তিন
আমার জানা মতে একজন দরিদ্র বাবার সন্তান গ্রামের (আধা গ্রাম) স্কুল থেকে এস এস সি এবং এইচ এস সি উভয় পরীক্ষাতে এ + পেয়েছিল।
পরিবারটি তো দারুন খুশী। ছেলেটির ক্লাশে তেমন কোন পজিশন ছিল না। যাই হোক দরিদ্র অশিক্ষিত বাবার পুত্র সন্তান বিজ্ঞান বিভাগ হতে ডবল এ+। কম কথা নহে।।
ছেলেটি এবার ডাক্তার হবে। এই সুখচিন্তায় বাবার দিন কাটছে। ছেলেটি মেডিক্যাল থেকে শুরু করে তার আওতার মধ্যে পড়ে যতগুলো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ও দিল। কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ হলো না। এখন তো মান সম্মান আর থাকে না। ছেলে ডাক্তার না হোক ইজ্ঞিনিয়ার তো হবে। তবুও তো মান থাকে?
সব দ্বার যখন বন্ধ তখন তো একটি দুয়ার খোলা। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এরই অপেক্ষা করে বসে আছে। অমনি ছেলেটি টপ গিললো।
সেখানে সে ইলেক্ট্রিক্যাল ইজ্ঞিনিয়ারিং সাবজেক্ট পেয়ে গেল। বাবা আর পরিবারে সকলে খুব খুশী। চৌদ্দ পুরুষের মধ্যে এবার একজন শুধু শিক্ষিতই না, একবারে ইজ্ঞিনিয়ার। তাও আবার ইলেক্ট্রিক্যাল্।
বাবা দুই সন্তানের পড়ার খরচ চালাতে পারবেন না বলে তাড়াতাড়ি করে পরের মেয়ে সন্তানটি লেখাপড়ায় ভালো হওয়া সত্বেও যৌতুক বিহীন পাত্র পেয়ে বিয়ে দিয়ে দিলেন।
বাবা বেচারী বিভিন্ন খাত থেকে ধার করে আর ছেলেটির টাকা পাঠায়। ছেলেটি যে টিউশনি করে দুপয়সা রোজগার করবে এ সাহস তার নেই। সে নাইন টেনের অংক করাতে পারে না। এর চেয়ে ছোট ক্লাশ পড়ালে আবার ইজ্ঞিনিয়ারের মান সম্মান থাকে না।
বাবা তো স্বপ্নে বিভোর। ছেলে পাশ করে বড় ইজ্ঞিনিয়ার হবে। লাখ লাখ টাকা আনবে। সব ধার দেনা শোধ হয়ে যাবে। এই আশাতে দিনের পর দিন বিভিন্ন সমিতি থেকে টাকা ধার করতে লগলো। ছেলে তো পাশ করলো কোনরকম গ্রেড পেয়ে সে ইজ্ঞিনিয়ার হলো্।
বাবা হিসাব করে দেখেন তার ১২ লাক টাকা দেনা আছে। সে ভিটে বাড়ী বেচে দেনা শোধ করলো।
ছেলেটি রেজাল্ট খারাপ করাই চাকরীর আবেদনই করতে পারে না। শেষে কোন রকমে একটি বেসরকারী সংস্থায় মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে একটা চাকরী হলো্।
ছেলেটি কি পারবে এই ১০ হাজার টাকায় খেয়ে পড়ে বাবার ভিটে বাড়িটি পুন:স্থাপন করতে?(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৫ সকাল ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




