(আত্নপক্ষ সমথর্ন- এই ভাষ্যটি একটি কৃতজ্ঞতানামা, আর এই ভাষ্যটির পাত্র-পাত্রীর নাম নির্বাচনে ইচক দুয়েন্দেকে অনুসরন করা হয়েছে )
আজ কী বার বা কত তারিখ সানিক মাহান খুব করে মনে করবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারলো না। সে ভাবতে পছন্দ করছে আজ তার জন্য খুব আনন্দের দিন। এমন দিন সহজে আসে না, কালে-ভদ্রে কারো কারো কপালে মেলে। সে এই দিনটি উদযাপনের জন্য দিনমান ভাবতে থাকলো। অপেক্ষার পালা শেষ করে দৌতাস সিনজিনা যখন সানিক মাহানের চোখের আওতায় আসলো, সানিক মাহান তাকে প্রথম কয়েক সেকেন্ড বুঝতে পারে নি, দৌতাস সিনজিনা হেসে ফেলতেই সে ধড়ে প্রাণ ফিরে পায়। পূর্ব সিদ্ধান্তের নীতি মান্য করে তারা দুইজন পুস্তকের ঘ্রান শুকবার মনবাসনায় আড়ংয়ে প্রবেশ করে। তারা পরস্পর কিয়দক্ষণ পুস্তকের ঘ্রাণ বিনিময় করে বেরিয়ে আসে।
কিছুক্ষণ পর- রাস্তায় গাঁ বাচিয়ে, গর্তে পা না ফেলবার সতর্কতা নিয়ে মোল্লার চা পান করে দুইজনে, এই ফাঁকে তারা মুঠো ফোনে আগমন ও বহির্গমন কথাবার্তায় আলাপচারিতা করে নিজেদের স্বচ্ছন্দ্যে রাখে। তারপর সুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ে জনারন্যে। সানিক মাহান দৌতাস সিনজিনাকে এক এক করে চিনিয়ে দেয়- এই হচ্ছে ময়ূর ঘর; এইখানে মানুষেরা মদ্যপান করে, এই হচ্ছে ফল বাগানের ঢাল; এইখানে একদিন তুমুল বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম। তারা হাসতে হাসতে একে অপরকে খুশি রাখবার চেষ্টা করে। অতঃপর রাত্রি গাঢ় হতে শুরু করলে সানিক মাহান দৌতাস সিনজিনাকে তার ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসে। দৌতাস সিনজিনা হাত নেড়ে বাই বাই জানায়, হেসে হেসে বলে ভালো থাকবেন সানিক মাহান ভাই, আবার দেখা হবে। তারা একেঅপরের ভালো থাকবার কামনা করে পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নেয়।
সানিক মাহান চোখে আনন্দ আর বুকে ব্যাথা নিয়ে ফিরে আসে তার আনন্দ-বেদনার আখড়ায়। আখড়াবাসীদের কাউকে কিছু না বুঝতে দিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে ভার্চুয়াল জগতে। স্পেস সমেত আট হাজার একশত বিরানব্বইবার একটানা কম্পিউটারের অক্ষরমালা চাপ দিয়েও নিজেকে বুঝতে সে সক্ষম হলো না। এঘর-ওঘর ঘুরে খোমাপুস্তকে স্ট্যাটাস লিখতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। সে দাবী করছে তার বনসাইটি বড় হতে শুরু করেছে। সানিক মাহানের প্রাণ ভোমরা সেই বনসাইটি বাড়তে থাকলে সে নিজেকে আর খুঁজে পায় না। অন্যদিকে ভার্চুয়াল যোগসুত্রতায় ভাষাগত দৈনতার কারণে দৌতাস সিনজিনা জানতে পারলো না সানিক মাহানের নিজেকে হারিয়ে ফেলবার ঘটনা। ।
মধ্যরাতে হোটেলের ঠাণ্ডা ভাত আর মৃত মাছের ঝোল পার্সেল নিয়ে ঘরে ফিরে টমেটোর সালাদ বানিয়ে চোখ ভর্তি জল নিয়ে ভাত খেতে বসে সানিক মাহান। এক লোকমা ভাত মুখে পুরে আবিষ্কার করে রটেন টমেটো আসলে কী বস্তু। ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের তাগিতে চোখের জল মিশ্রিত অন্ন খেয়ে সানিক মাহান ঘুমাতে যায়। পরেরদিন প্রতিবেশীরা তার পেটের গুড়গুড় শব্দ শুনে জিগ্যেস করে- তোর পেটে কথা জমে আছে! ঝেড়ে ফেল, আখেরে ফল লাভ করবি। কী করা উচিৎ সানিক মাহান বুঝে উঠতে পারে না। পাড়াপড়শিরা অবশেষে এই মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, সানিক মাহান প্রেমে পড়েছে অতএব সানিক মাহান গন কেস।
সানিক মাহান সারাটা দিন ভাবতে থাকে গতরাতের রটেন টমেটো আর চোখের জলের খোঁজ আখড়াবাসী আর প্রতিবেশীরা জেনে গেল কেমনে! কালে-ভদ্রে পাওয়া দিনটা তার কোনো কাজেই আসলো না !! তাতে কী, একুশ শতকে মহান নাজিম হিকমাতের আশংকা মিথ্যা হয়ে যাক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


