
এক দেশে এক গ্রামে থাকত এক বঊ। সারাদিন সে মসলা বাটতো,রান্না করত, ঘর পরিষ্কার করতো,জমিতে কাজ করতো। তার উপর শাশুড়ি ও শ্বশুরের অত্যাচার চলত। খাবারে সামান্য লবন কম হলে ঘরে তালা মেরে আটকে রাখত দিনের পর দিন। আর তার স্বামীও তাল মিলাতো তার মা বাবার সাথে। খুব গরীব বাড়ির মেয়ে দেখেই কিছু বলতে পারতো না মুখ বুজে সয়ে যাওয়া ছাড়া। একদিন ঘর পরিষ্কার করতে যেয়ে উত্তরের ঘর কিছুটা ময়লা থাকায় বউকে শাস্তি দেওয়া হয় আজ সারারাত সারাদিন বসে বসে মসলা বাটবে সে। মসলা বাটা খুবই কঠিন কাজ।
বউ সেদিন সকাল থেকে চোখ মুছতে মুছতে হলুদ বাটতে থাকে। সারাদিনরাত বাটার পরদিন সকালে খুব ভোরে মনের দুঃখে সব হলুদ গায়ে মাখে। এরপর সকালের ১ম রোদের আলোয় দাঁড়িয়ে হাতজোর করে কাঁদতে কাঁদতে প্রার্থনা করে যেন তাকে সৃষ্টিকর্তা তুলে নিয়ে যান এই জীবন থেকে। এরপর থেকে সেই বউকে কোথাও কেউ দেখেনি।
তবে সেদিন থেকে বাড়ির আশেপাশে গাছের উপর হলদে রঙের একটা পাখির আনাগোনা শুরু হয়। মাঝে মাঝে বিষণ্ণ সুরে এই পাখিটা ডেকে ওঠে,
"বউ কথা কও!!!"
"বউ কথা কও!!!"
[প্রচলিত লোককাহিনী ]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




