somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপন-এ. বি. এম. ইয়াকুব আলী সিদ্দিকী

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপন! মানে নিজ। যা নিজস্ব। আপন কে? সাধারণ চোখে আমরা যাদেরকে আপন বলে ভাবি তারাই কি আপন? এ দুনিয়ায় কে কার? আপন কেউ কাউকে ভাবে না, ভাবার ভাণ করে মাত্র।
আমার হাত, আমার পা, আমার নয়। আমার দেহ? সেও পর। আজ মরে গেলে দুদিন পর পঁচে গলে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
আত্মা? সে তো সুদিনের শুকপাখী। সুযোগ পেলেই কলা দেখাবে। মানব জগতে যারা সৌজন্য দেখায় তারা? তারা আপনও নয় আত্মীয়ও নয়। যারা ডালভাতে তুষ্ট তারা আত্মীয় বটে আপন নয়।

জন্মদাতা পিতামাতা? তাঁরা পুত্রের বিপদে দুঃখিত হন মাত্র। অর্ধাঙ্গিনী? সে তো তিন কথায় উঠে বসে। পুত্রদের মধ্যে যারা কর্মক্ষম তারা স্বার্থের আপন, যারা অক্ষম তারা নির্ভরশীলমাত্র- সুযোগের অপেক্ষারত।
বস্তু জগতে নিজের ঘরও নিজের নয়- নিজের মাল-মসলা পরে খাচ্ছে, ডাকাতে লুটছে।

ভোগ্য জগতে কেউ আপন আছে কি? সুখ? সে তো দুধের মাছি- সুসময়ের বন্ধু। দুর্দিনে সারা আত্রাবে তার ছায়াও মিলবে না।

দুঃখ? সেই আপন। সকলের আপন। আপনার চেয়েও আপন। এ পৃথিবীতে যারা জন্ম গ্রহণ করেছিল, করেছে এবং করবে তাদের প্রত্যেকের আপন। তাকে ডাকার প্রয়োজন পড়ে না। সুদিনে দুর্দিনে সে সবার ঘনিষ্ট সাথী- গলার হার, দেহের ভূষণ। কেউ ছাড়তে চাইলেও সে তাকে ছাড়ে না, গলা জড়িয়ে নিবিড় হয়ে থাকে। যাঁরা কোটিপতি, যাঁরা জোতদার, যাঁরা অট্টালিকায় বাস করেন, যাঁদের শ' শ' চাকর-চাকরাণী, দাস-দাসী সে তাঁদেরও অন্তরের মণি কোঠায় জুজুর মত বাস করে দাবানলের মত দহন করে। যাঁরা রাজ্যের মালিক- রাজা-বাদশা তাঁরা তো দুঃখের ডালি মাথায় বেড়ান।

যাঁরা এই অজেয় অচ্ছেদ্য এবং অলঙ্ঘ দুঃখকে পরাভূত করতে পেরেছেন তাঁরা কাঙ্গাল হলেও রাজাধিরাজ-নিঃস্ব হলেও সম্পদশালী। তাঁরা তো সাধারণ মানুষ ননই হয়ত মহাপুরুষ। সে বড় হিংসুক। তৃতীয় কারো বন্ধুত্ব সে পছন্দ করেনা। মানুষকে সহায়হীন, বন্ধুহীন, এবং সঙ্কীর্ণমনা করে তুলতে এবং তিলে তিলে তাকে নিঃশেষ করতে তার জুড়ি নেই। সে সর্ব গ্রাসী সর্বনাশা। তার এই সর্বনাশা গ্রাস থেকে দুনিয়ার কেউই পরিত্রাণ পায়নি এবং পাবেও না।

অতীন্দ্রীয় জগতে অলক্ষ্যে একজন আছেন যিনি সর্ববস্থায়, সর্ব সময়ে সকল মানুষের আপন এবং সাথী। তাঁকে আপন ভাবলেও আপন, না ভাবলেও তিনি আপন। তাঁকে ডাকলেও তিনি সাথে থাকেন, না ডাকলেও তিনি সাথেই থাকেন। বিপদে আপদে দুঃখের করাল গ্রাস থেকে তিনি তাকে রক্ষা করেন। দুঃখ মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়, তিনি তা তুলে দেন।

তিনি কে? তিনি আর কেউই নন মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং সর্ব জীবের প্রতিপালক মহা মহিমাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
দুঃখকে সর্বগ্রাসী সর্বনাশা বলে যতই দোষ দেইনা কেন, দুঃখের প্রয়োজন আছে। প্রকারান্তরে সে মানুষের সেবা করে থাকে। সে ইহকালে শাস্তি দিয়ে পরকালের পথকে প্রশস্ত করে। মানুষ পৃথিবীতে এসেই স্রষ্টাকে ভুলে তাঁর দিকে পিছন ফিরে পার্থিব ভোগ বিলাসে ব্যপৃত হয়। তাতে ইহজগতের সুখতো হয়ইনা বরং তার জাহান্নামের পথ পরিষ্কার হয় মাত্র। দুঃখ তার সব সম্পদ নিষ্ঠুর হাতে কেড়ে নিয়ে স্রষ্টার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়। তখন সে দুঃখের দহণে কোন উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করে। ইহজগত ও পরজগতে তার মত ঘনিষ্ট ও হিতৈষী বন্ধু আর কে আছে? সেই তো পরম আপন।

লেখকঃ প্রাক্তন শিক্ষক, পাবনা
সূত্র
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×