বুক আশা আর ভরসা নিয়ে আমাদের দেশের সাহসী সৈনিকেরা দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানী যুলুমবাজদের হাত থেকে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলেন । কিন্তু কিছু তথাকথিত নেতাদের ব্যাক্তিগত অভিলাষ পূরণ করতে গিয়ে আজ আমরা স্বাধীনতার ৩৬ বৎসর পরে ও স্বাধীনতার সত্যিকার স্বাদ খুজে পাইনি । যখন দেখি ১২ বৎসরের কোন সুন্দরী নাবালক মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছে , ৭০ বৎসরের বৃদ্ধ মহিলাও এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না, দিনে-দুপুরে ডাকাতি হচ্ছে, ছিনতাই করে সর্বস্ব নিয়ে যাচ্ছে, দিনে-দুপুরে একজন জীবন্ত মানুষকে কেটে টুকরো টুকরো করে রাস্তায় ফেলে চলে যাচ্ছে, যৌতুকের কারণে কোন নতুন বৌকে আত্নহত্যা করতে হচ্ছে তখন কেন আপনা-ই মনে প্রশ্ন জাগে এ-ই কি স্বাধীনতা ?। এ স্বাধীনতার জন্য নিশ্চয়ই আমাদের বাপ-চাচারা যুদ্ধের পোষাক পরে জীবন বাজী রেখে ঝাপিয়ে পড়েনি । তারা চেয়েছিল শোষন-নির্যাতনমুক্ত একটি সূখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ । আমরা কি আজো তা পেয়েছি ? জবাব না ! কিন্তু কেন এমনটি হলো? তাই বলার চেষ্টা করবো :-বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান দেশে আসার পর গণপরিষদ ডেকে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি সংবিধান প্রনয়ন কমিটি ঘোষনা করেণ । এ কমিটি ভারত, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ আরো কিছু দেশ ঘুরে একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান রচনা করে ১৯৭২ সালের ১২ ই এপ্রিল গণপরিষদে পেশ করেন । অনেক আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর এটি গণপরিষদে পাশ হয় । এবং ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭২ সাল থেকে আমাদের এ সংবিধানের কার্যক্রম শুরু হয় । আমাদের সংবিধানের একটি গুরুত্ব পূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বোচ্চ ফোরাম বা মাধ্যম । রাষ্ট্রের সকল বিভাগ পরিচালনায় সংবিধানই প্রধান বলে বিবেচিত হবে । যাকে বলে সাংবিধানিক প্রাধান্য রাষ্ট্র বা সরকার । কিন্তু আমাদের জাতীয় নেতারা সংবিধান কে নিজস্ব স্বার্থে কতবার পরিবর্তন করেছেন তাই আসম দেখানোর চেষ্টা করবো । প্রথম সংশোধনী ১৯৭৩ সালেই আনা হয় বিষয় হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । দ্বিতীয় সংশোধনী ১৯৭৩ সালেই বিষয় জরুরী অবস্থা জারী । শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন যে আইনের বিরোধীতা করেছেন ক্ষমতা গ্রহণ করেই তিনিই সবার আগে এ কালো আইন বাস্তবায়েন অগ্রণী ভূমিকা রাখলেন । তৃতীয় সংশোধনী ১৯৭৪ সালের ১৬ ই মে বাংলাদেশ - ভারতের সীমানা বিরোধ নিয়ে এটি রচিত হয় । এ চুক্তির আলোকে দক্ষিন তালপট্টি দ্বীপ আজীবন ভারতের দখলে চলে গেলো । চতুর্থ সংশোধনী ১৯৭৫সালের ১৪ই এপ্রিল শেখ মুজিব নিজেকে আজীবন ক্ষমতার মসনদে রাখার স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করে এক নেতার এক দেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ এ শ্লোগান কার্যকর করার যাবতীয় ব্যাবস্থা চূড়ান্ত করেন । অসাংবিধানিকভাবে নির্বাচন ছাড়াই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মর্যাদা দেয়া হলো ।সকল দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হলো ।দৈনিক ইত্তেফাক ,বাংলাদেশ সংবাদ, The Bangladesh Times, and Observer gcgd চারটি রেখে সকল সংবাদ পত্রের নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলো । আরো জঘন্য আইন করা হলো সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ও অপসারণ শুধু মাত্র রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল করা হলো । এক অধিবেশন থেকে আর এক অধিবেশনের দূরত্ব ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হলো যাতে গুরুত্ব পূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ইচ্ছাধীন করতে পারেন । রাষ্ট্রপতির অভিশংসন কঠিন করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের উপরে স্থান দেয়া হলো । তাকে অভিশংসন করার প্রস্তাব আনতে দুই তৃতীয়াংশের এবং তা পাশ করতে তিন চতুর্থাংশের অনুমোদন লাগবে । অথচ সংবিধান সংশোধন করতে প্রয়োজন দুই তৃতীয়াংশের ভোট । সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকার সীমাবদ্ধতা উঠিয়ে দেয়া হলো । চলবে --------
বাংলাদেশের সংবিধান ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা । প্রথম পর্ব
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।