিম্নরূপ।

"তারা কি শূণ্য থেকে সৃষ্ট হয়েছে? নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" (৫২:৩৫)
"Were they created out of nothing? or they themselves are the creators?" (52:35)

উপরের আয়াতটিকে মনে হতে পারে খুব সাধারন কিন্তু আমার কাছে এটি খুব শক্তিশালী একটি আয়াত। এর মধ্যে অনেক কিছু চিন্তা করার আছে। উপরের আয়াত থেকে বললে, এই মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং আমাদের আশেপাশে যা কিছু আছে, তার সৃষ্টির ব্যাখ্যা হিসেবে সম্ভাব্য ৩টি তত্ত্ব আছে। সেগুলো হল নিম্নরূপ।

১। সবকিছু শূণ্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে কিছু ছিল না। একেবারে তাত্ত্বিকভাবে শূণ্য বলতে যা বুঝায়। সেই শূণ্য থেকে যেভাবেই হোক সমস্ত পদার্থ এবং শক্তির সৃষ্টির হল এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজে নিজেই আজকের এই অবস্থায় আসল।
২। আমরা মানুষরাই হল স্রষ্টা। আমরা সবাই হল সৃষ্টিকর্তার একটি অংশ। আমরা সবাই মিলে একজন সৃষ্টিকর্তা। কাজেই সৃষ্টি বলে কোন কথা নেই।
৩। উপরের দুইটি সম্ভাবনার বাইরে যে সম্ভাবনা থাকতে পারে সেটি হল একজন অসীম সৃষ্টিকর্তা আমরা যা দেখি এবং যা দেখি না তার সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। এই সম্ভাবনার কথা ওই আয়াতটিতে নেই। কুরআন এটির কথা বলে নি, কারন কুরআনের মতে এটিই হচ্ছে উত্তর যেটির প্রতি আমাদের সমস্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি বিষয়গুলো ধাবিত করবে।

এখন এই ৩ ধরনের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করি এবং দেখি যে এর একেকটিতে বিশ্বাস আমাদের আচার-আচরনকে কোন দিকে ধাবিত করে এবং একি সাথে এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপনের ভিত্তিস্বরূপ কোন কোন উপাদান আমাদের সামনে আছে।

সৃষ্টির আদিতে কোন কিছু ছিল না। হঠাৎ করে সবকিছু সৃষ্টি হল। তারপর দৈবক্রমে একটি একটি করে জটিল ও চমৎকার সব জিনিস তৈরি হতে থাকে। এটিকে মেনে নেয়া আমার জন্য বেশ কষ্টকর। কারন, এখন পর্যন্ত কেউই এটিকে ব্যাখ্যা করতে পারে নি। এমনকি বিজ্ঞানীরাও এটা মেনে নেয় যে, এটা ব্যাখ্যা করা যায় না। তারা যা করে তা হল, প্রথমে ধরে নেয় যে যেকোন ভাবেই হোক শক্তি ও পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে এবং তখন থেকেই এসব পদার্থগুলোর মধ্যে বিরাজমান পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কাজ করা শুরু করে। সৃষ্টির রহস্যকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মানুষ যে সমস্ত তত্ত্ব বের করেছে, সেটা ডারউইন এর তত্ত্বই হোক আর অন্য যেকোন তত্ত্বই হোক, তার সবগুলোই সৃষ্টির প্রথম এর ধাপকে উপেক্ষা করে। কিন্তু এটা কি এত সহজে উপেক্ষা করার মত একটা ব্যাপার? আমরা কোথা থেকে এসেছি এ প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যাক এর মহাবিশ্ব আস্তে আস্তে কোন পথে এগুচ্ছে। আমরা সবাই জানি যে, এই মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এবং খুবি আশ্বর্যজনকভাবে এই সম্প্রসারনের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখন অনেক বিজ্ঞানীরাই বলে যে, এই মহাবিশ্ব একটা সময়ের পর ধ্বংস হয়ে যাবে। কিভাবে ধ্বংস হবে এটা এখন পদার্থবিজ্ঞানীদের অন্যতম একটি গবেষণার বিষয়। যাই হোক, আমি একজন পদার্থবিজ্ঞানী না এবং বিজ্ঞানকে আমি দেখি সৃষ্টির পর্যবেক্ষণ হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, আমার মৃত্যুর পর কি হবে, এই মহাবিশ্বের ধ্বংসের পর কি হবে? ধরে নেই, এই আমার মৃত্যুর পর আমি বলে কিছু আর থাকবে না। এই মহাবিশ্বের ধ্বংসের পর কি হবে তাও জানি না। যদিও সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এখন দেখা যাক, এই তত্ত্বে বিশ্বাস আমাদের কাজকর্মকে কোন দিকে ধাবিত করে।

