somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মালয়েশিয়া ভ্রমণ গাইড- ০০৪

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৩য় পর্ব

কে.এল.সি.সি তো দেখা শেষ, বাসায় ফিরে নিশ্চই কাল গ্যান্টিং হাইল্যান্ড যাওয়ার কথা ভাবছেন?? উত্তম চিন্তা, কেএল শহরের কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়ার বেস্ট প্লেস বলা যায়। সুউচ্ছ পাহাড়ের চূড়ায় (১৭৬০ মিঃ উচুতে) অবস্থিত ছোট্র একটা শহর বলা যায়, আসলে যেটা মূলত কয়েকটা রিসোর্ট আর হোটেল, থিম পার্ক, ক্যাসিনো এর ধারকমাত্র। গ্যান্টিং হাইল্যান্ড মূলত তৈরী করা হয়েছে পর্যটন শিল্প হিসেবে, তাই আপনি গ্যান্টিং হাইল্যান্ড পৈছাতে পারেন কোন রকম ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই। তারপরও আমি বলছি নতুন ভ্রমনকারীরা কিভাবে অল্প খরচে গ্যান্টিং হাইল্যান্ড ঘুরে আসতে পারেন।
প্রথমে সকাল-সকাল নাস্তা সেরে সোজা চলে যান এল.এর.টি ষ্টেশন, যেখানেই থাকুন এল.আর.টিতে চড়ে চলে আসুন কে.এল. সেন্ট্রাল ষ্টেশন। কারন গ্যান্টিং হাইল্যান্ড যাওয়ার বাস পাবেন এখান থেকেই (যদিও তিতিওয়ান্সা ও অন্যান্য বাস ষ্টেশন থেকেও বাস পাওয়া যায়, তথাপি নতুনদের জন্য কে.এল সেন্ট্রালই সবচেয়ে সহজ এবং কম ঝামেলাপূর্ণ।) এবার টিকিট কেটে সোজা উঠে পড়ুন গ্যান্টিং হাইল্যান্ড এর বাসে (৬.৬০-৭.৫০ রিংগিত), এক ঘন্টার কিছু বেশী সময় আকা-বাকা পাহাড়ী রাস্তায় ঘুরতে-ঘুরতে আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে যাতে থাকুন গ্যান্টিং হাইল্যান্ড এর পথে, এরপর বাস এসে থামবে ক্যাবল কার ষ্টেশনে, যেটা গ্যান্টিং স্কাইওয়ে নামে পরিচিত। আস্তে আস্তে লাইন ধরে এগিয়ে গিয়ে ক্যাবল কারের টিকিট কেটে ফেলুন (১ ওয়ে টিকিট কাটলে ৪ রিংগিত, আর রিটার্ন টিকিট কাটলে ৭ রিংগিত), এবার আপনাকে দড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে টেনে উপরে ওঠান হবে, ৩.৩৮ কিঃমিঃ এই দড়ি বেয়ে আপনাকে ওপরে উঠতে ১০-১২ মিনিট সময় লাগতে পারে, এই সময়টাতে আপনি নানা রকমের জীব-জন্তু এবং হরেক রকমের গাছ-গাছালি দেখতে দেখতে উপরে উঠতে থাকুন।
একে বারে উপরে উঠে গেলে সেখানে আছে ইনডোর এবং আউটডোর পার্ক, ইনডোর পার্ক খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত, আর আউটডোর পার্ক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাতের ১০টা পর্যন্ত (ছুটির দিনে ৮টা -৮টা) এই পার্কগুলোতে আছে শুকনা আর ভেজা মিলিয়ে বেশ কয়েকটা রাইড (২০-২২টা), রাইডগুলোর উপর নির্ভর করে এর টিকিট ১০,১৫,২০ রিংগিত দাম হতে পারে।
এছাড়াই ফার্স্ট ওয়াল্ড প্লাজায় রয়েছে সুদৃশ্য শপিং মল, ইচ্ছা করলে টুকিটাকি কিনতেও পারেন (তবে দাম মাশাল্লাহ গ্যন্টিং এর মতই উচু),
রয়েছে ক্যসিনো, এই বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, হরেক রকমের খেলা আছে, এখানে প্রতিদিনই অনেকে রাজা-উজির বনছে, আবার অনেক রাজা-উজির মরছে, ঢুকতে চাইলে ঢুকতে পারেন, কোন টিকিট লাগেনা, ফ্রি এন্ট্রি, তবে আপনাকে অবশ্যই লংস্লিভ শার্ট পরা থাকতে হবে, আর স্যান্ডেল পরেতো ঢোকা যাবেই না বয়সও ২১ উর্ধ হওয়া চাই, এখানে মুসলমানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবে সেটা লোকাল মুসলিমদের জন্য, ফরিনার এই আওতায় নাই।
তবে গ্যান্টিং হাইল্যান্ডএর আসল মজা পেতে হলে বেরিয়ে আসুন ফার্ষ্ট ওয়াল্ডের বাইরে, কনকনে ঠান্ডা, অনেকটা দার্জিলিং বা ভূটানে যেই ঠান্ডা, সেটা। অন্ত্যত এই জায়গার জন্য আপনাকে কষ্ট করে গরম কাপড় নিয়ে আসতে হবে। পূবদিকে পাথরের মত কিছু জায়গা রয়েছে, ওটার পাশে দাড়িয়ে আশপাশের এবং নিচের ভাল ভিউ দেখা যায়। আর ঐ পাথেরের উপর বসে একটা সিগারেট ধরালে আরো ভালো লাগবে (ব্যাক্তিগত মতামত)।
খাওয়া-দাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে হরেক রকমের খাবার, মালয়ী, চাইনীজ, ওয়েষ্টার্ন খাবার। রূচী এবং সাধ্যমত খেয়ে নিন, খাওয়ার পর আবার ঘুরতে থাকুন, দেখতে থাকুন, ছবি তুলতে থাকুন

সামনে আসছে আরো..............
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×