একা পার্কের বেঞ্চিটাতে বসে আছে অহনা।একা একা থাকতে সবসময়ই কেন জানি ভাল লাগে ওর।সবার থেকে আলাদা থাকায় কেমন যেন একটা সুখ সুখ কাজ করে।তাই প্রায়ই এভাবে কিছুক্ষন নিজের মত থাকতে ইচ্ছে করে।
:কিরে এখানে কি করিস?
ভেসে আসলো কারো গলার স্বর।পেছন এসে দাঁড়িয়েছে সে।তার প্রতিটি পদক্ষেপ চিনে অহনা।তাই মুখ না ঘুরিয়েই বুঝে নিল কে,
:নিজেকে চিনতে কিছু মুহূর্ত একলা থাকতে হয়।নিজেকে চিনছি।
সামনে এসে বেঞ্চে বসল ছেলেটি ।অহনার দিকে তাকিয়ে অবাক হাসি,
: তোর এসব দার্শনিক কথাবার্তা আমি কখনোই বুঝি না।
: বোঝার চেষ্টা করেছিস কখনো?
: না।ইচ্ছাও নেই।যাই হোক, কাজের কথায় আসি।জানিস,তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমি হয়রান। চল আজ একসাথে লাঞ্চ করবো। তোর তোহ
আবার একটা ট্রিট পাওনা আছে আমার কাছে!
:শুধু ট্রিটই দিবি?
:আরো কিছু চাস? আচ্ছা গিফট ও পাবি।চল!
:কি গিফট?
:কি চাস বল।ডায়েরি কলম বই খাতা পেন্সিল, তোর তো আবার এগুলার প্রতি অনেক ভালবাসা! হাহাহা!
হা হা করে মুখ খুলে হাসছে সে।এপাশের গালের টোলটাও দেখা যাচ্ছে।অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অহনা। আচ্ছা আগেও কি এভাবেই হাসত,আগে কখনো খেয়াল করেনি কেন ও? কেমন যেন নিষ্পাপ নিষ্পাপ লাগে!
:তোকে চাইলেও পাবো?
হাসির দমকে এমনিতেই হাপিয়ে উঠেছিল সে।কথাটা শুনে একটু ধাক্কাও খেল মনে হয়।সামলে উঠতে কিছুটা সময় লাগল।
হঠাৎ অহনা মুখে নকল একটা হাসি ঝুলিয়ে বলল,
:কিরে থাকবি না সারাজীবন বন্ধু হয়ে!?
:হুম। হ্যা! তা তো থাকবই।তুই যে কি না, এমনে বললি আমি ভাবলাম অন্য কিছু।চল যাওয়া যাক।
দুজনে হাটঁতে লাগল।দুপুর গড়িয়ে এখন বিকালের মিষ্টি রোদটা উকি দিচ্ছে।ছেলেটির মুখে এখনো কথার তুবড়ি ছুটছে।এত কথা বলতে পারে! অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অহনা আর ওর মুখে এখনো সেই নকল হাসিটা ।থাক না!
আসল বিষাদমাখা মুখের থেকে এই নকল
হাসির মুখটাই হয়ত ঢের ভালো!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