প্রথম এই সম্ভাবনায় বিশ্বাস করার মানে হল এই যে, আমি এমনি এমনি এসেছি এবং আমার মৃত্যুর পর আর কোন কিছু নেই। কাজেই পৃথিবীর এই জীবনটাই সব। যেভাবে পারি, আমাকে এই জীবনকে ভোগ করতে হবে। যেভাবে পারি, আমার নিজেকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তাহলে সত্যি করে বললে, নীতি বলে কোন কিছু আর থাকে না। সুযোগ পেলেই আমি আমার চাহিদাকে পূরণ করার চেষ্টা করব। আমার কাজ অন্যের উপর কি প্রভাব ফেলল সেটা আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। আমার আর পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। আমাদের জীবন হবে অনেকটা এরকম যে, কোন একটা কিছুর পিছনে ধাওয়া করা, সেটা যখন পাব তখন আমরা সুখী, যখন পাব না তখন আমরা দু:খী। অভীষ্ট বস্তুকে আমরা যখন পাব, তখন সাময়িক একটু সুখ উপভোগ করব। কিন্তু তারপরই জীবনটা অর্থহীন হয়ে যাবে। তখন জীবন যাপন করার জন্য আমাদের নতুন আরেকটা লক্ষ্যের দিকে ছুটতে হবে। সত্যিকারের শান্তি বা সুখ এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে এটা বিশ্বাস করা কঠিন। অন্তত আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আশেপাশের মানুষের জীবন পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসাটা খুবই স্বাভাবিক। সবচেয়ে বড় যে হতাশা কাজ করে তা হল, আমি মারা গেলেই তো শেষ। কাজেই মৃত্যুর ভয় সবসময় বিরাজ করে। আর ভুলে গেলে চলবে না, আমার এই বিশ্বাসের পিছনে কোন ভিত্তি নেই। অনেক কিছু আমাদের অন্ধভাবে মেনে নিতে হয়। আর বিশেষ করে যখন আমার নিজের শরীরের দিকে তাকাই, একজন ছেলে-মেয়ের মধ্যকার আকর্ষণবোধ, বিভিন্ন সৃষ্টির কর্মকান্ড ইত্যাদি ব্যাপারগুলো যখন দেখি তখন এটা ভাবতে খুবি কষ্টকর যে, আমরা এমনি এমনি কোন কারন ছাড়া এসেছি এবং আমার জীবনের কোন লক্ষ্য নেই। তারপরও আমরা তা ভাবতে চাই। আর বাস্তবতা হল এই যে, আমরা অনেকেই এই তত্ত্বে বিশ্বাস করি। কেউ তা স্বীকার করে, কেউ তা করে না। যে কারনে আমরা অনর্থক বিভিন্ন পার্থিব বস্তুর পিছনে ছুটতে থাকি।

