somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। বাবা হতে চাই ।।(একটি নিষিদ্ধ ঘটনা)-১

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



।। বাবা হতে চাই ।।(একটি নিষিদ্ধ ঘটনা)১৮+

পরকাল সম্বন্ধে ভয়-ভীতি আমার ছেলেবেলা থেকেই।। কাল একুশে ডিসেম্বর, ২০১২।। পৃথিবীর নাকি শেষ দিন।। মায়ান না ছায়ান নামক কি যেন একটা সভ্যতা নাকি ছিল পৃথিবীতে এক কালে।। তাদের বানানো নাকি একটা পঞ্জিকাও ছিল, যেই পঞ্জিকার শেষ দিন ছিল একুশে ডিসেম্বর, ২০১২।। তার মানে, তাদের মতে এই দিনটাই হবে পৃথিবীর শেষ দিন।। বিজ্ঞানীরাও নাকি গবেষণা করে দেখেছে যে, তাদের এই তারিখটা ঠিক।। “2012” নামক একটা মুভিও নাকি বের করেছে হলিউডওয়ালারা ।। যাতে দেখানো হয়েছে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।।

আমার যতটুকু মনে পড়ে ২০০৩ সালেও এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিলো।। তখন আমি ছোট ছিলাম, তাই তেমন কিছু মনে নেই ভালো করে।। তবে একটা ঘটনা মনে আছে।। তখন আমাদের বাসায় ছিলো আমার এক খালাতো বোন।। তাকে আমি বলেছিলাম, “আপুনি, পৃথিবীতো ধ্বংস হয়ে যাবে, আমিতো আর বেশীদিন বাঁচবো না।।” আপুনি তখন আমাকে বলেছিলো, “ শোন, তুই যদি অন্য কোনো সময় মারা যেতিস তাহলে তোকে কবরে থাকতে হত কেয়ামত পর্যন্ত ।। তখন তোকে কবরেও কষ্ট পেতে হত আবার কেয়ামতের পরও কষ্ট পেতে হত।। আর এখন যদি একেবারে কেয়ামত হয়ে যায়, তাহলে আর কবরের শাস্তি তোকে পেতে হবে না।।” আপুনির কথাটা শোনে তখন আমার ভীতু মনও আনন্দে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলো।।

যদিও অনিবার্য কারণ বসত তখন তেমন কিছু হয়নি, তবে কাল কিছু একটা হবে বলে সবাই ধারণা করছে।। তখন ছোট ছিলাম, তাই মনে কোন ইচ্ছা ছিলো না।। কিন্তু এখন মোটামুটি বয়স হয়েছে।। তাই মৃত্যুর আগে আমার একটা ইচ্ছা পুরণ করা দরকার।। অনেকেরই অনেক ইচ্ছা থাকে জীবনে, যা মৃত্যুর আগে একবার হলেও পূরণ করার বাসনা থাকে মনে।। তবে আমার সেই ইচ্ছাটা একটু ভিন্ন।। আমি “বাবা হতে চাই”।। এবং আজকেই আমার সেই আশা পূরণ করতে হবে ।।

সকাল সকাল ভালো করে সেজে-গুজে বের হয়ে গেলাম বাসা থেকে।। মিশন হচ্ছে “বাবা হতে চাই”।। প্রত্যেকটি কাজই মানুষকে মিশন হিসেবে গ্রহন করা উচিৎ।। তাহলে কাজটা অনেক আনন্দ সহকারে করা যায়।।

জ্যেষ্ঠ মাসের এইসকালে রোদ তার অসহ্য উত্তাপ দেওয়ার জন্য কেবল তৈরি হচ্ছে।। কস্মোপলিটন থেকে রহমাননগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠলাম দামাদামি ছাড়াই।। রিকশা চলছে আর আমার মনের গাড়িও ভাবতে শুরু করেছে ‘বাবা হতে চাই’ প্রজেক্ট নিয়ে।।

