তাঁর বয়স তখন ১৯। হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যান। পরিবারের সবাই খুঁজে খুঁজে হয়রান। তাঁর মা পাগলপ্রায়। কোত্থেকে খবর এলো সে ভারতে চলে গেছে যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে। আরো অনেকেই গেছে। সালটা যে একাত্তর। ট্রেনিং শেষে এগারো নম্বর সেক্টরে যোগদান। পরিবারের দীর্ঘ নয়মাসের অপেক্ষা। এরমধ্যে কাঁধে গুলি খেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে প্রায় মৃতু্যর কাছাকাছি চলে যাওয়া। কেউ কোন খবরও দিতে পারতো না। সবাই ধরেই নিয়েছিল হয়তো শত্রুর হাতে ধরা পড়েছে বা কোথাও মরে পড়ে আছে। কিন্তু তিনি ফিরে এসেছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর। আহত, অর্ধমৃত অবস্থায়। এসে সংসারের হাল ধরেছিলেন। তাঁর সব ভাইবোনদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নিঃস্বার্থভাবে। এলাকা থেকে তাঁকে একবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিতে চাইলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। বলেন যে সার্টিফিকেটের জন্য তিনি যুদ্ধ করেননি আর ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা কোন সুযোগ সুবিধাও তিনি চান না। তারা যার যার নিজের যোগ্যতায় স্বাধীন দেশে নিজের অবস্থান করে নেবে। তিনি আমাদের বাবা। আমাদের সব ভাইবোনকে নিজের শত প্রতিকুলতার মধ্যে আগলে রাখা বাবা এখন নিজেই শিশুর মতো। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আমার সাথে বাবার কোন ছবি নেই। ছবিতে বাবার কোলে আমার মেয়ে।
জুন ২১, ২০১৫
সিয়াটল, ওয়াশিংটন
ছবি: নাসিম বর্ণ

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


