somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৈরশাসক হিসেবে জাতীয় নেতা এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ

২৪ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ২৪ মার্চ, বাংগালী জাতীর ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন । আমাদের জাতীয় নেতারা বার বার সংবিধান রক্ষার কথা বলে সংবিধান যে লংঘন করেছিলেন সে ধরণের একজন হচ্ছেন আমাদের কিংবদন্তী মহা পুরুষ হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ । েসদিন যা ঘটেছিল ১৯৮১ সালে জিযার মৃত্যুর পর আব্দুস সাত্তার খান দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেণ । ক্ষমতা গ্রহণটা সেনা প্রধান এরশােদর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলনা । আবার এ মূহুর্তেই ক্ষমতা কেড়ে নিলে জিয়ার হত্যাকারী হিসেবে নাম চলে আসতে পারে বিধায় মন না চাইলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হলো এরশাদ চাচাকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য । এদিকে তিনি বিভিন্ন জায়গায় প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র যথাযথভাবে চালাতে পারছেননা বলে প্রচার করতে লাগলেন । অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলে তিনি তার কিছু বিভ্রান্ত সহযোগী নিয়ে রাষ্ট্রভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রস্তাব দিল ক্ষমতা তাকে দিয়ে তিনি স সম্মানে তার স্থানে ফিরে যেতে । প্রেসিডেন্ট সংবিধানের দিকে তাকিয়ে দেশের কল্যানার্থে এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করলে সাথে সাথেই এরশাদের হাতে পিস্তল চলে আসে এবং বলতে থাকেন আর কিছু দিন বাচার আকাংখা থাকলে এবং ছেলে-মেয়েদের প্রতি ভালবাসা থাকলে এ কাগজে স্বাক্ষর করুণ । স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলে অস্রের মুখে জোর পূর্বক তিনি বলতে বাধ্য হলেন যেহেতু আমার বয়স হয়ে গেছে এবং দেশের আইন-শৃংখলার অবস্থা বেশি ভাল নয় তাই আমি দেশের কল্যাণ কামনায় স্ গ্যানে আমার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করছি । এবং এখন থেকে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দেশ পরিচালনা করিবেন । ক্ষমতা গ্রহণ করেই তিনি জাতির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ভাষন প্রদান করেন । সেখানে তিনি স্পস্ট মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলে ফেললেন রাষ্ট্রপতির একান্ত অনুরোধে দেশের আইন শৃংখলা রক্ষার্থে তিনি ক্ষমতা গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন । অল্প দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে তিনি তার পদে ফিরে যাবেণ । কিন্তু বাস্তবে হলো তার উল্টো । দেশের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে আনতে তার ৯ (নয়) লেগে গিয়েছিল । ক্ষমতা গ্রহনের পর তিনি ঠান্ডা মাথায় শহীদ মত একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে ১৯৮৬ সালে তিনি রাষ্ট্র পধান পদে বহাল থেকেই নির্বাচন দিলেন । এরপর নির্বাচনের ফলাফল যা হবার কথা তা -ই হলো । নির্বাচনে চাচাজি বিপুল ভোটে জয়ী হলেন । কারণ না হয়েতো উপায় নেই তিনি ছাড়া বা তার দল ছাড়া আর নির্বাচন করেছিল সে সময় শুধু আওয়ামীলগি । তা ও আবার তারা নির্বাচন করেছিল শুধূ রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য । সে যাই হোক নির্বাচনে যেহেতু চাচাজি বিপুলভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তা-ই ক্ষমতা কেড়ে নেয় সাধ্য কার । এভাবে দীর্ঘ নয়টি বৎসর আন্দোলন ও সয়গ্রমের পর অসংখ্য ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রন্জিত হওয়ারপর এরশাদ চাচা উপায়ন্তর না দেখে ১৯৯০ সালের ৬ ই ডিসেম্বর পদত্যাগ করেণ । একটি স্বৈরশোসকের হাত থেকে দেশ মুক্তি পেয়ে হাফ ছেড়ে বাচে । এখন আবার মনে হচ্ছে দেশ সে দিকেই অগ্রসর হচ্ছে । আমাদের সেনা প্রধান এখনো ভলোর পরিচয়ই পেশ করেছেন কিন্তু যদি দেশে অস্তিতিকর পরিদবশের সৃষ্টি হয় তবে অতিতের পুনরাবৃতি ঘটা অবাস্তবতার কিছু দেখিনা । এমনটি হলে গণতন্ত্র থমকে দাড়াবে । দেশের উন্নতির পথে বাধা পড়বে ।সারা পৃথিবী থেকে ধিক্কার আসবে । দেশের অবস্থা আরো পিছনে চলে যাবে । সমূহ দূর্ভীক্ষের কবলে পড়ার সম্ভাবনা আছে । তাই যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে দেশের আপামর জনতা এ নার্ভিশ্বাষ থেকে উত্তরণের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করছি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×