আচ্ছা আমি যে বাবা হতে চাই, বাবাদের কাজ সম্বন্ধেতো আমি তেমন কিছু জানি না।। বাবাদের আসলে কাজটা কি ?? টাকা উপার্জন করা আর সন্তানদের লালন-পালন করা।। আর তো কোন কাজ নেই।। আচ্ছা! আচ্ছা! আরেকটা কাজ আছে।। বাজার করতে হয়।। অ না! না! ঘরে বড় ছেলে থাকলেতো তাও করতে হয় না।। যেমন আমার ঘরে আমি বাজার করি।। অবশ্য আমার বাবার আরেকটা কাজ ছিলো।। তা হল আমাকে লেখাপড়া করানো।। সারা দিন পড়াতে বসিয়ে রাখতো।। যতক্ষন অফিস ছিল না ততক্ষন নিজে বসে থেকে পড়াতো, আর যখন ছিলো তখন পড়া দিয়ে যেত।। পড়াতে পড়াতে অতিষ্ট বানিয়ে ফেলেছিলো আমার জীবনটা।। সবসময় পরীক্ষায় প্রথম হতে হবে।। কখনো দ্বিতীয় হওয়া যাবে না।। এমনকি পরীক্ষার হলে রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে পাহাড়া দিত।। কারণ আমি নাকি পরীক্ষার হলে পারা উত্তর না লিখে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি।। আর আমার মতে আমার বাবা ছিলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিপ্টা।। স্কুলে যাওয়ার সময় খালি ৫ টা টাকা দিত।। তাও আবার মাঝে মাঝে দিত না।। আর আমার মত বাবার হাতের মার মনে হয় এই দুনিয়ায় কেউ খায় নাই।। সে কি মার।। ছোটো খাটো জিনিস নিয়ে মারতো।।
যেমন রবার বা পেন্সিল হারিয়ে ফেললে।। আর আমার বাবার মুখের একটা ডায়লগ তো সবসময় মনে থাকবে।। আমার যে কোন মাস্টারকে বাবা বলতো “আপনাকে ছেলে দিচ্ছি, আপনি দরকার হইলে ওর সব মাংস রেখে দিয়েন, আমাকে শুধু হাড় গুলো দিলেই হবে।।” কি নিষ্ঠুর বাবা।।

আচ্ছা আমি আমার বাবাকে নিয়ে ভাবছি কেন?? আমিতো নিজে বাবা হতে চাই।। তার মানে যেটা বুঝলাম বাবা হওয়াটা এতো কষ্টের না বরং সুখের।। ইচ্ছা মতো সবার উপর রাজত্ব করা যায়।। একটু ......

-রাস্তার ইয়ুঁত নামিবেন না অণ্ডে নামিবেন।। (রাস্তার এইপাশে নাকি ঐপাশে নামবেন?)

হঠাৎ চমকে উঠলাম।। দেখলাম রহমাননগর এসে গেছি।। আমি মেইন রোডের এই পাশে।। আর আমার কাঙ্খিত বাস রাস্তার ঐ পাশ দিয়ে যাবে।। তবুও ভাবলাম বেচারা জ্যামের মধ্যে এতো কষ্ট করে ঐ পাশে যাবে।। তার চেয়ে ভালো আমি হেঁটে চলে যাব।।

-সাইড করে থামাও।।
-এডে ন্যা??(এইখানে??)
-হুম এইখানে।।

আমি সুন্দরভাবে নামলাম।। রিকশাওয়ালাও দাঁড়িয়ে আছে।। আমি এতোটা আহামরি লম্বা না।। তবুও আমার সাথে রিকশাওয়ালাকে অস্বাভাবিক খাটো লাগছে।। এই লোক কিভাবে রিকশা চালায় খোদাই জানে।।

-ভাই কত দেব??
-৪০ টিঁয়া দন্না।। (৪০ টাকা দেন না।।)
-কি বলেন ৪০ টাকা।। ভারা তো ২০ টাকা।।
-না বদ্দা।। ৪০ টিয়া দন পরিবো।।(না ভাই ৪০ টাকা দিতে হবে।।)

মেজাজটা হঠাৎ করে গরম হয়ে গেলো।। মনটা বলল বেটাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মারি।। রিকশাওয়ালারা সুন্দর করে টাকা চাইলে দিতে ইচ্ছা করে কিন্তু দিতেই হবে বললে মাথাটা গরম হয়ে যায়।। অন্য কোনো সময় হলে ঠিকই মেরে দিতাম।। কিন্তু কালতো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে আর আমিও মারা যাব তো এখন মারামারি করে কি লাভ ?? টাকা পয়সা দিয়েই বা কি লাভ?? ওরও বা ৪০ টাকা দিয়ে কি লাভ?? মরেই যেহেতু যাব টাকার মায়া এখন থেকে ছেড়ে দিলাম।। মানিব্যাগ টা বের করে ওকে বললাম,

- এই নাও ৪০ টাকা।। এই নাও আরও ২০ টাকা।। ঠিক আছে??

এই কথা বলে হাঁটতে শুরু করলাম।। রাস্তা পার হতে হবে।। রিকশাওয়ালা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।। আমার হঠাৎ করে রেগে যাওয়া চেহারার সাথে ৬০ টাকার হিসাবটা সে হয়তো মিলাতে পারছে না।। সে মোটামুটি ভরকে গেছে।। ও মনে হয় পৃথিবীর ধ্বংস সম্বন্ধে জানে না।।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৩ দুপুর ২:৪৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×