প্রাইমেরী স্কুলে আমাদের সাথে বিল্লাম নামে এক ছেলে ছিল, ওকে আমরা কেউ কেউ বিলু ডাকতুম আবার কেউ বিলাই ডাকতুম, ভেজা বেড়ালও কেউ ডাকতো । বিল্লালের বাবা কামার ছিল , নানা লোহা দিয়ে তাদের কাজ কারবার, অন্যর অধীনে কাজ করতো ওর বাবা । বিল্লাল বেশিদুর আর পড়েনি -ওর বাবার মতই ও কামার হলো ।
এক সময় ওর সাথে আমার দুস্তি হয়ে গেছিলো -তবে আমিও ওকে বিড়াল ডাকতুম । বিল্লালরা অনেক গরবী ছিল , স্কুলে যাবার পথে ওকে বাসা থেকে নিয়ে যেতুম ।বিলুরা সব -সময় কচুর মোথা খেত , কোনদিন আলুর ঝোল দিয়ে ভাত খেত । ঈদ আসলে শুধু একবেলা মাংস খেত, পাড়ার গেরস্ত বাড়ির কেউ মারা গেলে বিলু খুব খুশি হতো -বিনে দাওয়াতে চল্লিশা খেতে যাবে বলে । বিলুদের ঘর ছনের ছিল, বৃষ্টি আসলে ঘরে জল পড়তো । বিলুদের কোন টয়লেট ছিল না , ওরা হাগতে বাড়ির পিছে বাশঁঝাড়ে যেত । বিলুদের কোনপুকুর ছিল না ওরা অন্যর পুকুর স্নান করতে যেত । বিলুদের কিছুই ছিল । বিলু কখনো স্নানের সময় সবান মাখতো না , ওর শরীর কালসেটে ছিল নখদিয়ে টানদিলে শরীরে মাটির মত শাদা দাগ হতো । শুনিচি বিলুর দাদারা অন্যর জমিতে কাজ করতো, কামলা খাটতো ওদের নিজেদেরও কোন জমি ছিল না খাসের জমিতে থাকতো । বিলুর দাতঁ সব সময় হলুদ থাকতো, ওরা রান্নার চুলোর ছাই দিয়ে দাতঁ মাজতো । বিলুর বড়দা পাগল টাইপের ছিল, ভালো করে কথা বলতে পারতো না । বিলুর বাবা বিলুর মাকে অনেক পেটাতো, বিলুর মার মুখ অনেক খারাপ ছিল তার স্বামীকে নানা বাজেঁ ভাষায় গালি দিত । বিলুরা কোনদিন সুখি ছিল না, ওরা কোনদিন সুখি থাকবে না ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