দ্বিতীয় যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে তা হল, আমরাই স্রষ্টা। এটাকেও মেনে নেয়া কষ্টকর। কারন আমি জানি যে, আমি স্রষ্টা না। আমি যদি স্রষ্টা হতাম তাহলে আমি আমার মত করে সবকিছু করতাম। কিন্তু বাস্তবতা হল আমার কোন ক্ষমতাই নেই। আমি খুব দূর্বল একটি জীব। পৃথিবীতে এখনও কিছু মানুষ আছে যারা এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমি এটাকে মেনে নিতে পারি না। আমিই স্রষ্টা? না, এটা অসম্ভব। আমি আমার নিজেকে সৃষ্টি করি নি। আর এ বিশ্বাস আমাদেরকে কিভাবে প্রভাবিত করে সেটা আমার পক্ষে বলা একটু অসম্ভব। কারন এভাবে আমি কখনও চিন্তা করে দেখি নি আর চিন্তা করতে পারব বলেও মনে হয় না।

তৃতীয় এবং সর্বশেষ যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে তা হল, একজন অসীম স্রষ্টা এই মহাবিশ্বের সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে অসীম হল খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারন, স্রষ্টাকে সসীম চিন্তা করলেই আমাদের আবার প্রথম সম্ভাবনার ভিতর ঘুরপাক খেতে হয়। স্রষ্টাকে হতে হবে অসীম এবং আমাদের এই সৃষ্টিজগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখন এ সম্ভাবনাকে মেনে নেয়া যায় কিনা? প্রথম দুটো সম্ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করলে, এটি ছাড়া আর কোন সম্ভাবনা আসলে আমাদের সামনে নেই। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এটির উপর বিশ্বাস করার মত কোন উপকরন আমাদের কাছে আছে কিনা? আমার নিজের এবং অনেকের জন্য যথেষ্ঠ পরিমান উপকরন আছে। এই সৃষ্টিজগতের প্রতিটা সৃষ্টিই হল এই বিশ্বাসের ভিত্তি। কেন? কারন এই মহাবিশ্বের কোন উপাদানই নিজেকে সৃষ্টি করে নি। সে নিজে যেহেতু একটি সৃষ্টি কাজেই সে নিজেই হচ্ছে স্রষ্টার প্রমাণ। এখন দেখা যাক স্রষ্টার উপর বিশ্বাস আমাদের জীবনে কি প্রভাব ফেলতে পারে। স্রষ্টায় বিশ্বাস মানে এর সাথে আরো বেশ কিছু বিষয় চলে আসা। সেগুলো হল স্রষ্টা কেন এই মহাবিশ্ব এবং আমাদের সৃষ্টি করলেন? আমার মৃত্যুর পর কি হবে? এ ধরনের আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা এবং তা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতাভেদ তৈরি হওয়া। বর্তমানে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। সব ধর্মই বলছে যে, স্রষ্টা আছে এবং তাদের পথই হচ্ছে সঠিক। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, স্রষ্টার উপর কারো দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সে অনেক ধরনের হতাশা থেকে মুক্ত হতে পারবে। কাজেই সমস্যা হচ্ছে আমরা স্রষ্টাকে কিভাবে জানব তা নিয়ে। কোন ধর্ম সঠিক বা কোন সমাজের চিন্তাভাবনা সঠিক সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য না। আমি এখানে আমার বেছে নেয়া পথকে উপস্থাপন করতে চাই।

