নীলয় বারান্দায় বসে কাঁদছে।ওর মনটা অনেক খারাপ।বারান্দার লাইট টা বন্ধ করে অন্ধকারে বসে আছে ও।ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই।তাই বলে কি তাদের দুঃখ লাগে না? কেউ না দেখলেই ভালো। দেখলেই ওকে নিয়ে মজা করবে। বিশেষকরে ওর বোনটা। নিজেকে যে কি মনে করে ও। সারাদিন ওর পিছেই লেগে থাকে, গাধা ছাগল কত কিছু যে বলে!
:কিরে তুই এখানে বসে আছিস কেন?
বারান্দার লাইট টা জ্বালিয়ে দিল অহনা।অবাক হয়ে দেখলো ওর ভাইটার চোখে অশ্রু।
:কিরে দেবদাস? মেয়েদের মত কাঁদিস কেন?ছ্যাকা খেলি নাকি?
:তুই যা তো এখান থেকে। কথা বলবি না।
:ওমা।আমি কি করলাম।আমি আরো সহানুভূতি দেখাতে আসলাম।আমাকে কিনা বলে,ভাগ! যাবো না আমি, কি করবি তুই?
:বালতি ভরা পানি এনে তোর মাথায় ঢেলে দিব।
:বালতি তো অলরেডি ভরে ফেলেছিস চোখের পানিতে!
"এই নোনা জলে অবগাহন করতে
আছি রাজি,
জানি এই ভাইটা আমার
দুষ্ট একটা পাজি"
কাঁদতে কাঁদতেও হেসে দিল নীলয়।অহনা ওর কবিতা বানানোর এই অভ্যাসটা রাগের সময় প্রায়ই টোটকার মত কাজে লাগায়।আর ওর এসব অছন্দকর কবিতা গুলো ওর মুডটা সবসময় অনেক খানি ঠিক করে দেয়।
:কিরে বোকাবাদুড়। হাসিস কেন? এতক্ষন তো কাঁদতে কাঁদতে হায়হুতাশ করতেছিলি!!
:আমার ইচ্ছা করলে হাসবো। ইচ্ছা করলে কাঁদবো।তোর কি? তুই খালি কবিতা বানাবি।আর চুপ করে থাকবি।বোকাবাদুড়ি!
:কি??? বেয়াদব ছেলে!একটা চড় দিব।আমি তোর বড় না? আমাকে এসব বলিস!
:বলবো বলবো একশবার বলব। কি করবি তুই!
মুখ ভেংচে ঘরের ভেতর দৌড় দিল নীলয়।জানে এখনই অহনা দৌড়ে আসবে।আর ধরতে পারলে তো রেহাই নেই।
মুখে রাগের ভাবটা সরিয়ে সেখানে হাসি ফুটে উঠলো অহনার। যাক শেষ পর্যন্ত হাসানো গেল ছেলেটাকে। নিলয়ের মন খারাপ থাকলে ওর ও যে ভালো লাগে না।তাই মন টা ভাল করতে কত গাঁইগুঁই করতে হয় ওর।তবুও ভাল থাকুক বোকাবাদুড়টা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





