সেদিন আকাশটা যেন বড্ড মেঘলা ছিল। সব কেমন ঝিমানো। আব্বুর জন্য খুব খারাপ লাগছিল। ছোট বোন টা আদরের শিরমনী। বাসার সবার সাথেই খুব ক্লোজ ও। তাই ওই মনে হয় আমাদের সবাইকে বুঝতে পারে। ঝগড়া করে, কিন্তু ওই সবাইকে ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে দেয়। আমরা কেউ বুঝতে পারলাম না, কিন্তু ও ঠিকি বুঝতে পেরেছিল। জিগ্গেস করলো, "আব্বু, তোমার কি মন খারাপ?" চমকে উঠেছিলাম। আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। ওর মতই ছিলাম এক সময় আমি। আব্বুর খুব কাছে। কিন্তু জানিনা কিভাবে, খুব দুরে সরে গিয়েছি। এখন চাইলেও কাছে যেতে পারিনা। মাঝে মাঝে খুব অপরাধি মনে হয়। আব্বুকে কি খুব একলা করে ফেলেছি আমরা? নিজের কথা ভাবতে ভাবতেই শেষ। "আব্বু হেসে বলেছিলো, না কিছু না, এমনি আমার আত্বীয়দের খুব মিস করছি।" আমি জানি আব্বু পুরা টুকু বলেনি। আমাদের জন্য খুব বড় স্যকরিফাইস করেছেন তিনি। আমি জানি তার অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু কখনো মুখ ফুটে বলেননা। সারা জীবনে কোনদিন তার চোখে পানি দেখিনি। খুব শক্ত, ভেতরটা ভেঙে গুড়ো হয়ে গেলেও বাইরে থেকে কখনো প্রকাশ করেননা। অনেক আগে যেদিন কাকু মরার সংবাদ পেলাম, সেদিনো তার চোখে পানি দেখিনি। সারাদিন এক কোনের টেবিলটাতে মুখ ঢেকে বসেছিলেন। আমরা কাদছিলাম খুব। কিন্তু আব্বু শক্ত হয়ে বসেছিলেন। তার মুখে কান্নার কোন ছাপ ছিলনা, কিন্তু আমরা বুঝতে পারছিলাম, তিনি খুব কষ্টে ছিলেন।
আমার মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। জানি উনি খুব মানসিক কষ্টে আছেন। কিন্তু আমরা কি কোনভাবে তাকে খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। চোখ মুছে ভাবলাম তার পাশে কিছুক্ষন বসবো। তার পাশে গিয়ে সান্তনা দেব। কিন্তু কিসের কি? তার কাছে যেতেই আমি নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়লাম। আর কিছু বলা হলোনা। তবু অশ্রুটা আমাকে অনেক হাল্কা করে দিয়ে গেল। কিন্তু আব্বুর? উনি তো কখনো অশ্রু ফেলেননা। উনার সব কষ্টতো ভেতরে যমানো!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৩১