somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়াবতী

০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে অহনা। বাইরে ঝড়ের তুমুল
হাওয়া, মেঘে রাতের আকাশ লাল হয়ে আছে। বাতাসে
উড়ে যাবার মত অবস্থা তাও ঠাই দাঁড়িয়ে আছে অহনা।
ভালোই লাগছে দাঁড়িয়ে থাকতে।চারপাশে গাছ গুলো
একদম নুয়ে নুয়ে পড়ছে!বৃষ্টি এখনো নামেনি।এই আসলো
বলে।চারপাশে বৈশাখের আগমনী বার্তা, আর কয়টা দিন
পরেই আসবে আরেকটা নতুন বছর।
বাতাসে অহনার লাল শাড়ির আচল উড়ছে! হ্যা,অহনা আজ
লাল শাড়ী পড়েছে,কপালে একটা ছোট টিপ আর
হাতভর্তি লাল চুড়ি।আজ একটা বিশেষ দিন ছিল
অবশ্যই,তা অবশ্য শুধু অহনার জন্যই।গত বছর ও এ দিনটাতে
ঠিক এইভাবে সেজেছিল অহনা,একটা অনুষ্ঠানের
জন্য,আর সেদিন ই দেখা হয়েছিল ওর সাথে।আচ্ছা ওর
কি মনে আছে,এ দিনটার কথা! থাকবার কথাও না।আচ্ছা
ও কি আমার মতই বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে! মনে হয়
না, ফোনে ব্যস্ত হয়ত !
রুমে ঢুকে বারান্দার দরজা টা বন্ধ করে দিল অহনা।
ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছিল।রুমটা
অন্ধকার হয়ে আছে।টেবিলের উপর মোমবাতি জ্বলছে।
মোমবাতির আলোয় চারদিকে যেন অন্ধকার আরো জমাট
বেধে রয়েছে!দূর থেকে মোমবাতিটাকে লাগছে
যেন আধারে জমাট বাধা এক টুকরো আলো।
টেবিলের সামনে চেয়ারটায় গিয়ে বসে পড়ল অহনা।
মোমবাতির শিখাটা কি সুন্দর করে জ্বলছে।কিছুটা
নীল,উপরে কমলা,তারপরে একদম হলুদ!
অহনা ওর ডায়েরীটা খুলে বসল সামনে। নীল চামড়ার
বাধানো মোটা একটা ডায়েরী। সবার কাছে এটা খুব
সাধারন লাগতে পারে, কিন্তু অহনা জানে, এ
ডায়েরীটা ওর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।ওর সব কিছুই এই
ডায়েরীটা। লিখা শুরু করল অহনা,
"সেদিন ও ছিল এমন একটা দিন।তুমি আমার পাশে
হাটছিলে, চারপাশে তখন কালবৈশাখীর দমকা
হাওয়া,হয়তো আমার ভেতরেও....."
বাইরে ততক্ষনে বৃষ্টি নেমে গেছে।আকাশ ভেঙে এক
তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দে চারদিক মেতে উঠছে
যেন।আর একাকী এক অন্ধকার ঘরে টেবিলে নিচু হয়ে
কিছু লিখছে এক মায়াবতী। মায়াবতীর চোখেও ঝরছে
আরেক তুমুল বৃষ্টি!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×