একজন মানুষ যখন অবিশ্বাসী হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে কোন কিছু প্রমাণ করে অবিশ্বাসী হয় না। সে অবিশ্বাসী হয় শুধুমাত্র এই কারনে যে, সে অনেক কিছু বুঝতে পারে না বলে। কেন পৃথিবীতে মারামারি-কাটাকাটি আছে? কেন এত কষ্ট? কেন বেহেশত ও দোযখ? কেন স্রষ্টাকে দেখি না? আবার অনেকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের কাজকর্ম এবং তাদের মধ্যে বিরাজমান হিংসা-বিদ্বেষ দেখে এই সিদ্ধান্তে আসে যে, ধর্মই সমস্ত হানাহানির কারন। আবার বিভিন্ন মানুষ বা ধর্ম স্রষ্টাকে বিভিন্নরকম ভাবে উপস্থাপন করে। কাজেই কোনটা সত্য? আবার অনেকে স্রষ্টা দেখতে কিরকম, সে কিভাবে কাজ করে, এসব বিষয়ে চিন্তা করতে গিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। যাই হোক, স্রষ্টা সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন ভূল ধারনাই হল আমাদের মধ্যকার হতাশা এবং সন্দেহের কারন। কোন কিছুর উপর অন্ধ বিশ্বাস বা জ্ঞানের অভাব অনেককে অনেক কিছুতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। কাজেই আমাদের সমাজে বা বিভিন্ন সমাজে স্রষ্টা সম্পর্কে যে সমস্ত ধারনা আছে সেগুলোকে অন্ধভাবে গ্রহণ করাকে আমাদের ত্যাগ করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন সমাজ বা ধর্ম স্রষ্টাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে, একজনের কাছে এই সিদ্ধান্তে আসা অস্বাভাবিক না যে, এরকম স্রষ্টাকে বিশ্বাস করার চেয়ে স্রষ্টাকে বিশ্বাস না করাই ভাল। আমরা সবাই কিন্তু কোন না কোন ভাবে অন্ধ বিশ্বাস এবং অজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু করি এবং সারাজীবন করে যেতে থাকি। কখনও কখনও আমাদের মধ্যে এই প্রশ্ন ঠিকই আসে যে, আমি যা করছি তা কি ঠিক কিনা বা যা বিশ্বাস করছি তার কি কোন ভিত্তি আছে? কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ হাল ছেড়ে দেয় এই ভেবে যে, এত চিন্তা করে কি হবে। কাজেই অন্য একজন কি করল সেটা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসাটা আমার কাছে খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ মনে হয় না।

আমাদের যেটা করা উচিত সেটা হল নিজেকে এভাবে কল্পনা করা যে, আমি এক সৃষ্টি সমস্ত সৃষ্টির মাঝখানে। আমার কাছে সব জ্ঞান আছে এটা যেমন ভুল, সমস্ত মানুষের কাছে সব জ্ঞান আছে সেটাও তেমন ভুল, এ ব্যাপারটাকে উপলব্ধি করা। আমি বলব যে আমি কোন কিছুকে অন্ধবিশ্বাস করি না, অথচ কোন মানুষের দেয়া তত্ত্বকে বা তথ্যকে অন্ধভাবে আকড়ে ধরে রাখব - এটাও ঠিক না। সত্যকে খোজার এক ভ্রমণ আমাকে শুরু করতে হবে। আমাকে মানুষের কাছ থেকে শিখতে হবে। প্রত্যেক মানুষের কাছেই শেখার কোন না কিছু আছে। আমাকে প্রতিটা সৃষ্টির কাছ থেকে শিখতে হবে। চিন্তা করতে হবে। মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কাজেই আসুন আমরা জ্ঞান অর্জনের ভ্রমণ শুরু করি। যারা মুসলিম তাদেরকে আমি অনুরোধ করব যে, আসুন কুরআনকে পড়ি, জানি, চিন্তা করি। কুরআন হচ্ছে আমাদের কাছে পাঠানো স্রষ্টার বার্তা। কুরআনকে আমাদের জীবনের অবলম্বন করি। জ্ঞানার্জন করে আল্লাহ আমাদেরকে যে সুযোগ দিয়েছেন সেটাকে কাজে লাগাই। আর যারা মুসলিম না, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ স্রষ্টা বা সৃষ্টিকে জানার জন্য মানুষের লিখা বিভিন্ন বই এর পাশাপাশি কুরআনকেও জ্ঞানের একটি উৎস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। কুরআনকে বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি যে, একজনের মন ও জীবনকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা বর্তমানে একমাত্র কুরআনের আছে। আমরা সবাই যে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাচ্ছি তা আপনি কুরআনে পেয়েও যেতে পারেন। আসুন আমরা অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে নিজে মুক্ত হই এবং অন্যকে মুক্ত করি। অযথা সময় নষ্ট না করে জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×