somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি ও কিছু কথা

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারী ০৮ । আজ থেকে ১৭ বৎসর ১৯৯১ সালের এদিনে কেয়ারটেকার সরকারের অধীণে শান্তিপূর্ণ ভাবে বাংলাদেশের ৫ম জাতীয় সংসদ িনর্বাচনঅনুষ্ঠিত হয় । এ কেয়ারটেকার সরকার কনসেপ্ট নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন, কেউ বলেছেন এটি বাতিল করতে হবে । আবার কেউ বলেছেন পরিবর্তন করতে হবে । সবগুলোর সাথেই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একমত, তবে তার আগে যারা তার প্রয়োগ ঘটাবে তাদের আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে । কেয়ারটেকার কনসেপ্টটি যেভাবে প্রস্তাবনায় এসেছিল সেভাবেই পাশ হলে মনে হয় আজ এত বিতর্কের জম্ম দিত না । ১৯৮০ সালের শুরুতেই তৎকালীন জামায়াতের আমীর গোলাম আযম এটি নিয়ে প্রথম চিন্তা করে একটি ফর্মুলা দ্বার করান । ১৯৮০সালের জানুয়ারী মাসে জামায়াতের কর্মপরিষদে বিস্তর আলোচনা শেষে প্রস্তাবনাটি সম্পূর্ণরুপে পাশ হলে ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর রমনা গ্রীনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত আকারে তৎকালীন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান পেশ করেন । পুরো প্রস্তাবনাটি হলো :-
১. সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত প্রধান বিচারপতি কেয়ারটেকার সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন । বিচারপতি হিসেবে বহু দিন কর্মরত থাকার পরই যথেষ্ট সিনিয়র ব্যক্তিই প্রধান বিচারপতি হন । এতে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মধ্যে উচ্চমানের জুডিশিয়াল মাইন্ড গড়ে উঠে । বিচারপতি হওয়ার পূর্বে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক থেকে থাকলেওএর প্রভাব তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকার কথা নয় । দীর্ঘকাল বিচারের এজলাসে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার প্রভাবই প্রাধান্য পায় । নির্বাচন পরবর্তী সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বিধায় অবসর প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কর্মরত প্রধান বিচারপতির মতো নিরপেক্ষ নাও হতে পারেন । কিন্তু কর্মরত প্রধান বিচারপতি পরবর্তী সরকার গঠনের পর পূর্বের দায়িত্বে ফিরে যাবেন বলে তার মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ সৃষ্টির কোন আশংকা থাকেনা । এ বিবেচনায় কর্মরত প্রধান বিচারপতিই নিরপেক্ষতার দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা অধীক উপযোগী । তাই প্রেসিডেন্ট কর্মরত প্রধান বিচারপতিকে কেয়ারটেকার সরকার প্রধান নিয়োগ করবেন ।
২. প্রধান বিচারপতি কেয়ারটেকার সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার আদলে অরাজনৈতিক ও টেকনোত্ক্র্যাট দল-নিরপেক্ষ লোকদের সমন্বয়ে তার সরকার পরিচালনার জন্য একটি যোগ্যটিম মনোনিত করবেন । তার সুপারিশে প্রেসিডেন্ট তাদের নিয়োগ করবেন । এ টিমের কোন ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
৩. সরকার প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন ।
৪. নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কেয়ারটেকার সরকার যাবতীয় বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে পারবেন । সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ সরকারের সকল নির্দেশ পালন করতে বাধ্য থাকবেন ।
৫. কেয়ারটেকার সরকারকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফলতা অর্জন করার জন্য প্রেসিডেন্ট সার্বিক সহযোগিতা করবেন ।
পরবর্তিতে ১৯৮৩ সালের ২০ নভেম্বর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ চত্বরে জামায়াতের জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব হিসেবে কেয়াটেকার সরকারের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানান । তখন গণতন্ত্র বহালে সবাই ব্যাস্ত থাকায় কেউ এটিকে বেশী গুরুত্ব দেন নাই । কিন্তু জামায়াত ধারাবাহিকভাবেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি কেয়ারটেকার ফর্মুলা গণদাবী করার জণ্য আন্দোলন চালিয়ে যায় ১৯৮৪সালের এপ্রিল মাসে সরকারের সাথে সংলাপের সময়ে কেয়ারটেকার সরকারের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী এ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । সারা প্ৃথিবী থেকে সাধুবাদ জানানো হল । সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশের জন্য ভাল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফর্মুলাটি জামায়াতই প্রথম দিয়েছে । আজ সেটি সংবিধানে আসীন হয়েছে । উল্টা-পাল্টা মন্তব্য নিস্পয়োজন । গঠন মূলক সমালোচনা গ্রহণীয় ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×